ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‎নদী পেরিয়ে নাগরিক সেবা: ফুলছড়ির চরবাসীর প্রতিদিনের সংগ্রাম


মজিবর রহমান, ফুলছড়ি photo মজিবর রহমান, ফুলছড়ি
প্রকাশিত: ১১-৫-২০২৬ দুপুর ২:২৫

ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘর থেকে বের হন বৃদ্ধ আব্দুল জলিল। হাতে একটি পুরোনো ফাইল, তাতে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি আর কয়েকটি কাগজ। উদ্দেশ্য—ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি সাধারণ প্রত্যয়নপত্র নেওয়া। কিন্তু সেই কাগজ পেতে তাকে পাড়ি দিতে হয় নদী, বালুচর আর কাদামাটির দীর্ঘ পথ।

‎গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের কাছে একটি ছোট্ট সনদ কিংবা একটি স্বাক্ষর পাওয়া যেন একেকটি যুদ্ধ জয়ের সমান। নদীবেষ্টিত এসব এলাকায় নাগরিক সেবা পেতে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় হাজারো মানুষকে।

‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ, ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে গজারিয়া ইউনিয়নের ফুলছড়িরহাট এলাকায়। অথচ ফুলছড়ি ইউনিয়নের অনেক চরাঞ্চল থেকে ওই পরিষদের দূরত্ব প্রায় ১১ থেকে ১২ কিলোমিটার। একইভাবে ফজলুপুর ইউনিয়নের অনেক এলাকার মানুষেরও ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।

‎এই পথ শুধু দূরের নয়, কষ্টেরও। কোথাও নদী পার হতে হয় নৌকায়, কোথাও হাঁটতে হয় বিস্তীর্ণ বালুচর পেরিয়ে। বর্ষাকালে স্রোত আর ভাঙনের ভয়, শুষ্ক মৌসুমে ধুলা আর বালুর দুর্ভোগ—সব মিলিয়ে নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে যেন নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে হয় চরবাসীকে।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি জন্মনিবন্ধন সংশোধন, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিক সনদ কিংবা ভিজিএফ-ভিজিডির কাগজপত্রের জন্যও পুরো একটি দিন চলে যায়। অনেক সময় যাতায়াত খরচ জোগাতেই হিমশিম খেতে হয় দরিদ্র পরিবারগুলোকে।

‎ফজলুপুর ইউনিয়নের বুলবুলির চরের বাসিন্দা মোলেমা খাতুন বলেন, “কোলে ছোট বাচ্চা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে অনেক কষ্ট হয়। নৌকা না থাকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। আবার কাজ শেষ না হলে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়।”

‎ফুলছড়ি ইউনিয়নের টেংরাকান্দি গ্রামের দিনমজুর সফেদ আলী বলেন, “একদিন পরিষদে গেলে সেদিন আর কাম করতে পারি না। পরিবারের খাবারের টাকাও নষ্ট হয়। কিন্তু প্রয়োজনের কাগজ না নিলে আবার অন্য কাজও হয় না।”

‎সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, ও নারীরা। অনেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে যেতে পারেন না। ফলে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হন তারা।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও চরাঞ্চলের বাস্তবতা এখনো ভিন্ন। যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা ও দূরত্বের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে।

‎চরবাসীরা বলছেন, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; শুধু চান নাগরিক সেবাগুলো সহজভাবে পেতে। তাদের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম চরাঞ্চলের মানুষের নাগালের মধ্যে আনা হোক, যাতে একটি সাধারণ কাগজের জন্য আর নদী-ঝড়-বালুচর পেরিয়ে জীবনযুদ্ধ করতে না হয়।

‎দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের চোখে এখন একটাই প্রশ্ন—এই দেশের নাগরিক হয়েও কেন একটি সাধারণ সেবা পেতে এত সংগ্রাম করতে হবে?

এমএসএম / এমএসএম

অবশেষে তিস্তার পেটে নিচিহ্ন হল ভোরের পাখি প্রাথমিক স্কুলটি৷

পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙন: দেড়শ পরিবার নিঃস্ব, রাস্তায় ২০টি ঘর

ক্ষেতলালে সন্তান নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গৃহবধূর অবস্থান

বাঘার চকরাজাপুরে ভয়াবহ বন্যা: ইউনিয়নের ৮০% বাড়ি পানিবন্দি

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বেকার যুবকদের দক্ষ জনশক্তি রূপান্তরে বাকলজোড়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান-ফারুক আকন্দ

দেবোত্তর সম্পত্তি দখল: তানোরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধনে উত্তাল শিবরামপুর

নেত্রকোণায় প্রেমের বিয়ে না-কি অপহরণ? নিকাহনামা স্বাক্ষর অনুযায়ী তরুণীর সম্মতিতেই বিয়ে

বাগেরহাটে কৃষি ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকদের সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত

অনিশ্চয়তায় হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ: মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি

বিমানবন্দর এলাকায় সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার বিপুল মালামাল

পেকুয়ায় পুলিশের অভিযান, ইয়াবা-টাকাসহ আটক ২

ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের অভিযানে নগদ টাকাসহ ৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামে গাইড বই না কেনায় ৬ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন মাদরাসা সুপার