ইউরোপের দেশে হওয়া ভ্যানিলা ফলের চাষ এখন চৌগাছায় প্রতি কেজি ফলের দাম ৫০ হাজার টাকা
ইউরোপের দেশ গুলোতে চাষ হওয়া মূল্যবান ফল ভ্যানিলার চাষ এখন যশোরের চৌগাছায়। এই ফল প্রতি কেজি ৬ হাজার টাকা হতে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। অবসারপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সরোয়ার হোসেন সেই অসাধ্যকে সাধন করেছেন। প্রায় চার বছর ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষনের পর চলতি মৌসুমে তার গাছের ডোগায় গোগায় ফুটেছে ফুল, স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন এই উদ্যোক্তা। কোন দূর্যোগ দেখা না দিলে ভ্যানিলার বাম্পার ফলনের আশা করছেন সরোয়ার হোসেন।
উপজেলা জগদীশপুর ইউনিয়নের স্বর্পরাজপুর গ্রামের মৃত আনছার উদ্দিনের ছেলে সরোয়ার হোসেন। সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট সরোয়ার অবসরে এসেই নিজের জমিতে ড্রাগন, পেয়ারা, কুলসহ নানা ধরনের ফলের চাষ শুরু করেছেন। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভ্যানিলা ফল। ছায়া শীতল জায়গায় তিনি প্রায় চার বছর আগে ভ্যানিলার লতা রোপন করেন। এরপর তৈরী হয় গাছ, লতানো সেই গাছকে বাঁচিয়ে রাখতে চলে আপ্রান চেষ্টা। সরোয়ারের চেষ্টা বৃথা যায়নি। ইউরোপের ফল এখন সে বাংলার মাটিতে তৈরী করেছেন। বাংলাদেশে তার মত আরও দুই ব্যাক্তি পাশ্ববর্তী ঝিননাইদাহ জেলার মহেশপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলে একজন চাষ করছেন, তারা সকলেই সাফল্য পেয়েছেন। বাংলার মাটি সোনার চেয়েও যে খাটি তা আবারও প্রমাণ হলো।
গতকাল সকালে সরেজমিনে সরোয়ারের ভ্যানিলার ক্ষেতে যেয়ে দেখা গেছে, উদ্যোক্তা নিজ হাতেই গাছে ফুটে থাকা ফুলে পরাগায়ন করছেন। এরজন্য তিনি ইনজেকশনের সিরিন্স ও একটি সুচ ব্যবহার করছেন। এরমাধ্যমে ফুটে থাকা ফুলকে পরাগায়ন করা হয়।
এ সময় কথা হয় সরোয়ারের সাথে তিনি বলেন, ভ্যানিলা চাষ আমার স্বপ্ন বলাচলে। সেনাবাহিনীতে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন দেশে গিয়েছি। ইউরোপের দেশ গুলোতে প্রচুর পরিমানে ভ্যানিলার চাষ হয়, এটিকে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থকারী ফসল বলা হয়। তখন আমি স্বপ্ন দেখতে শুরু করি চাকরি শেষে ফ্যানিলাসহ ফলের চাষাবাদ করবো। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আজ আমি অনেকটাই সফল।
ভ্যানিলা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি লতানো ফলচাষ। বলাচলে বরবটি, সিম, পটলের মত। এর লতার এক একটি কাটিং ৫শ থেকে ৭ শ টাকায় ক্রয় করে তা রোপন করেছি। ভ্যানিলার কাটিং তিনি সুদুর মালায়েশিয়া থেকে নিয়ে এসেছিলেন। রোপনের পর চারটি বছর নিবিড় পর্যবেক্ষনের পর গত বছর অল্প কিছু ফল এসেছিলো, তবে এ বছর প্রতিটি ডগায় ডগায় ফুল এসেছে আশা করছি বাম্পার ফলনের। মুলত ভ্যানিলার চাষ হয় ইউরোপের দেশ গুলোতে। এরছাড়া চীন, থাইল্যান্ড, মালায়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং পাশ্ববর্তী ভারতের কিছু রাজ্যের পাহাড়ি এলাকতে ভ্যানিলার চাষ হচ্ছে। আমি ধন্য এই কারনে যে বিদেশের মাটিতে চাষ হওয়া আকাশ ছোয়া দামের একটি ফলের চাষ বাংলার মাটিতে করতে পেরেছি।
ভ্যানিলা মুলত বিদেশে উন্নত মানের কেক তৈরীতে ব্যাপক ব্যবহার হয়। এছাড়া পারফিউম, কসমেটিক্্র, ফার্মাসিটিক্যালে ব্যবহার হয়। ব্যাপক সুগন্ধি এই ফলের বহুবিধ গুনাবলির কারনে বিশ্বে এর চাহিদা তুঙ্গে। যার কারনে প্রকার ভেদে এর দাম আকাশচুম্বি।
সরোয়ার হোসেন বলেন, ভ্যানিলা চাষে ঝুকি আছে, কারণ এটি লাগানোর আগে মাটিতে ৭/৮ প্রকারের জিনিস যেমন কাঠের গুড়া, নারিকেলের ছোবলা, গাছ থেকে ঝরে পড়া শুকনা পাতাসহ নানা কিছু দিয়ে সয়েল প্রসেসিং করতে হয়, সেটি যদি সব দিক থেকে সঠিক না হলে চারা বাচানো কঠিন। সব কিছুই সঠিক ভাবে হওয়ার কারনে আমার একটি গাছও মারা যায়নি এবং তিন বছরের মাথায় তারা ফল দিতে শুরু করেছে। আমি ব্যাপক আশাবাদি বিদেশের মাটিতে হওয়া ভ্যানিলা এক সময় দেশের মাটিতে ব্যাপক চাষাবাদ হবে এবং আমার দেশের কৃষক লাভবান হবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, ভ্যানিলা বিদেশি একটি ফল এবং বিভিন্ন জাতের হয় বাজারেও তার চাহিদা ব্যাপক। উদ্যোক্তা সরোয়ার চৌগাছায় এই ফলের চাষ শুরু করেছেন খবরটি বেশ আনন্দের। আমি সরেজমিনে গেছি এবং তার সাথে কথা বলেছি, কোন সমস্যা হলে তাতক্ষনিক কৃষি অফিসকে অবহীত করার পরামর্শ দিয়েছি।
এমএসএম / এমএসএম
সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছাতে হবে- এমপি গোলাম রছুল
সিংড়ায় এক ভ্যানচালকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
বাগেরহাট ৪১৮ জন মেধাবি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে জেলা পরিষদ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত
চকরাজাপুর বাজার রোড এসবি করণ, এমপিকে ধন্যবাদ জানাল এলাকাবাসী
লালমনিরহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের চাচা-চাচাতো ভাইদের সাথে সংঘর্ষ, যুবক নিহত, আহত তিন
পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধা, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট
আদমদীঘি কাশিমালা সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে গ্রামবাসি
আনোয়ারায় কবর খননে বাধা ও মারধরের ঘটনায় মূল আসামী গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলের কিশোরীদের শিক্ষায় ফেরাতে ও বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করছে ফ্রেন্ডশিপ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মধুখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার ৫ম সম্মেলন
মহাসড়কে বস্তাভর্তি ৫৪৬ পিস ভারতীয় কিটক্যাট চকলেট উদ্ধার