শেরপুরের শ্রীবরদীর ভূমিহীন পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিম: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা যোগাতে গার্মেন্টসে কাজ করতে চান
দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিম মিয়া। তবে অর্থাভাবে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায়। ভর্তির প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করতে না পেরে গার্মেন্টসে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
ফাহিম মিয়া উপজেলার তাঁতিহাটি ইউনিয়নের জানকিখিলা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতা মো. মোখলেছুর রহমান একজন দিনমজুর এবং মাতা মোছা. সেলিনা বেগম। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ফাহিম শৈশব থেকেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র তিন বছর বয়সে পারিবারিক কলহের জেরে তার বাবা ও মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর দাদির কাছেই ফাহিমের বেড়ে ওঠা। বর্তমানে দাদির দুসম্পর্কের খালাতো ভাই লুৎফর রহমানের জমিতে একটি দোচালা ঘরে পরিবারসহ বসবাস করছেন তারা। ঘরের এক কক্ষে ফাহিমের বাবা ও সৎমা এবং অন্য কক্ষে ফাহিম ও তার দাদি থাকেন। পরিবারটির নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। দিন চলে অনিশ্চয়তা আর অভাবের সঙ্গে লড়াই করে।
এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনায় দমে যাননি ফাহিম। ২০২৩ সালে শ্রীবরদী এ পি পি আই হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৪.৫৮ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন।
অর্থাভাবে কোনো কোচিংয়ে ভর্তি হতে না পারলেও অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনা ও আত্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।
তার এই চেষ্টার ফলও মিলেছে। তিনি এবারের গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটে ৪৯০৬তম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি ইউনিটে ৩৮২তম এবং কৃষিগুচ্ছে অপেক্ষমাণ তালিকায় ৬৮৫৩তম স্থান অর্জন করেছেন—যা তার মতো প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন শিক্ষার্থীর জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
ফাহিম বলেন, 'ছোট থেকেই খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করছি। আমরা ভূমিহীন। নবম শ্রেণি থেকেই টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়েছি। মাঝে মধ্যে মা, আপা ও ফুপু কিছু টাকা দিয়ে সহায়তা করেছেন। কোনো কোচিং করিনি, অনলাইনে ক্লাস করে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু টাকার অভাবে কীভাবে ভর্তি হবো বুঝতে পারছি না। প্রয়োজনে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে কাজ করে হলেও টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করবো।'
ফাহিমের আশ্রয়দাতা লুৎফর রহমান বলেন, 'তাদের কোনো জমিজমা নেই, তাই মানবিক কারণে থাকার জন্য জায়গা দিয়েছি। ফাহিম খুব মেধাবী ছেলে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে—এটা আমাদের জন্য আনন্দের। কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অনেক টাকার প্রয়োজন, যা তাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে ছেলেটা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।'
ফাহিমের বাবা মোখলেছুর রহমান বলেন, 'আমি একজন গরিব মানুষ, জমি-জমা কিছুই নেই। ছেলেটা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করছে। আমি টাকা দিতে পারিনি। এখন সে বলছে গার্মেন্টসে কাজ করে টাকা জোগাড় করবে। কেউ যদি সাহায্য করতো, তাহলে সে অনেক দূর যেতে পারতো।'
শিক্ষকরাও ফাহিমের মেধা ও সংগ্রামের প্রশংসা করেছেন। শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিফাত আহমেদ বলেন, 'ফাহিম অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। অর্থাভাবই তার নীরবতার মূল কারণ ছিল। কোচিং ছাড়াই নিজ প্রচেষ্টায় সে গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৯০৬তম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি ইউনিটে ৩৮২তম স্থান অর্জন করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও সে যে এগিয়ে গেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এখন তার পথচলা যেন থেমে না যায়, সে জন্য সমাজের সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।'
অদম্য মেধা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র অর্থাভাবে যেন ফাহিমের স্বপ্ন থেমে না যায় সেজন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয়বান ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। ফাহিমের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তাঁর মোবাইল নাম্বার: 01860874650।
এমএসএম / এমএসএম
নাগরপুরে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব
নিজের অস্ত্রের গুলিতে পুলিশ সদস্য নিহত
সুন্দরবনে কোষ্টগার্ডের অভিযান,অপহ্নত ২ জেলে উদ্ধার, অস্ত্রসহ বনদুস্য আটক
রাঙামাটিতে শ্বশানের পাশে পড়ে ছিলো নবজাতক কন্যা সন্তান, উদ্ধার করল পথচারী
সাটুরিয়ায় নবাগত ওসি সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা
কুড়িগ্রামের ফোনের ডিসপ্লে ,জ্বালানী তৈল, মোটরসাইকেল, মাদকদ্রব্যসহ ০২ জনকে আটক করেছে বিজিবি
বাবুগঞ্জে সাপে কাটা যুবকের মৃত্যু, দাফন না করে ঝাড়ফুঁক চেষ্টা চলছে
ঘিওরে মাদক, ইভটিজিং বিরোধী সমাবেশ
মাদারীপুরে ৬টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি,কোটি টাকার ক্ষতি
৩ বছরেও শেষ হয়নি মনপুরার মেগা প্রকল্পের বেড়িবাঁধ, বৃষ্টিতেই প্লাবিত হয় ঘরবাড়ি
রায়গঞ্জে নূরানী কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ
মাগুরা ডিএনসি ঘিরে আছে অভিযোগ, নেই কোনো প্রতিকার
শেরপুরের শ্রীবরদীর ভূমিহীন পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিম: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা যোগাতে গার্মেন্টসে কাজ করতে চান
Link Copied