কাপ্তাই চিৎমরম মাঠে মারমাদের মহা সাংগ্রাইং জলকেলি অনুষ্ঠিত
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই চিৎমরম মাঠ প্রা ঙ্গণ মারমাদের মহা সাংগ্রাইং জলকেলি বা পানি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ এপ্রিল সকাল ৯ টায় বুধবার মহা সাংগ্রাইং জলকেলি বা পানি খেলা অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধনের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ২৯৯ আসন রাঙ্গামাটি এমপি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মন্ত্রী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান আরো বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মিসেস নাজমা আশরাফী উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ শিক্ষানুরাগী সমাজ সেবক মারমা যুবক সমাজ স্থানীয় জনপ্রতিধি গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সকালে মাঠ প্রা ঙ্গণের দলে দলে তরুন তরুনী নাচে গানে আনন্দ মূখরিত উল্লাসে বিভিন্ত প্রান্ত হতে সাংগ্রাইং উৎসবের মৈত্রী পানিবর্ষণ পানি খেলা অংশগ্রহণ শত শত যুবক যুবতী মারমা নিজস্ব থামী পরে পানি খেলতে দেখা গেছে। এরপর নিজস্ব ঐতিহ্য মারমাদের সংস্কৃতির তুলে ধরে নাচ গান কবিতা পরিবেশন করা হয়েছে। বিগত জলকেলি উৎসবে হাজারো মানুষের ঢল উপস্থিতিতে উদ্যাপিত হলো মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই। এই সাংগ্রাই উৎসব ঘিরে মারমা তরুন তরুনীরা মহাখুশি। বিগত বছরে ন্যায় এবারে সুন্দর মূখরিত পরিবেশে মারমা জনগোষ্ঠীর জল কেলি সাংগ্রাই উৎসব সু শৃঙ্খলা শান্তি পরিবেশের উদযাপিত হল। তাই কৃতজ্ঞতা সরকারে বিভিন্ন দপ্তরের মহল কাছে উচ্চ পদস্থ সহ স্থানীয় প্রশাসনিক সার্বিক সহযোগিতায় প্রদান করেন।
মারমা সাংগ্রাইং জলোৎসবের মধ্যে দিয়ে ১৪-১৫ এপ্রিল ২ দিনব্যাপী শুরু পাহাড়ের প্রধান অনুষ্ঠান সাংগ্রাইং মহা উৎসব।, ঐদিন জলকেলিতে মেতে উঠে মারমা জনগোষ্ঠীর নিজের ঐতিহ্য থামি পোষাক পরে তরুণ-তরুণীরা। একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর নিক্ষেপের মাধ্যমে পুরোনো বছরের সব জীর্ণতাগ্লানি দু:খ কষ্টের রাগ অনুরাগ ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এই রীতিকে সাংগ্রাইং জলোৎসব বলা হয়। পার্বত্য চট্রগ্রাম মারমা সংস্কৃতি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে প্রতি বছর এই মহা সাংগ্রাই উদযাপিত।
একে জলকেলি বা জল উৎসবও বলা হয়। নানা বয়সের কয়েক হাজার মানুষ এই পানিবর্ষণে অংশ নেন। মাঠে দুই সারিতে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একদল তরুণ-তরুণী পরস্পরের দিকে পানি ছিটান। পরে বাকি সবাইও তাতে যোগ দেন। পানির বোতল কিংবা ওয়াটার গান—হাতের কাছে যা পান, তা দিয়েই ভেজান একে অপরকে। এলাকায় ভিক্তিক চলেছে পানি খেলা। শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী এমনকি বয়স্ক মানুষেরাও একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন। আনন্দ-উদ্দীপনা আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে বর্ণিল হয়ে ওঠে
পাহাড়ে আদিবাসী মানুষ পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের মাধ্যমে তাদের সামাজিক উৎসব বিজু, বিষু, বিহু, বৈসু, সাংগ্রাই ,সাংক্রাণ পালন করে। প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর আলাদা আলাদা নামে উদযাপিত এই অনুষ্ঠানকে এক্ষেত্রে বৈসাবি হিসেবে ডাকা হয়। যার মাধ্যমে সব জনগোষ্ঠীর ঐক্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। গত ১৪ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিনব্যাপী বৈসাবি উৎসবের মাধ্যমে এই পার্বত্য চট্রগ্রামের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংগঠনের নানান বর্ণিল আয়োজন এবং বাড়িতে বাড়িতে আতিথ্য বিভিন্ন পাহাড়ি খাবার গ্রহণ শেষে আজ মারমা জনগোষ্ঠীর সাংগ্রাঁইং জলোৎসবের মাধ্যমে শেষ হয়েছে এই বছরের বৈসাবির পার্বত্য চট্টগ্রামের আনুষ্ঠিকতা বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা পালিত হবে। অন্য দিকে ঐতিহ্য বাঁশের উঠা খেলাসহ নানা ধরনের খেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে।
তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি বান্দরবান খাগড়াছড়ির জেলা জুড়ে পাহাড়ের বসবাসরত মারমা জনগোষ্ঠীর নিজের সংস্কৃতি জীবন মান সাংস্কৃতিক ও র্যালী মধ্যে দিয়ে তুলে ধরতে চাই। বাংলা চৈত্র সংক্রান্তি মাসে ৩ দিন ধরে মারমা সম্প্রদায় পাড়া গ্রামে মহল্লা পল্লী গলিতে ছোট ছোট দল তরুন তরুনী একে অপরে পানির জল ছিটিয়ে আনন্দ মূখরিত মেতে উঠে। ১৩ এপ্রিল মাসে বাংলা চৈত্র সংক্রান্তি নববর্ষের দিনে তরুন তরুনী পাড়া পাড়া দল ভাগ করে গুরুজনদের কে বয়স্ক দেরকে গোসল স্নান করে আর্শীবাদ কামনা করেন। ভোর বেলায় পাহাড়ের মারমা সাংগ্রাই ফুল সংগ্রহ করতে তরুন তরুনী দলে দলে যায়। ঐ সাংগ্রাই ফুল বছরে একবার চৈক্র সংক্রান্তি বাংলা নববর্ষের দিনে ফুল ফুটে। ঐ সাংগ্রাই সংগ্রহ ফুলকে বাড়িতে এনে গৌতম বুদ্ধের কাছে ফুল পূঁজা দান করে, এরপর চারপাশে বাড়িতে ফুল দিয়ে সাজসজ্জা করা হয়ে থাকে। সন্ধ্যাবেলায় তরুণ তরুণীরা বুদ্ধ বিহারে গিয়ে মোমবাতি প্রজ্জলন জলীয় পূজায় দান টাকা পয়সা দান পঞ্চশীল অষ্টশীল গ্রহণ করা হয়ে থাকে। অনুষ্ঠানে মারমা জনগোষ্ঠী বিভিন্ন এলাকার হতে তরুন তরুণীরা নিজের ঐতিহ্য পোষাক থামি ড্রেস পড়ে জলোৎসবে অংশ দেখা যায়। দুই পাশে পানিভর্তি ড্রামের পাশে তরুণ-তরুণীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। বাঁশি বাজানোর পরপরই শুরু হয় একে-অপরের গায়ে পানি নিক্ষেপ প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর মহা সাংগ্রাই শুরু হচ্ছে । পানি নিক্ষেপের ফলে অতীতের সব গ্লানি-দুঃখ-হতাশাকে বিদায় জানিয়ে সুন্দর পরিশুদ্ধ হৃদয়ে নতুন বছরকে বাংলা নববর্ষের চৈত্র সংক্রান্তি ১৪৩৩ বরণ করে নেওয়া হয় । এ সময় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বর্ণিল সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা নিজের ঐতিহ্য পোষাক পরে পরিবেশন করা হয়েছে । এ মৈত্রীময় পানি খেলা মানে নতুন বছরে একে অপরের তরুন তরুনী ভালোবাসা শুভেচ্ছা সেতু বন্ধন পরিচিত স্থাপন লাভ মানে মহা সাংগ্রাইং জল উৎসব পালিত। এমন আয়োজনে উচ্ছ্বাস আনন্দ মেতে প্রকাশ করেছেন মারমা তরুণ-তরুণী আনন্দ মেতে উঠে নিজস্ব সংস্কৃতির গানে গানে মহা সাংগ্রাই উৎসব পালিত হয়ে থাকে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায় জনগোষ্ঠীরা পানি খেলা বা জল কেলি উৎসব অনুষ্ঠানের শত হাজার দর্শণার্থীরা উপভোগ করেন।ধর্ম যার যার উৎসব সবার এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আগামীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসবাসরত ১১ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরা বিভিন্ন প্রান্তের সুন্দর পরিবেশের যার যার ধর্মের ঐতিহ্য সংস্কৃতির উৎসব রীতিনীতি অনুযায়ী পালন করতে পারি।
Aminur / Aminur
নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে শ্রমিক দল নেতার মাদক সেবনে ছবি ভাইরাল হওয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাংচুয়ালিটি বর্ষপূর্তি উদযাপন
মাদক কারবারীদের বাড়ীতেই ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে সাজা দিলেন ইউএনও
কেশবপুরে লোডশেডিংয়ে জনজীবনে চরম ভোগান্তি
শেরপুরে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে সোমবার
রায়গঞ্জে অবৈধভাবে জমির নামজারি বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
দোহাজারী নাগরিক কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে
আসলেন জয় করলেন চলে গেলেন ইউএনও মাহামুদুল হাসান
সুন্দরবনে ড্রোন অভিযানে বিষ দিয়ে মাছ ধরা পন্ড, নৌকাসহ বিষ জব্দ
লালমনিরহাটে ভোল বদল রাজনীতির কারিগর সোহরাবের আঃলীগ থেকে পদত্যাগ
রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ নেতা নিহত, সড়ক অবরোধ
মুরাদনগরে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