আলফাডাঙ্গায় জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগ: তদন্তে মিলল সত্যতার প্রাথমিক প্রমাণ, নামজারি বাতিল
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জাল দলিল, ভুয়া ছবি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে অন্যের জমি নিজের নামে নামজারি করার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সহিদুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নেমে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন সাংবাদিকরা। এদিকে তদন্ত শেষে অভিযুক্তের নামে করা নামজারি বাতিল করেছে ভূমি প্রশাসন।
সংবাদ সম্মেলনে সহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় দুই মাস আগে তাঁর বাবা মো. অলিয়ার রহমান তাঁর মালিকানাধীন ৩ শতাংশ জমি দানপত্রের মাধ্যমে তাঁর নামে লিখে দেন। জমিটির খতিয়ান নম্বর ৩৫১ এবং দাগ নম্বর ২৫৮। পরবর্তীতে গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে তিনি জমিটি নিজের নামে নামজারির জন্য আবেদন করেন। যার আবেদন নম্বর ৭৬৪০। শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ১৩ মে।
কিন্তু শুনানি শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন কোনো অগ্রগতি না দেখে তিনি আলফাডাঙ্গা ভূমি অফিসে যোগাযোগ করেন। সেখানে তিনি জানতে পারেন, তাঁর আবেদনকৃত জমি ও বসতভিটা ইতোমধ্যে অন্য একজনের নামে নামজারি হয়ে গেছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্যাম কাজী ২০০৮ সালের ৭৯১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে ওই জমির নামজারি সম্পন্ন করেছেন। সংশ্লিষ্ট নথিতে দাতা হিসেবে অলিয়ার রহমানসহ আরও দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়।
এ তথ্য জানার পর সহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভূমি অফিসে সংরক্ষিত দলিলের কপিতে ব্যবহৃত ছবি ও স্বাক্ষর তাঁর বাবার নয়। পরে তিনি আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে ৭৯১ নম্বর দলিল তল্লাশি করেন। সেখানে দেখা যায়, দাতা হিসেবে কেবল মজিবর রহমান ও শামেলা বেগমের নাম রয়েছে। অলিয়ার রহমানের নাম বা তাঁর জমি হস্তান্তরের কোনো তথ্য দলিলে নেই।
সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকরা বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত মূল দলিলের তথ্য এবং নামজারির আবেদনে ব্যবহৃত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এ কারণে সহিদুল ইসলামের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
পরে বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান-এর নজরে আনা হলে তিনি দলিলপত্র যাচাই-বাছাই করে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে অন্যের ছবি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে অবৈধভাবে নামজারি করার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় শ্যাম কাজীর নামে করা নামজারি বাতিল করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, “জাল দলিলের মাধ্যমে করা নামজারিটি আইনগত প্রক্রিয়ায় বাতিল করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। মূল অভিযুক্ত শ্যাম কাজীকে না পাওয়ায় তার ছেলে হৃদয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি জালিয়াতির বিষয়ে প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।”
তবে ভুক্তভোগী সহিদুল ইসলামের অভিযোগ, নামজারি বাতিলের পরও মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি জাল দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহারকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভূমি সংক্রান্ত নথিতে জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদেরউপযুক্ত শাস্তির দাবি করে।
এমএসএম / এমএসএম
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত ১, বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জে সওজের দখলকৃত জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে: নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম
কুমিল্লায় মেঘনা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল বন্ধ
হালদা নদীর প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষায় হাটহাজারী মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান
চৌগাছায় লেপ তোশকের গোডাউনে আগুন প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি
বাগেরহাটে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ বিত্রেুতা গেফতার
আদমদীঘি প্রেসক্লাবে বিএনপি নেতার মতবিনিময়
বাজেটকে কেন্দ্র করে পাবনায় আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
সাংবাদিকদের দেখেই ক্ষেপে গেলেন,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সুমী আক্তার
রায়গঞ্জে নারী অধিকার ও জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় মতবিনিময় সভা
প্রবাসীদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগটন "নয় বাড়ীয়া ফোরাম"র নতুন কমিটি ঘোষণা
লামায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত