শখের বশত মালবেরী ফলের চাষ অল্প দিনেই হয়ে উঠেছে ব্যাপক জনপ্রিয়
পুষ্টিগুনে ভরা মালবেরী তুঁত ফলের চাষ এখন চৌগাছায়। চার বছর আগে লাগানো গাছ দুই বছর বয়স থেকে ফল দিতে শুরু করেছে। বাজারে যথেষ্ঠ চাহিদা থাকলেও কর্তৃপক্ষ এই ফলকে সে ভাবে বাজারজাত করতে পারেন না। তবে খামার হতে অনেকেই ৩শ টাকা কেজি দরে ফল ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। চৌগাছার বিশিষ্ঠ শিল্পপতি রায়হিন উদ্দিন এক প্রকার শখের বশত এই ফলের চাষ করেছেন। তবে ফল চাষিরা পরিকল্পিত ভাবে এর চাষ করলে লাভবান হবেন এমনই মনে করছেন কৃষি অফিস।
চৌগাছার বিশিষ্ঠ শিল্পপতি রায়হিন উদ্দিন। তিনি রাজধানী ঢাকা ছেড়ে নিজ জন্মস্থানে অসংখ্য স্থাপনা গড়ে তুলে সকলের নজর কেড়েছেন। তার শিল্প কলকারখানায় এ জনপদের হাজার হাজার নারী পুরুষের হয়েছে কর্মসংস্থান। অত্যান্ত রুচিশীল এই ব্যক্তি তার খামারে বিভিন্ন ধরনের ফল ফলাদি, ফুলের পাশাপাশি নতুন এক ফলের চাষ করেছেন যা ইতোমধ্যে চৌগাছাতে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সেটি হচ্ছে ব্যাপক পুষ্টিগুনে ভরা মালবেরী ফল। ফলটি দেখতে অনেকটাই তুঁত কাছের ফলের মত। ফল গাছে আসার পর তা প্রথমে সবুজ রং, পরে লাল এবং পেকে গেলে হয় কালো তখনই সেটি বিক্রি বা খাওয়ার উপযোগী হয়।
গতকাল খামারে যেয়ে দেখা যায় প্রতিটি গাছে লাল এবং কালো দুই রঙেরই ফলে ভরে আছে, আছে পাখির উপদ্রপ। লেবার কাজ করছেন এবং তা দেখাশুনা করছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তা লিখন হোসেন।
এ সময় কথা হয় লিখনের সাথে। তিনি জানান, চার বছর আগে সাহেব (রায়হিন উদ্দিন) এক ব্যক্তির মাধ্যমে বগুড়া থেকে ৩৫টি চারা সংগ্রহ করেন এবং এই খামারে তা রোপন করেন। নিবিড় পরিচর্জার একপর্যায়ে দুই বছর হলে প্রতিটি গাছ ফল দিতে শুরু করে। বছরে একবারই ফল দেয় সেটা হচ্ছে মার্চ মাস হতে মে মাসের মধ্যে। এই ফলের একটি আলাদা বৈশিষ্ঠ আছে, সেটি হচ্ছে গাছে ফল আসার পর প্রথমে সবুজ রং ধারন করে। কিছু দিন যাওয়ার পর তা টকটকে লাল হয়ে যায় এবং যখন খাওয়ার উপযোগী হয় অথাৎ পেকে যায় তখন সে সম্পূর্ণ কালো হয়ে যায়। পাখিদের খুবই পছন্দের একটি ফল হচ্ছে মালবেরী, তাদের উৎপাত থেকে ফল রক্ষায় সম্পূর্ণ গাছ কিন্তু নেট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কোন কীটনাশক ছাড়াই এই ফল উৎপাদন হচ্ছে, কারণ এতে পোকার আক্রমণ নেই বললেই চলে। ফলটির বাজারে ব্যাপক চাহিদা কিন্তু আমাদের সে ভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হয়ে উঠে না। কর্তৃপক্ষের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে যা থাকে সেটি মুলত বিক্রি করি। খামার হতেই ক্রেতারা এসে ৩শ টাকা কেজি দরে ক্রয় করে নিয়ে যান। ফলটি যেহেতু আমি রক্ষনাবেক্ষন করি তাই আমার মনে হয় কোন ফল চাষি যদি পরিকল্পিত ভাবে চাষাবাদ করেন তাহলে অন্য যে কোন ফলের চেয়ে এতে লাভবান হবেন।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, মালবেরী বা তুঁত ফল বিশ্বজুড়েই কম বেশি চাষ হয়। তবে চীন, ভারত, তুরস্ক এবং দক্ষিন কোরিয়ায় তুলনামুলক বেশি চাষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বর্তমানে নওগাঁ, দিনাজপুর জেলাতে এই ফলের বানিজ্যিক ভাবে চাষ শুরু হয়েছে, নতুন ফল হিসেবে এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালবেরী ফলের ব্যাপক পুষ্টিগুন রয়েছে। যেমন ফলটিতে আ্যান্টিধক্্িরডেন্ট, প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, আয়রন, পটাশিয়াম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হার্ট সুস্থ্য রাখে, রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রন করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, মালবেরী বা তুঁত ফল যেটিই বলি না কেন, এটি অত্যান্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই ফলের চাষ কমবেশি শুরু হলেও আমাদের চৌগাছাতে এখনও সে ভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। তবে কৃষক বানিজ্যিক ভাবে মালবেরী ফলের চাষ শুরু করলে লাভবান হবেন।
এমএসএম / এমএসএম
নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মতবিনিময় সভা
নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই বাসা নির্মাণকাজ--নির্বাহী কর্মকর্তার পরিদর্শনে কাজ বন্ধ
লোকালয় থেকে উদ্ধারকৃত অজগর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত
উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরেকটি মাইলফলক
সুবর্ণচরে নারী, শিশু, ব্রাককর্মীসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ৪টি ক্লাব গঠনের নির্দেশ
কুড়িগ্রামে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষ, স্বামী-স্ত্রীসহ আহত ৫
হানিট্রাপের অভিযোগ সেনাসদস্যের সম্মানহানি তদন্ত দাবি
চাঁদপুর যাত্রী টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মায়ার লিমিটেড ও কবিরস সিন্ডিকেট জেভি
ভূরুঙ্গামারী থানা জেলার শ্রেষ্ঠ, সেরা সার্কেল এএসপি মুনতাসির ও ওসি আজিম
শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার টাকা ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা
মেহেরপুরে ৭০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান