ধানের বাম্পার ফলনেও দামে হতাশ কৃষক
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বোরো মৌসুমে বারহাট্টায় ধানের বাম্পার হয়েছে। বিস্তির্ণ মাঠ জুড়ে সোনালী ফসলের সমারোহ থাকলেও কৃষকদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি বরং কষ্টে ফলানো ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, জ্বালানি তেল সংকট ও বৈরী আবহাওয়াকে ঘিরে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় বোরো ধান কাটা শুরু করেছিলেন চাষিরা। ফসল দেখে কৃষক পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের চোখে এখন শুধুই হতাশা আর উৎকণ্ঠা। ধানের অস্বাভাবিক দরপতনে উৎপাদিত ফসলের ব্যয় ওঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক পরিবারগুলো। কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে ধানের যে দাম তাতে লাভতো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ সাহতা, বাউসী, রায়পুর, চিরাম, সিংধা, আসমা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, চৈত্র মাস থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় পানিতে ডুবে রয়েছে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের জমি। এতে আধাপাকা ও থোড় ধানের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জমির পাকা ধানও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার সরকারি বরাদ্দকৃত হারভেস্টার মেশিনগুলো মাঠে না থাকার কারণে কৃষি শ্রমিকরাই এখন কৃষকদের ভরসা। শুধু তাই নয়, এ বছর ধানের দামও গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাজারে ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
আক্ষেপের সুরে সকালের সময়কে স্থানীয় কৃষকরা বলেন, 'দেশে সবকিছুর দাম বাড়ে। কিন্তু বাড়ে না শুধু কৃষকের কষ্টে বুনা ধানের দাম। আমরা কৃষকেরা সবচেয়ে অবহেলিত, আমাদের দুঃখের কথা কেউ শোনেও না, কেউ খোঁজও নেয় না।' সার, বীজ, নিড়িনি দেওয়া, রোপণ করাসহ সব মিলিয়ে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ টাকা। অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে। এর মধ্যে এক দিনের জন্য ধান কাটার শ্রমিককে জনপ্রতি দিতে হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। বাজারে চাল কিনতে গেলে ঠিকই দামে কিনতে হয়। আমরা ধান বিক্রির সময় ন্যায্য মূল্য পাই না। ধারদেনা শোধ করার জন্য বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করছি।
একই সুরে উপজেলা সদরে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক তপন সরকার, জামাল মিয়া, সাহতা এলাকার মিলন শেখ, নিতাই দাস, সিংধা এলাকার জীবন শেখ, জজ মিয়া, চিরাম এলাকার জামাল মিয়া, ঝন্টু সরকার বলেন, আমরা কৃষকরা এত কষ্ট করে ধান ফলায়, সেই ধান সস্তায় কিনে নিয়ে মিল মালিকরা চালের দাম ঠিকই বাড়িয়ে দেয়। সস্তা এই ধানের সময়ে এখনো ২৫ কেজি চালের বস্তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। ধানের দাম নাই, চালের দাম অনেক বাড়তি। 'কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ' নীতিনির্ধারকদের এই কথাটা মনে রাখতে হবে। ধান ক্রেতারা জানান, বর্তমান বাজারে প্রতিমণ ধানের দাম ৭০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫০ টাকা দরে কেনা হচ্ছে।
বারহাট্টা উপজেলা খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৩ মে থেকে খাদ্য গুদামে ধান ও ১৫ মে থেকে চাল ক্রয় শুরু হবে, চলবে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। এ বছর সরকার ৩৬ টাকা কেজি ধান ও সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা ও আতপ চাল ৪৮ টাকা দরে ক্রয় করবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, 'এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। আমরা কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। সরকারিভাবে মনপ্রতি ১৪৪০ টাকা দরে ধান ক্রয় করা হবে। পাশাপাশি আমরা খাদ্য বিভাগের মাধ্যমেও ধান ক্রয়ের চিন্তা করছি। এতে করে কৃষকরা ন্যায্য দাম পেতে পারবেন।'
এমএসএম / এমএসএম
খোদা বকস মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান
কালিয়ায় স্কুল ঘরে গাছ পড়ে ২ শিক্ষার্থী আহত
বিরামপুরে পুলিশ বক্সের সামনেই ১৮ লাখ টাকার সোনা লুট, গ্রেফতার-৪
সালেকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ, কাউনিয়ায় মানববন্ধন
কুড়িগ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা: গৃহশিক্ষক রনির ফাঁসির আদেশ
ধামইরহাটে কৃষকের ৭৫ শতক জমিতে রাসায়নিক স্প্রে করে ফসল নষ্টের অভিযোগ
রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা ভিত্তিহীন অপ-প্রচারের অভিযোগ
ভোলাহাটে জ্বালানি তেল পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
একাধিক পদে চাকরিরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মাউশির শোকজ
রাঙ্গামাটি পাল্পউড চেটেপুটে খাচ্ছেন সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম দেওয়ান
রাজারহাটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হচ্ছে ৭ গ্রামের প্রায় ১১ হাজার মানুষ