ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম,দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ


শহীদুল ইসলাম নেত্রকোনা photo শহীদুল ইসলাম নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১৯-৫-২০২৬ দুপুর ৪:৩২
নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়-এর বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি নিয়োগ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া একাধিক প্রার্থী এসব অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি,লিখিত,ব্যবহারিক, শারীরিক ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন তারা।
প্রার্থীদের অভিযোগ,নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে ফলাফল প্রকাশে চরম অস্বচ্ছতা দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ না করে গোপনীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে,যা সরকারি নিয়োগ বিধিমালার পরিপন্থী বলে দাবি তাদের।
 
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২৪ জন শিক্ষক,৩ জন কর্মকর্তা ও ১২ জন কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে আবেদন জমার জন্য মাত্র ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। যদিও সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সাধারণত এক মাস সময় দেওয়ার বিধান রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।
 
এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ সময় ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হলেও,পরদিন ২ ফেব্রুয়ারি থেকেই ঢাকায় বিভিন্ন বিভাগের নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগকারীদের দাবি,২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির মাধ্যমে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করে নিয়োগ বোর্ড আয়োজনের বিধান থাকলেও এত স্বল্প সময়ে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
 
অভিযোগে আরও বলা হয়,সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বোর্ড আয়োজনের আগে ন্যূনতম পাঁচ কর্মদিবস সময় দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পরিচিত প্রার্থীদের দিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকায় নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করা হয়। এমনকি ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে সিন্ডিকেট সভা করে পরদিনই ১৯ জন নির্বাচিত শিক্ষককে যোগদান করানো হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও মেডিকেল অফিসারকে নেত্রকোণা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য,দেশের মানুষ যখন উৎসবমুখর নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিল,তখন রাতের আঁধারে ঘুষ,নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে,যা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এপ্রিল অনুষ্ঠিত কয়েকটি পদে নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত,ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলও প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন প্রার্থীরা।
নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থী আসিফুর রহমান বলেন,চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে অস্বচ্ছতা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহজনক। প্রার্থী মো. আজহারুল ইসলামের দাবি,নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি,ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি হয়েছে,যা দুর্নীতি দমন কমিশন-এর মাধ্যমে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি লিখিত,ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র,মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানান।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং নির্দিষ্ট মতাদর্শের অনুসারী বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগেও দূর-দূরান্ত থেকে পছন্দের লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ,নতুন শিক্ষক নিয়োগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের পরিবর্তে বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।এছাড়া ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে,কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষককে একাধিক অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে যোগ্য ও অভিজ্ঞ পুরাতন শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সাংবাদিক সমিতিসহ লেখালেখি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জাতীয় দিবস ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসসহ বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য বাজেট থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন করা হয় না বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম। তিনি বলেন,এসব অভিযোগ সত্য নয় এবং এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
 
এদিকে এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা  নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এমএসএম / এমএসএম

কাউনিয়ায় কোরবানির পশুর বাজার চাঙা, খামারিদের মুখে স্বস্তির হাসি

বড়লেখায় আকিলা ফারহার ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন

মুকসুদপুর ডাচ বাংলা ব্যাংকের উপ-শাখার উদ্বোধন

পঞ্চগড়ের বোদায় বোরো মৌসুমের ধান-গম ও চাল সংগ্রহ শুরু

অভয়নগরে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন

ফুলছড়ি উপজেলায় কৃষি, পুষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম,দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

সুবর্ণচরে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি

পেকুয়ায় ভূমি মেলা উদ্বোধন

ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, টুঙ্গিপাড়ায় যুবকের সংবাদ সম্মেলন

জুড়ীতে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন

বরগুনায় বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে,গণধর্ষণে শিকার গৃহকর্মী

বাঘায় গোলাগুলিতে নিখোঁজ স্বপন, আহত ১; লাশ নিয়ে গেছে দুষ্কৃতকারীরা