ঢাকা সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

আলফাডাঙ্গায় জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগ: তদন্তে মিলল সত্যতার প্রাথমিক প্রমাণ, নামজারি বাতিল


শাহিদুল ইসলাম, আলফাডাঙ্গা photo শাহিদুল ইসলাম, আলফাডাঙ্গা
প্রকাশিত: ৪-৬-২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

 ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জাল দলিল, ভুয়া ছবি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে অন্যের জমি নিজের নামে নামজারি করার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সহিদুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নেমে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন সাংবাদিকরা। এদিকে তদন্ত শেষে অভিযুক্তের নামে করা নামজারি বাতিল করেছে ভূমি প্রশাসন।
সংবাদ সম্মেলনে সহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় দুই মাস আগে তাঁর বাবা মো. অলিয়ার রহমান তাঁর মালিকানাধীন ৩ শতাংশ জমি দানপত্রের মাধ্যমে তাঁর নামে লিখে দেন। জমিটির খতিয়ান নম্বর ৩৫১ এবং দাগ নম্বর ২৫৮। পরবর্তীতে গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে তিনি জমিটি নিজের নামে নামজারির জন্য আবেদন করেন। যার আবেদন নম্বর ৭৬৪০। শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ১৩ মে।
কিন্তু শুনানি শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন কোনো অগ্রগতি না দেখে তিনি আলফাডাঙ্গা ভূমি অফিসে যোগাযোগ করেন। সেখানে তিনি জানতে পারেন, তাঁর আবেদনকৃত জমি ও বসতভিটা ইতোমধ্যে অন্য একজনের নামে নামজারি হয়ে গেছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্যাম কাজী ২০০৮ সালের ৭৯১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে ওই জমির নামজারি সম্পন্ন করেছেন। সংশ্লিষ্ট নথিতে দাতা হিসেবে অলিয়ার রহমানসহ আরও দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়।
এ তথ্য জানার পর সহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভূমি অফিসে সংরক্ষিত দলিলের কপিতে ব্যবহৃত ছবি ও স্বাক্ষর তাঁর বাবার নয়। পরে তিনি আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে ৭৯১ নম্বর দলিল তল্লাশি করেন। সেখানে দেখা যায়, দাতা হিসেবে কেবল মজিবর রহমান ও শামেলা বেগমের নাম রয়েছে। অলিয়ার রহমানের নাম বা তাঁর জমি হস্তান্তরের কোনো তথ্য দলিলে নেই।
সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকরা বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত মূল দলিলের তথ্য এবং নামজারির আবেদনে ব্যবহৃত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এ কারণে সহিদুল ইসলামের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
পরে বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান-এর নজরে আনা হলে তিনি দলিলপত্র যাচাই-বাছাই করে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে অন্যের ছবি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে অবৈধভাবে নামজারি করার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় শ্যাম কাজীর নামে করা নামজারি বাতিল করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, “জাল দলিলের মাধ্যমে করা নামজারিটি আইনগত প্রক্রিয়ায় বাতিল করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। মূল অভিযুক্ত শ্যাম কাজীকে না পাওয়ায় তার ছেলে হৃদয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি জালিয়াতির বিষয়ে প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।”
তবে ভুক্তভোগী সহিদুল ইসলামের অভিযোগ, নামজারি বাতিলের পরও মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি জাল দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহারকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভূমি সংক্রান্ত নথিতে জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদেরউপযুক্ত শাস্তির দাবি করে।

এমএসএম / এমএসএম

তারাগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচিতে এমপি ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা

বিতর্কিত এসআই নেয়ামতের বিরুদ্ধে ঘুষ-চাঁদাবাজির মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

গৌরনদীতে গভীর রাতে সৌদি প্রবাসীর বাড়ির দেয়াল ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর

রূপসার ফখরুল হত্যার ঘটনায় ‘কাটাপ্পা’ গ্রেপ্তার

কাছাইট গ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান মহারাজ আর নেই

শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে পেকুয়ায় গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম

অভয়নগরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন, চার চাষিকে পুরস্কার

শ্রীনগরে মদ্যপ অবস্থায় কৃষক দল নেতার নাচগানের ভিডিও ভাইরাল

পটুয়াখালীতে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ছয় দফা দাবিতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন-সহস্রাধিক শিক্ষার্থী-অভিভাবকের অংশগ্রহণ

উলিপুরে জাতীয় মৎস পক্ষের উদ্বোধন

মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন

চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে কিশোর রাহুলের জীবন