টাঙ্গাইলে দুই গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ১, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি
একটি মুদি দোকানের বাকির টাকা দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সামান্য বিরোধ রূপ নিয়েছে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডিতে। টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে চার ঘণ্টাব্যাপী রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে। এই বর্বর সহিংসতায় কালাম তালুকদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন এবং পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৬টা থেকে গোপালপুরের গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুরের জগৎপুরা এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত প্রায় দেড় মাস আগে। একটি দোকানে বাকির টাকা পরিশোধ করাকে কেন্দ্র করে গোপালপুরের গোলপেঁচা ও ভূঞাপুরের জগৎপুরা গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রথম দফায় মারামারি হয়। সেই ক্ষোভের আগুন নেভেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সেই পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
দেখতে দেখতেই দুই গ্রামের শত শত মানুষ লাঠি, রামদা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এই দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দা কালাম তালুকদার।
সংঘর্ষের সময় ক্ষুব্ধ জনতা প্রতিপক্ষের অন্তত ১০-১১টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তেই ছাই হয়ে যায় অনেক পরিবারের স্বপ্ন। শুধু অগ্নিসংযোগই নয়, বাড়িঘর ভাঙচুর করে গোয়ালের গরু-বাছুর, গোলার ধান এবং মূল্যবান গৃহস্থালি সামগ্রী লুটেরও অভিযোগ উঠেছে।
এখানেই শেষ নয়, রাত ৮টার দিকে গোপালপুরের নলিন বাজারে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, বেছে বেছে কয়েকটি নির্দিষ্ট দোকানে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে মালামাল লুট করা হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীদের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে এই ভয়াবহ এই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন ভূঞাপুর থানার ৫ জন পুলিশ সদস্য। এছাড়া গুরুতর আহত যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অন্তত ১৫-২০ জনকে স্থানীয় হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাব্বির রহমান জানিয়েছেন, "সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আমাদের পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।"
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, "জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আজ সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।"
এমএসএম / এমএসএম
বিএনপি নেতার আঘাতে গর্ভপাত গর্ভবতীর, বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ
আদমদীঘিতে নিখোঁজ কিশোরীকে ঘিরে রহস্য, লাইভে বাবার অভিযোগ অস্বীকার করলেন মেয়েটি
রফিকুলকে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করলো র্যাব
বাঘায় পৌর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির লিখিত অভিযোগ, অফিসে উত্তেজনা
পেকুয়ায় নিজ উদ্যোগে কালভার্ট সংস্কার করলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি
নওগাঁয় এনসিপির দুই নেতাকে শোকজ
বিএসএফ'র ১৭জনকে পুশইনের চেষ্টা, শূন্য রেখায় আটকে দিল বিজিবি
বাকেরগঞ্জে ইউনিক পরিবহনের বাস গাড়ি খাদে পড়ে আহত ১০ জন
মোংলায় ভুয়া র্যাব সদস্য গ্রেফতার, জাল পরিচয়পত্র উদ্ধার
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে অসহায় পুতুল রাণীর পাশে দাঁড়াল ভয়েস অব ঝিনাইগাতী
রায়পুরে খাল পুন: খননে চাঁদাবাজির অভিযোগ
সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র-গুলি ও হরিণের মাথাসহ করিম শরীফ বাহিনীর ডাকাত বাচ্চু গ্রেপ্তার
পেকুয়ায় খাবারে বিষক্রিয়ায় একই পরিবারের ৭ জন হাসপাতালে
Link Copied