ঢাকা শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

কুড়িগ্রামের ৪০০ বছরের কালের সাক্ষী চান্দামারী মসজিদ


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি photo কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬-৬-২০২৬ দুপুর ২:৫৯

একটি প্রাচীন স্থাপনা হিসেবে  সাক্ষী হয়ে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চান্দামারী মসজিদটি। সারে ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এ মসজিদটি স্থানীয় মুসল্লীদের ধর্ম চর্চার কেন্দ্রবিন্দুর পাশাপাশি ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। কালের বিবর্তনে আশপাশের পরিবেশ ও সংস্কৃতি বদলালেও মসজিদটি এখনো আপন মহিমায় বীরদর্পে দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে প্রাচীন আমলের রাজা-বাদশাদের রুচি ও মানুষিকতার প্রতিচ্ছবি। সময় বদলালেও এখনো বললায়নি মসজিদের অবয়ব। এখনো দূর থেকে জ্বল জ্বল করে চুন, ইট, সুরকি দিয়ে পড়া কারিগরদের সুনিপুণ হাতের কারুকার্য। 

বাংলার গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্তে সরিয়ে রয়েছে দর্শনীয় অনেক প্রাচীন আমলের মসজিদ। এই মসজিদ শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে নয় বরং স্থানীয় সাংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 


চান্দামারী মসজিদটি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে চান্দামারী মন্ডলপাড়া গ্রামে অবস্থিত। এলাকার নাম চান্দামারী হওয়ায় তার সাথে মিল রেখে মসজিদের নামকরণ করা হয় বলে ধারণা। একসময় স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলো মসজিদটি কিন্তু বর্তমান আধুনিক যুগে এর পরিচিতি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

সেসময়ে মসজিদের চারপাশে ছিলো বিস্তীর্ণ খোলা জায়গা, খেলার মাঠ, বড় বড় গাছপালা, ঝোপঝাড় ও পুকুর-জলাশয়। দূরদূরান্তের গ্রাম গুলোতে বসবাস করা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই মসজিদে আসতো নামাজ আদায় করার জন্য। 

কালের বিবর্তনে মসজিদের আশপাশের বড় বড় গাছগুলো বিলুপ্ত হয়েছে, পুকুর-জলাশয় গুলো ভরাট করে নির্মাণ করে হয়েছে বাড়ি-ঘর, গড়ে উঠেছে দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা। তবে এতো কিছুর পরিবর্তনের পরও স্থানীয় মানুষদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মসজিদটি জড়িয়ে আছে ওতোপ্রোতভাবে। চান্দামারী মসজিদটি এখন শুধু মুসল্লীদের নামাজের জায়গাই নয়, একটি আবেগের নাম। 

স্থানীয় সূত্র ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী  চুন, ইট ও সুরকি দিয়ে তৈরি করা সাদা ধবধবে চান্দামারী মসজিদটির আনুমানিক বয়স সাড়ে চারশো বছর। মসজিদটি ৫১ শতক জায়গার উপর গড়ে তোলা হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ ২২ ফুট। মসজিদের উপরে ৩ টি বড় গম্বুজ আছে যার ব্যাসার্ধ ৫.৫০ ফুট। প্রতিটি গম্বুজের গায়েই দৃষ্টিনন্দন নকশা করা। মসজিদটির সামনে পাঁচ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ৩ টি দরজা আছে। এর চারকোনায় ৪ টি মাঝারি আকৃতির মিনার ও চারদিকে ঘিরে আছে আরো ১৬ টি ছোট গম্বুজ। বাতাস চলাচলের জন্য উত্তর-দক্ষিণে একটি করে জানালা আছে। মসজিদের গায়ে অনেকগুলো খিলান আছে এবং সামনে রয়েছে বড় একটি পুকুর।

মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়না তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনে ধারণা করা হয় এটি নির্মাণ করা হয় মুঘল আমলে।

রাজারহাট আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাকির হোসেনের সংগ্রহে থাকা 'ইতিহাস (বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর)' গ্রন্থে উল্লেখ আছে, আনুমানিক ১৫৮৪ থেকে ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মসজিদটি নির্মিত। স্থাপত্যে সুলতানি আমলের শিল্প বৈশিষ্ট্য ও মোঘল ধাঁচের সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয়দের কেউ কেউ ভারতের বাবরি মসজিদ এবং বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ-এর সঙ্গে এর স্থাপত্যের সাদৃশ্যের কথা বলেন। যদিও গম্বুজের সংখ্যা কম, তবু কারুকাজ ও গাঁথুনির দৃঢ়তায় চান্দামারী মসজিদ নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ধরে রেখেছে।

