ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

তীব্র গরমে বারহাট্টায় কদর বেড়েছে তালের শাঁসের


বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি photo বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪-৬-২০২৬ দুপুর ২:৬

তীব্র গরমে একটু স্বস্তি পেতে, শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে এবং পুষ্টির চাহিদা মেটাতে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজারগুলোতে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল তালের শাঁস বিক্রি। গরমের এই সময়ে তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও পরিশ্রমী মানুষের কাছে তালের শাঁসের কদর সবচেয়ে বেশি।

তীব্র গরমে জনজীবন যখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই একটু স্বস্তি পেতে ও শরীর ঠাণ্ডা রাখতে মানুষ ছুটছেন প্রাকৃতিক এই শীতল খাদ্যের দিকে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বেড়েছে তালের শাঁস বিক্রেতাদের আনাগোনা।

সপ্তাহ জুড়ে সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বিক্রি করছেন তালের শাঁস। অন্যদিকে উৎসুক নানা শ্রেণী-পেশার শার মানুষ ভীড় জমিয়ে আগ্রহের সঙ্গে ক্রয় করেখ খাচ্ছেন অথবা বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। প্রচুর পরিমাণে ছোট তাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে গাছ থেকে তাল সংগ্রহ করে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে সরবরাহ করছেন। এ এলাকায় দুই রকম তালের জাত দেখা যায়। একটি কালছে রঙ্গের আর একটি ধূসর হলদে বর্ণের। স্থানীয় বাজারে এক একটি গোটা তাল খুচরা ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি তালে দুই থেকে চারটে আটি হয়। প্রতিটি আটির ভিতরে থাকে শাঁস। এসব তাল শাঁস আকৃতি ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এসব দোকানে শ্রেণি পেশার মানুষ তালের শাঁস কিনতে ভিড় করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহর থেকে গ্রাম বিভিন্ন হাট-বাজারে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।

উপজেলা সদর এলাকার গোপালপুর বাজারের মৌসুমী তালের শাঁস বিক্রেতা সেলিম রেজা, আব্দুল করিম, বাউসী বাজারের সুজন মিয়া, জজ মিয়া, সাহতা বাজারের লাল চাঁন, রতন দাসের সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কচি তাল কিনে সংগ্রহ করি। তালের সংখ্যা ও আকার ভেদে একটি গাছের তালের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। প্রতি পিস তাল পাইকারিতে ৫ থেকে ৭ টাকা এবং খুচরায় ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হয়। গরমে তাল শাঁসের চাহিদা সব সময়ই বাড়ে। এবার নজিরবিহীন গরমে তাল শাঁসের চাহিদা বেড়েছে প্রচুর। তবে বর্তমানে তাল গাছ কমে যাওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে তাল ক্রয় করে আনতে হয়।

