দাউদকান্দিতে শিবির নেতা জিসানকে ঘিরে রহস্য: নিখোঁজ দাবি, ধর্ষণ মামলা ও স্বেচ্ছায় আত্মগোপনের তথ্য
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়াকে ঘিরে নিখোঁজের দাবি, ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ এবং স্বেচ্ছায় আত্মগোপনের তথ্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তৎপরতা দেখা দেয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন রাত প্রায় ৮টার দিকে জিসান তার বাবার সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলে কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি ফেরার কথা জানান। কিন্তু রাত গভীর হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় ও হোয়াটসঅ্যাপের কভার ছবি পরিবর্তন হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়ে।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে দাউদকান্দি মডেল থানার ডিউটি অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করা হলে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গভীর রাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা পরদিন সকালে থানায় যান।
১২ জুন সকাল ৯টার দিকে জিসানের পরিবারের পক্ষ থেকে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরই মধ্যে জিসানের বড় ভাই রাসেল আহমেদ রাফির কাছে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে প্রথমে ২০ হাজার এবং পরে কান্নার শব্দ শোনানোর মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা পাঠানো হলে পুলিশ নম্বরটির লাইভ লোকেশন ট্র্যাক করে সেটিকে প্রতারণার ঘটনা হিসেবে শনাক্ত করে।
এদিকে জিসানের নিখোঁজের খবর বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনাটিকে গুম হিসেবে আখ্যায়িত করে সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। এক বিরোধী রাজনৈতিক নেতার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এ বিষয়ে পোস্ট দেওয়া হলে প্রশাসনের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্তে দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারীর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী তদন্ত টিম গঠন করা হয়। এতে সার্কেল এএসপি, কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য এবং থানার একাধিক কর্মকর্তা অংশ নেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে জিসানের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, লিজা নামে এক নারীর সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পরে জিসানের চাচাতো ভাই সজিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোলাম রাব্বি ও পরে নৈয়াইর বাজারের ওষুধ বিক্রেতা সেকান্দারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে লিজা নামে এক বিধবার সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল। পরে পুলিশ লিজাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে।
এদিকে ১২ জুন সকাল থেকেই জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেলে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল এবং সন্ধ্যায় মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে।
পরে লিজা জিসানসহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সজিব, সেকান্দার, গোলাম রাব্বি ও লিজাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ১২ জুন রাত প্রায় ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় জিসানকে মুমূর্ষু ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে লাকসাম থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়ার পর কয়েকদিন তাকে স্যালাইনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গত সোমবার মেডিসিন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সাদ্দাম জানান, জিসানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তার প্রস্রাবের নল ও স্যালাইন খুলে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি মুখে খাবার গ্রহণ করছেন। ইসিজি ও ব্রেইনের সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট পর্যালোচনার পর তার অবস্থা আরও স্পষ্টভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত সোমবার একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে এবং পর্যালোচনা শেষে তাকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার সকালে জিসানকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে গত ১২ জুন গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে সজিব ও সেকান্দারের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার বাদী লিজার ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে ঘটনার পর থেকে জিসান ও লিজার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত শনিবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জিসানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়নি। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, সিডিআর বিশ্লেষণ এবং আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিজাকে ১২ জুন বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ১১ জুন রাতে জিসান নিজেই স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে চলে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমএসএম / এমএসএম
একদিনে ১১ জনকে ঘিরে পুলিশের তৎপরতা: ১০ জন আদালতে, নিখোঁজ যুবক ফিরলেন পরিবারের কাছে
জয়পুরহাটে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের আনন্দ উৎসব ও পুরস্কার বিতরণী
সিংড়ায় মৎস্যচাষীদের মাঝে মৎস্য উপকরণ বিতরণ
আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্সবিহীন ২০ মাদরাসা বাণিজ্যের নেপথ্যে অলিউল্লাহ
পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন বিএনপি সভাপতি ডালিম
নওগাঁ শহরের নিরাপত্তায় ডিজিটাল নাইট ভিশন এআই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থপনের উদ্যোগ পুলিশ সুপারের
চাঁদপুরে বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত
নেত্রকোণায় নিরাপদ খাদ্যের সচেতনতা বাড়ানো বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত।
সাভারে আই সেন্টার পরিদর্শন ও মানোন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল
সলঙ্গার রয়্যাল রূপালী হোটেলের অধিকাংশ স্টাফের নেই স্বাস্থ্য সনদ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দূরপাল্লার যাত্রীরা
দাউদকান্দিতে শিবির নেতা জিসানকে ঘিরে রহস্য: নিখোঁজ দাবি, ধর্ষণ মামলা ও স্বেচ্ছায় আত্মগোপনের তথ্য
শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল, চিরনিদ্রায় শায়িত ওয়াহেদুজ্জামান ওয়াহিদ