দীর্ঘ সাড়ে চারশো বছরের ইতিহাস চান্দামারী মসজিদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এ মসজিদটি। 

মসজিদে নামাজ পড়তে আসা ৭৫ বছর বয়সী  করিম আলী বলেন 'আমরা ছোটবেলায় দাদার হাত ধরে নামাজ পড়তে আসতাম এই মসজিদে। দাদার কাছে গল্প শুনেছি সেও নাকি তার দাদার সাথে নামাজ পড়তে আসতেন। এ মসজিদের বয়স কতো কেউ বলতে পারেনা। একসময় অনেক দূর থেকে নিয়মিত মুসল্লীরা আসতো এখানে নামাজ পড়তে। এখন এলাকায় অনেক সুন্দর সুন্দর মসজিদ তৈরি হয়েছে তবুও অনেকেই শখের বশে এখানেই আসে, বিশেষ করে শুক্রবারের নামাজে বাইরের লোক বেশি আসে।'

বাদশা মিয়া  নামের  ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বলেন, শুনেছি এ মসজিদ তৈরি করতে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। চুন, ইট আর সুরকি দিয়ে পুরো মসজিদের কাজ করা হয়েছে। এ মসজিদকে ঘিরে অনেক অলৌকিক গল্পও আছে। কয়েক বছর আগে মসজিদের সামনের অংশ বাড়াতে দেয়ালে বড় হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছিলো। আঘাত করতেই আগুনের ফুলকি বের হয় কিন্তু দেয়াল একটুও ভাঙেনা।

জানা যায়, রমজান মাসে মসজিদটি আরো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তারাবির নামাজ, কোরান তেলোয়াত ও ধর্মীয় নানা আলোচনায় মুখরিত থাকে পুরো এলাকা। অতীতে নিয়মিত ধর্মীয় মাহফিলের আয়োজন করা হতো। আশপাশের কয়েক গ্রাম থেকে মুসল্লীরা অংশ নিতো মাহফিলের আয়োজনে। এর ফলে এই একার সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন আরো দৃঢ় হয়েছিলো এ মসজিদের মধ্যমে।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ' ইতিহাস গবেষণা চক্রের সদস্য খন্দকার আরিফ বলেন, 'মসজিদের গায়ে কোথাও কোনো নির্মাণ সন লেখা নেই তবে এর নির্মান শৈলী দেখে ধারণা করা হয় এটি মুঘল আমলের তৈরি। মসজিদটির কিছু কিছু জায়গায় পলেস্তরা খসে নষ্ট হয়ে গেছে। এটি না ভেঙে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে কুড়িগ্রাম জেলার অন্যতম প্রাচীন নিদর্শনের সাক্ষী হয়ে থাকবে।'

তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা,  রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে মসজিদটি আরো দীর্ঘ বছর টিকে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে বিবেচিত হবে।

এমএসএম / এমএসএম

প্রকৃত ও তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক কাজ করে ১১ বছরে "সারা আনোয়ারা"

সুবর্ণচর উপজেলা সমিতি চট্টগ্রাম'র সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক কে ফুলেল শুভেচ্ছা

ধুনটের তরুণ নাঈমের বিশ্বজয়, আন্তর্জাতিক আসরে দুই স্বর্ণপদক

মেহেরপুরে সীমান্তে ৬ জনকে পুশইন করলো বিএসএফ, প্রতিরোধ বিজিবির

ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে লাখ টাকা জরিমানা

‎মুখ চেপে ধরে নারীকে বিলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩

কাশিয়ানীতে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে ট্রেনের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

কচাকাটায় ৯ বছরের শিশুকে গলায় ফাঁস অবস্থায় উদ্ধার

পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শাহিন কে পদ থেকে অপসারণের ষড়যন্ত্র ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা

‎ভারত থেকে ফিরছেন ৯১ জেলে, কুতুবদিয়ার ৭৭ জনের অপেক্ষার অবসান

নেত্রকোণার দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে এক কিশোরীকে ভারতে পাচারের সময় পাচারকারী আটক

ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবদলের জনপ্রিয় নেতা, মোশারফ

কুড়িগ্রামের ৪০০ বছরের কালের সাক্ষী চান্দামারী মসজিদ