সংস্কার আর জনকল্যাণে তারেক রহমানের ১০০ দিনের দোরগোড়ায় নতুন বাংলাদেশ
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোতে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছিল, ২০২৬ সালের মে মাসে এসে তা এক সুসংহত ও পরিণত রূপ লাভ করেছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকা এবং অবর্ণনীয় রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাত পার করে আসা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এখন এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে লিপ্ত। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকে মে মাস পর্যন্ত তাঁর সরকার ১০০ দিনের দোরগোড়ায়, যেখানে প্রতিটি ক্ষণ ছিল সংস্কার ও জনকল্যাণের গল্পে মোড়ানো। এই সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনে আসা বৈপ্লবিক পরিবর্তন, যা সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। তিনি বারবার বিভিন্ন সভা ও সংসদে বলছেন যে ক্ষমতা কোনো ভোগের বস্তু নয় বরং এটি একটি কঠিন পরীক্ষা। এই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর প্রটোকল সংস্কৃতি বর্জনের মাধ্যমে। ঢাকার রাজপথে এখন আর প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ রাখা হয় না, বরং তিনি সাধারণ মানুষের মতোই ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকেন যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। তিনি সাধারণের ভিড়ে মিশে যাচ্ছেন, কখনও শিশুর মাথায় হাত রাখছেন আবার কখনও শ্রমিকের সাথে হাত মেলাচ্ছেন। এই অনাড়ম্বর জীবনযাত্রার প্রভাব পড়েছে সরাসরি প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনেও। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খাবারের বাজেট থেকে শুরু করে অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সাশ্রয় করছেন।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মে ২০২৬ পর্যন্ত সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের সফল বাস্তবায়ন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষের জন্য ১০ মার্চ ২০২৬-এ বনানী থেকে শুরু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি এখন দেশের প্রতিটি প্রান্তিক জনপদে পৌঁছে গেছে। প্রায় ১ কোটি পরিবার এখন সরাসরি ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছে যা বাজার সিন্ডিকেটের প্রভাবকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। একই সাথে কৃষি বিপ্লব সাধনের লক্ষ্যে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সারের ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ৭ মে ২০২৬ তারিখে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণীতে স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনের যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে তা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। স্মার্ট হেলথ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের ডিজিটাল স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগটি এখন বাস্তবায়নের পথে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ফুয়েল কার্ডের প্রবর্তনও মে মাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন আর কৃত্রিম সংকট দূর করতে এই কার্ডটি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে যা সাধারণ পরিবহন শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেও মে ২০২৬ এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল উত্তপ্ত ও প্রাণবন্ত, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজ দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জনস্বার্থে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে এই চেয়ারটি আরামের নয় বরং প্রতি মুহূর্তে আগুনের তপ্ত হিট আসার মতো একটি জায়গা। এই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা অফিস করছেন এবং নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরেও দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মে মাসের শুরুতে কুড়িগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে "খাল খনন ২.০" কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি নিজে কোদাল হাতে মাঠে নেমেছিলেন, যা উৎপাদনমুখী রাজনীতির এক নতুন বার্তা দেয়। এই কর্মসূচি কেবল কৃষির উন্নয়ন নয় বরং জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় এক বিশাল ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তি ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ মে মাসে আরও দৃশ্যমান হয়েছে। তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে তিনি নিজে যেমন প্রযুক্তির প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন তেমনি তাদের উদ্ভাবিত প্রজেক্টে সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করছেন। সাধারণ সিনেমা হলে বসে সাধারণ মানুষের সাথে সিনেমা দেখার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তা কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার পক্ষেই সম্ভব যিনি মাটি ও মানুষের নাড়ি বোঝেন। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার যে প্রক্রিয়া মে মাসে শুরু হয়েছে তা ন্যায়বিচার প্রত্যাশী মানুষের মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ১৭ বছরের গুম, খুন ও দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়া এই সরকারের অন্যতম বড় নৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভাষায় তারেক রহমান এখন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন বরং তিনি ২০২৬ সালের বদলে যাওয়া বাংলাদেশের এক সুদক্ষ স্থপতি এবং অভিভাবক।
এমএসএম / এমএসএম
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক আন্দোলন অপরিহার্য
পবিত্র আশুরার শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ
ব্রেক্সিট পরবর্তি ব্রিটিশ রাজনীতি এবং স্টারমারের বিদায়
পর্নোগ্রাফি আসক্তি: ডিজিটাল যুগের নীরব মহামারি
কাঁঠালভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন
বাবা: স্মৃতির আকাশে এক চিরস্থায়ী নক্ষত্র
বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬: যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ
বাসযোগ্য নগর গড়তে ঢাকা’র ওপর চাপ কমান
বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনা ও জেন-জি’র সমর্থন: আবেগ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক নতুন মেলবন্ধন
কৃষক মরছে কীটনাশকে
এই গ্রহের সম্পদ সীমিত, কিন্তু মানুষের লোভ অসীম
তিন মাসে নৌপরিবহনে অবকাঠামো, ডিজিটাল রূপান্তর ও জনসেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি