ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

৩৫৮ কোটি টাকার লাগেজ ভ্যান নিয়ে বিপাকে রেল


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ১-৪-২০২৬ রাত ১১:৪৮
রেলে কম খরচে পণ্য পরিবহনের জন্য চীন থেকে আমদানি করা ৩৫৮ কোটি টাকার ১২৫টি লাগেজ ভ্যান নিয়ে বিপাকে পড়েছে রেলওয়ে। পরিবহনের জন্য চাহিদা মোতাবেক পণ্য না পাওয়ায় এসব ভ্যান ব্যবহার করতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে এখন বিভিন্ন ইয়ার্ডে অলস পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার প্রহর গুনছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এসব মুল্যবান সম্পদ। ব্যাসায়ীদের সাথে আলেচানা, পণ্যের চাহিদা ও বাস্তবতা বিবেচনা না করে শুধুমাত্র কমিশনের লোভে ব্যক্তিস্বার্থে এসব ভ্যান আমদানি করে সরকারী অর্থের অপচয় করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
জানা যায়, কম খরচে পণ্য পরিবহনের কথা চিন্তা করে ২০২০ সালের ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনার জন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে ৩৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চীন থেকে দেশে আসে। আমদানি করা ভ্যানের মধ্যে ৭৫টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ। এর মধ্যে রয়েছে ২৫টি ফ্রিজিং লাগেজ। সেই সময় ৮ থেকে ১০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিটি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান ৩ কোটি ৫ লাখ এবং মিটারগেজ ভ্যানের দাম ধরা হয় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর আগে পুরনো ৫০টি লাগেজ ভ্যান থাকলেও ৩২টিই ছিল অচল। পণ্য পরিবহনে চাহিদা থাকলে নতুন করে আমদানি করার আগে পুরোনোগুলো মেরামত করে চালানো যেত। তবে তা না করেই সরকারের বিশাল অংকের টাকা গচ্চা দিয়েছে কতিপয় লোভী আমলা ও কর্মকর্তারা।
এবিষয়ে চট্টগ্রামের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূইঞা বলেন, প্রকল্পটি নেওয়ার সময় ধারণা করা হয়েছিল পচনশীল পণ্য পরিবহনে ব্যাপক সাড়া ফেলবে ফ্রিজিং লাগেজ ভ্যান কিন্তু বাস্তবতায় সেটি হয়নি। পরিবহনের জন্য পণ্য না থাকায় এগুলো ব্যবহার করার প্রয়োজন হচ্ছে না। বিভিন্ন ইয়ার্ডে অলস পড়ে আছে অনেকগুলো। তবে পচনশীল পন্য ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে পার্টি পাওয়া গেলে তা চালানো যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে রেলের বিভিন্ন স্থাপনা, নতুন লাইন নির্মাণ, বিতর্কিত ডেমু ট্রেন, ও কোচ কেনায় প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। কিন্তু ইঞ্জিন/লোকোমোটিভের প্রচুর সংকট থাকা সত্ত্বেও সেই খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এমনকি খুচরা যন্ত্রাংশ কেনাকাটায়ও ছিল গাফিলতি। ফলে ২০২৪ সাল থেকে ইঞ্জিন সংকের কারণে ব্যাপক সিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে রেলওয়ে। এরফলে একদিকে যেমন বাড়তে থাকে ভূর্তুকির পরিমান অন্যদিকে যাত্রীদের আস্থা হারাতে থাকে সরকারি এই সেবা সংস্থাটি। ইঞ্জিন সংকটে যেখানে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয় সেখানে এই সমস্যার সমাধান না করে কোন যুক্তিতে অপ্রয়োজনীয় খরচে লাগেজ ভ্যান কেনা হলো, তাতে কার কার স্বার্থ রক্ষা হলো তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
অনেক পরিমান লাগেজ ভ্যান অলস পড়ে থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ রেলওয়ের অপারেশনের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি,অপা.) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে পণ্য পরিবহন অনেক কম, স্বল্প দুরত্বে যেসব ট্রেন চলতো সেগুলোতে পরিবহনের জন্য পণ্য পাওয়া যেত, কিন্তু ইঞ্জিন সংকটের কারণে বর্তমানে অনেকগুলো ট্রেন বন্ধ রয়েছে। ফলে লাগেজ ভ্যান তেমন একটা কাজে আসছে না। বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন ট্র্যান্সপোর্ট কোম্পানীর সুবিধা নিয়ে থাকেন, আবার অনেকের নিজস্ব পরিবহন থাকে ফলে বিভাগীয় শহরে পণ্য পরিবহণে যথেষ্ট পার্টি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক ভ্যান অলস পড়ে আছে। তবে ইঞ্জিন সংকটে বন্ধ হয়ে থাকা লোকাল ট্রেনগুলো চালু করতে পারলে কিছু ভ্যান হয়তো কাজে লাগতে পারে।
 সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, প্রয়োজন নেই জেনেও লাভ দেখিয়ে রেলওয়ের সেই সময়কার কিছু কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের যোগসাজশে প্রকল্প নিয়ে সরকারের বিপুল টাকা ব্যয় করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ৩৫৮ কোটি টাকার লাগেজ ভ্যান, সাড়ে ৬শ কোটি টাকার ডেমু ছাড়াও অপ্রয়োজনীয় স্থাপনা রয়েছে অনেক। 
এশিয়ান ক্লিন এনার্জি ফান্ডের অধীনে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অনুদানে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং অপারেশন উন্নয়ন কারিগরি সহায়তা প্রকল্প’র আওতায় ৪০টি ব্রডগেজ (পশ্চিমাঞ্চলের জন্য) লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন), ৭৫টি মিটারগেজ লাগেজ ভ্যান এবং ৫০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান সংগ্রহের পরিকল্পনা ও এক হাজার ওয়াগন কিনতে ‘রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন’ প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) ছিলেন আমজাদ হোসেন। দরপত্র ও ক্রয়চুক্তির সময় ডিজি ছিলেন শামসুজ্জামান। এডিবির ঋণে ২০০ মিটারগেজ বগি ক্রয় প্রকল্পে দরপত্রের শর্ত শিথিল করে ইন্দোনেশিয়ান প্রতিষ্ঠান পিটি ইনকাকে কাজ পাইয়ে দেওয়াসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দুই ডিজি বর্তমানে অবসরে আছেন। 
৩ হাজার ৬০২ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত প্রকল্পে (২০১৭-২০২৫ মেয়াদ) মূলত আধুনিক, নিরাপদ ও গুণগত মানসম্মত রেলবহর তৈরির কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে পূর্বাঞ্চলের জন্য মিটারগেজ ইঞ্জিনের সংকটকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। ফলে আজকের এই ভোগান্তী।  
এবিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্যজোটের মুখপাত্র এডভোকেট এম. আর. মনজু বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কতিপয় লোভী আমলা ও অফিসারের যোগসাজসে কমিশন বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত লাভের আশায় কিছু প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারের অর্থ অপচয় করা হয়েছে। এটিও এমন একটি প্রকল্প। এতে প্রতিষ্ঠানের কোন লাভ হয়নি বরং দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে বলে মনে করছি। এসব প্রকল্পে যারা জড়িৎ তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী,  পরবর্তীতে এমন প্রকল্প নেওয়ার আগে যেন এটার কথা মনে পরে। আর মার্কেটিং জোরদার করে এগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।

এমএসএম / এমএসএম

৩৫৮ কোটি টাকার লাগেজ ভ্যান নিয়ে বিপাকে রেল

শেরপুরের শ্রীবরদীতে ট্রাংকের ভিতর থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

মহানবীকে কটূক্তির প্রতিবাদে রাণীশংকৈলে বিক্ষোভ-মিছিল

জয়পুরহাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

বগুড়ায় হামের উপসর্গে ১০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোণার সদর উপজেলায় ঝড় তুফানে বাড়িঘরসহ গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি

বাবুগঞ্জে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ: ব্যবসায়ীকে জরিমানা, তেল জব্দ

আত্রাইয়ে বেকারদের স্বাবলম্বী করতে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

মধুখালিতে চকলেট কিনতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে যমজ ২ শিশুর মৃত্যু

কুড়িগ্রামে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বৃক্ষ রোপণ কর্মসুচির উদ্বোধন

হোমনায় যুবককের কোমরে মিলল বিদেশী পিস্তল ও গুলি-ম্যাগাজিনসহ আটক

পবিপ্রবিতে ডিভিএম ডিগ্রি পুনর্বহালের দাবিতে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের সপ্তম দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় পৃথক চার স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত