চট্টগ্রামে শীঘ্রই বাপাউবো'র বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের সুফল পাবে জনগণ
খুব শীঘ্রই চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বাস্তবায়নাধীন বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবে স্থানীয় কৃষক ও জনসাধারণ। ১১৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এই মেগাপ্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। ফলে স্থনীয়দের মাঝে আশার সঞ্চার দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের আওতায় নদীর তীর সংরক্ষণে বাঁধ নির্মাণ, খাল খনন ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দ্রুত জনসাধাণের মাঝে সুফল পৌছে দিতে কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে। দিন-রাত শ্রমিকরা কাজ করছেন। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব।
জানা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের জন্য ১১৫৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার এ প্রকল্পের কাজ ৭ টি ভাগে ভাগ করে চলমান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুট ওভার ব্রীজ নির্মাণ, সেচ অবকাঠামো, খাল পুন:খনন, বাঁধ নির্মাণ, নদী তীর সংরক্ষণ, ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ ও বাঁধ নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ।
বর্তমানে খালের দু’পাশে আরসিসি ব্লক দ্বারা তীর প্রতিরক্ষা করা হচ্ছে। ভাটিখাইন, ছনহরা,হাইদগাঁও ইউনিয়নে ৪.৪০ কিলোমিটার তীর প্রতিরক্ষা করা হচ্ছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৩.৫০ কিলোমিটার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ব্লক স্থাপনের ফলে শ্রীমাই খালের ভাঙ্গন রোধ হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের ৮টি রেগুলেটর নির্মাণ, ৩০.১০ কিলোমিটার খাল পুন:খননের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়াও ১.৮০ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা, ২.৭০ কিলোমিটার ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এরফলে অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের ৪৫টি প্যাকেজে, চলমান কাজের আওতায় রয়েছে ২৫.৫১ কিলোমিটার বাঁধ, ২৫টি রেগুলেটর নির্মাণ, ২.৯৫ কি:মি: প্রতিরক্ষা কাজ, ১টি ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ, ৩০.৫০ কি:মি: খাল খননসহ ইত্যাদি।
বাস্তব কাজের অগ্রগতি:
৩০.২০ কি.মি. ১১টি খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে। গরুলুডা খালের ১০ কি.মি, শ্রীমাই খালের ৫ কি.মি, চানখালি খালের ৩.৫ কি.মি, আলম খাল, কাজির খালসহ আরও অন্যান্য খালের ১০ কি.মি খনন কাজ শেষ। নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ ৯২ শতাংশ শেষ হয়েছে। ২৫টি সেচ রেগুলেটর নির্মাণের (স্লুইস গেট) মধ্যে ইতোমধ্যে ৬৮ শতাংশ কাজ শেষ করা হয়েছে। ৪.১০ কিলোমিটার ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ কাজ ৮৩ শতাংশ শেষ করা হয়েছে।
নাইখাইন গ্রামে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণকাজ ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং বাকী কাজ চলমান রয়েছে।
প্রকল্পের লক্ষ্য:
পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণে মাধ্যমে পটিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ খালে পানি নিষ্কাশন ও ধারণ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে ফসল উৎপাদনের নিবিড়তা ১৯৪.০০% থেকে বৃদ্ধি করে ২৩০.৫৪% এ উন্নিতকরণ, ১১টি খালে ৩০.২০ কিঃমিঃ পুনঃ খনন করে খালের পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
এত শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৩২০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাবে। ২.৯৫০ কিঃমিঃ নদী তীর সংরক্ষণ কাজ, ২৫.৫১০ কি.মি. বাঁধ ও ৪.১০০ কিঃমিঃ ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ করার মাধ্যমে নদীর ভাঙ্গন রোধ করে আগাম বর্ষায় আকস্মিক বন্যা ও মৌসুমী বন্যা হতে প্রকল্প এলাকার প্রায় ১৩৫০০ হেক্টর জমির ফসল রক্ষা হবে। চান্দখালী নদীর উপর ৮০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ২ মিটার প্রস্থের একটি পথচারী সেতু নির্মাণ করার মাধ্যমে খানমোহনা এবং ধলঘাট ষ্টেশনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে।
ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সারাবছর সেচ কার্যক্রম চালু রেখে রবি, খরিফ ও বোরো ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মিঠা পানির মাছ চাষ বৃদ্ধি করা এবং খাল পুনঃখননের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মাছের মাইগ্রেশন সহজ করাসহ এলাকাটির বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকাল জুলাই, ২০২১ হতে জুন, ২০২৪ হলেও ২য় দফায় ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ বৃদ্ধি করে জুন ২৭ করা হয়েছে। প্রাক্কলিত ব্যয় ১১৫৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। চলতি এডিপি বরাদ্দ ১০০ কোটি ৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে অগ্রগতি ৬৯ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার টাকা, বাস্তব ৬.২০% ও আর্থিক ৫.৯৮%। (লক্ষ্যমাত্রাঃ বাস্তব-৯,০০%, আর্থিক-১০০০৯.০০ লক্ষ টাকা, ৮.৬৪%)।প্রকল্পের ভৌত কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ করা হয়েছে।
কাজের অগ্রগতি দেখেই স্থানীয় লোকজন অত্যন্ত খুশি। স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক জানান, আমাদের পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যায় ধান নষ্ট হতো। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ১৭ ইউনিয়নের মানুষের সুফল আসবে।
রুহুল কবির নামের একজন জানান, দীর্ঘদিন পটিয়ায় অনেক কৃষিজমি অনাবাদি পড়েছিল। এ প্রকল্পের কারণে অনাবাদি জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সহিদ বলেন, প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল নির্মাণ, বেড়িবাঁধ ও সিসি ব্লকের বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজসহ ভৌত কাজের ৭০ শতাংশ শেষ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পটিয়ায় অনেক কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে। এ প্রকল্পের কারণে অনাবাদি জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে। পটিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পটিয়া উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ উপকৃত হবে।পটিয়ায় ২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য উৎপাদনসহ যোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।পাশাপাশি নদী ও খালের ভাঙন থেকে সুরক্ষা পাবে। লবণ পানির প্রবেশ রোধ হবে। তবে ভূমি অধিগ্রহণ কাজের গতি অত্যন্ত স্লো, শেষ হয়েছে মাত্র ১৭.১০% শতাংশ। প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ করতে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ আরো দ্রুততার সহিত শেষ করা প্রয়োজন। এছাড় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কারণে এ মেগা প্রকল্পে অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা চিঠির মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের
কারনে চলমান উন্নয়ন কাজের মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। তবে জ্বালানী ও ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা না থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এমএসএম / এমএসএম
সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে পটুয়াখালী বিএনপির ৮ নেত্রীর দৌড়ঝাঁপ
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: নীতিমালা ভেঙে ২ কেয়ারটেকার নিয়োগ
গোদাগাড়ীতে বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
জনবলসংকটে ভোলার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবায় চরম ভোগান্তি
ধর্ষণের অভিযোগ না কি টাকার খেলা? ভিডিও ভাইরালের পর সাংবাদিককে হুমকি
দেশের বিভিন্ন জেলার অংশগ্রহণে শ্রীমঙ্গলে চা প্রশিক্ষণ শুরু
ভোলায় ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে কু'পি'য়ে হ'ত্যা, গুরুতর আহত ৮ বছরের একমাত্র ছেলে
মাদারীপুরে মানবাধিকার সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
হাওরে পুরোদমে ধান কাটা শুরু, দুশ্চিন্তায় কৃষক
নওগাঁর আলোচিত রকি বাহিনীর প্রধান অবশেষে কারাগারে
লাকসামে নাড়িদিয়া খালের উপর অবৈধ বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন এমপি আবুল কালাম