সাঘাটার জুমারবাড়ি ইউনিয়ান পরিষদে সেবার নামে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এসে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন সংশোধন, নাগরিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এ সময় বিভিন্ন সেবা নিতে আসা নারী-পুরুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি আসতেছি।” তবে নির্ধারিত অফিস সময় পার হলেও তাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি।
ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন গ্রাম ও যমুনা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল থেকে আসা সেবাপ্রার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কেউ জন্মনিবন্ধন সংশোধন, কেউ নাগরিক সনদ সংগ্রহ, আবার কেউ সরকারি ভাতা সংক্রান্ত কাজে এসেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের সময়মতো না পাওয়ায় একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে আসতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল নিয়মিত সময়মতো অফিসে উপস্থিত হন না। অনেক সময় দুপুরের পরও তাকে পাওয়া যায় না। ফলে দুর্গম চরাঞ্চল থেকে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল ও উদ্যোক্তা বুলবুল বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। অনেক ক্ষেত্রে কাগজপত্রে ইচ্ছাকৃত ভুল ধরা, অনলাইন জটিলতার অজুহাত দেখানো কিংবা ফাইল আটকে রেখে পরে টাকা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে।
সেবা নিতে আসা আবিদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কাগজে ভুল ধরা হয়। পরে বলা হয় অতিরিক্ত টাকা দিলে দ্রুত কাজ হবে, না হলে কাজ আটকে থাকবে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এটি একটি কৌশল।
জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বসন্তেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনিকা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমার কাছ থেকে চার হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপর সাত মাস ধরে নানা অজুহাতে আমাকে ঘুরানো হচ্ছে।
একই গ্রামের আব্দুল মাওলা বলেন,আমার ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন জরুরি ছিল। এ কাজ করে দেওয়ার কথা বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তা বুলবুল আমার কাছ থেকে আট হাজার টাকা নেন। পরে দিনের পর দিন ঘোরানোর পর তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে আমার কাজ সম্পন্ন করে দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ প্রদান না করলে অনেক ক্ষেত্রে সেবা পেতে বিলম্ব হয়। এতে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল বলেন,আজ একটু দেরি হয়েছে।” অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো কাজ আমি করিনি।
উদ্যোক্তা বুলবুল বলেন, যেসব কাগজপত্রে ভুলের অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ২০১১-১২ সালে হাতে লেখা ছিল। এসব ভুল আবেদনকারীদের তথ্যগত ত্রুটির কারণে হয়েছে। তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তার দেরিতে অফিসে আসার বিষয়টি জানা গেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএসএম / এমএসএম
সাভারে শ্রমিকদের তাণ্ডব, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ১০
সাভারে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে রণক্ষেত্র
টঙ্গীতে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে বিএনপির সতর্ক অবস্থান
জমি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ পিতাকে গাছের নিচে ফেলে দিল সন্তানেরা
তাড়াশে লক্ষ টাকার সরকারি গাছ কেটে নিলেন দুই প্রভাবশালী
নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মানোন্নয়নে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা
কাউনিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
কাঁঠালবাড়ী ও হলোখানায় জে এফ এগ্রোর উদ্যোগে বীজ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মতবিনিময় সভা
শালিখায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা
ধুনট থানার ওসি আতিকুলকে জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ: স্থানীয়দের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ভিডিও কন্টেন তৈরীর আড়ালে চাঁদাবাজী, ব্লাকমেইল, পর্নোগ্রাফি মামলায় মামুন গ্রেফতার
শ্যামনগরে দুর্যোগ প্রতিরোধী সম্প্রদায় স্থাপন প্রকল্প-২ এর প্রজেক্ট ইনসেপশন মিটিং অনুষ্ঠিত