বাজারে তালের শাঁস কিনতে আসা ক্রেতাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, মৌসুমী ফল তালের শাঁস একটি লোভনীয় খাবার। তালের শাঁস মৌসুমি ও সুস্বাদু একটি ফল। তাই প্রতি বছরই এই সময় তালের শাঁস খাওয়ার চেষ্টা করি। তীব্র গরমে রাসায়নিকযুক্ত কোমল পানীয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর তালের শাঁস শরীর ঠান্ডা রাখতে দারুণ কার্যকর। তাই তৃষ্ণা মেটাতে তালের শাঁসই আমাদের প্রথম পছন্দ। প্রতি বছর গরমে তাল শাঁস কিনে খাই। নরম শাঁস খেতে অনেক ভালো লাগে। ছেলে-মেয়েরাও তাল শাঁস খেতে পছন্দ করে তাই বাড়ির জন্য কয়েকটা কিনে নিয়ে যাচ্ছি। আকৃতি ভেদে প্রতিটি তাল ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গাছ মালিকরা জানান, ২০ থেকে ৩০ বছর আগেও আমাদের এলাকায় প্রচুর পরিমানে তাল গাছ ছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গাছের সংখ্যা অনেক কমেগেছে পাশাপাশি ফলের সংখ্যাও তুলনামূলক কমেগেছে। তাই তালের সরবরাহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। তবে নতুন গাছগুলো বড় হলে এবং ফলন ধরলে এ মৌসুমি ফলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক বলেন, প্রাকৃতিকভাবে শীতল, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে তালের শাঁস মানুষের কাছে এক অনন্য প্রশান্তির উৎস হয়ে উঠেছে। কঁচি তালের বিচিতে থাকে রস। তালের শাঁসের মিষ্টি রস খেতে শিশুরাতো বটেই সবাই বেশ পছন্দ করে। ছোট তালের বিচিতে রস বেশি থাকে। বড় হলে শাঁস শক্ত হয়ে যায়। খেতে ভালো লাগে না। সাধারণত ছোট ও মাঝারি সাইজের তাল ভালো চলে। সবাই ছোট সাইজের তাল বেশি পছন্দ করে। তাই ছোট তালের চাহিদাও অনেক বেশি। আমার পরিবারের সবাই তাল শাঁস খুব পছন্দ করে। তাই সুযোগ পেলেই তাল শাঁস কিনে নিয়ে যাই।

তিনি আরও বলেন, আগেকার দিনে গ্রামাঞ্চলের বসতবাড়ির আশপাশে ভিটা বাড়ি, পুকুর পাড়ে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে তালগাছ দেখা গেলেও বর্তমানে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়াও বজ্র নিরোধক হিসেবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তালবীজ বপন কার্যক্রম চলমান থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তালশাঁসের প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ ও পানি রয়েছে। এছাড়া এতে অনেক আঁশ রয়েছে। গরম শরীরে কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তালের শাঁস খাওয়া ভালো। তালের শাঁস পানি শূন্যতা দূর করে। দেহকে রাখে ক্লান্তিহীন। খাবারে রুচি বাড়িয়ে দেয়। তাল শাঁসে থাকা উপকারী উপাদান লিভার সমস্যা ও রক্ত শূন্যতা দূরিকরণে দারুণ ভূমিকা রাখে। এতে রয়েছে আয়োডিন, মিনারেলস, পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও ফসফরাস। তাছাড়া ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে ভরপুর তাল শাঁস। বিভিন্ন রোগের পথ্য হিসেবেও কাজ করে তাল শাঁস। ত‌বে অবশ‌্যই পরিস্কার পরিছন্নভাবে খে‌তে হ‌বে নয়‌তো ডায়েরিয়ার ঝুঁকি থাকবে।

এমএসএম / এমএসএম

নরসিংদী জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

ফরহাদ মজহারের প্রভাব নিয়ে কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগে নতুন বিতর্ক!

সান্তাহারে অঅলোচিত শিশু রাকার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে শিক্ষক শিক্ষার্থিদের মানববন্ধন

‘গুমের নাটক সাজিয়ে সরকারকে দোষারোপ’, বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

জনপ্রিয় নেতা ওয়াহেদুজ্জামানের মৃত্যুতে কাঁদছে নেছারাবাদ,জানাজা দাফনের সিদ্ধান্ত

তীব্র গরমে বারহাট্টায় কদর বেড়েছে তালের শাঁসের

উলিপুরে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে এক ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু

বেনাপোল বন্দরের ৪ কর্মকর্তার নামে মামলা: ধরাছোঁয়ার বাইরে রাঘব বোয়ালরা

মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় করা যাবে না : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

আশুগন্জে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ

বাগেরহাট খুলনা ও বরিশাল বাস মালিক সমিতির অনির্দিষ্টকালের ডাকা পরিবহণ ধর্মঘট প্রশাসনের আশ্বাসে প্রত্যাহার

চসিক’র সিইও নেই ১০ মাস, সেবায় স্থবিরতা