সলঙ্গার রয়্যাল রূপালী হোটেলের অধিকাংশ স্টাফের নেই স্বাস্থ্য সনদ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দূরপাল্লার যাত্রীরা
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গায় হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের পাশে রামারচর এলাকায় অবস্থিত রয়্যাল রূপালী হোটেলের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সনদ (হেলথ সার্টিফিকেট) না থাকার অভিযোগ উঠেছে। হোটেলটির মালিক ও ম্যানেজারের ছাড়া রান্নাঘরের কর্মী, বাবুর্চি, ওয়েটার এবং খাদ্য প্রস্তুতকারীদের অধিকাংশেরই কোনো স্বাস্থ্য সনদ নেই। ফলে হোটেলে খাবার গ্রহণকারী দূরপাল্লার যাত্রী ও অন্যান্য গ্রাহক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করেন। নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রীবাহী বাসগুলো নিয়মিত যাত্রাবিরতি দেয় রয়্যাল রূপালী হোটেলে। এছাড়া ভারতগামী যাত্রীদেরও একটি অংশ এই সড়ক ব্যবহার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের খাবারের চাহিদা পূরণে নিয়োজিত কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অথচ নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক রেস্টুরেন্টে কর্মরত খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য সনদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্না বা পরিবেশনের দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মী টাইফয়েড, জন্ডিস, যক্ষ্মা কিংবা চর্মরোগের মতো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে তা খাবারের মাধ্যমে গ্রাহকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া খাদ্য পরিবেশন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
হোটেলে খাবার খেতে আসা কয়েকজন দূরপাল্লার যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাত্রাপথে বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশের হোটেলগুলোতে খাবার খেতে হয়। কিন্তু খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনকারী কর্মীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আছেন কি না, তা নিশ্চিত না হলে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেই যায়। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা মহাসড়কের পাশের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা রয়্যাল রূপালী হোটেলে স্বাস্থ্যবিধি ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রয়্যাল রূপালী হোটেলের মালিক আল আমিন হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লাপাড়া উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম বলেন, রয়্যাল রূপালী হোটেলের কোন কর্মীর স্বাস্থ্য সনদ আছে কি না দেখে জানাবো।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন বলেন, খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে জড়িত কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য সনদ থাকা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কোনো হোটেল বা রেস্টুরেন্টে কর্মরত খাদ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য সনদ না থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের করা হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা সকল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
এমএসএম / এমএসএম
একদিনে ১১ জনকে ঘিরে পুলিশের তৎপরতা: ১০ জন আদালতে, নিখোঁজ যুবক ফিরলেন পরিবারের কাছে
জয়পুরহাটে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের আনন্দ উৎসব ও পুরস্কার বিতরণী
সিংড়ায় মৎস্যচাষীদের মাঝে মৎস্য উপকরণ বিতরণ
আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্সবিহীন ২০ মাদরাসা বাণিজ্যের নেপথ্যে অলিউল্লাহ
পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন বিএনপি সভাপতি ডালিম
নওগাঁ শহরের নিরাপত্তায় ডিজিটাল নাইট ভিশন এআই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থপনের উদ্যোগ পুলিশ সুপারের
চাঁদপুরে বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত
নেত্রকোণায় নিরাপদ খাদ্যের সচেতনতা বাড়ানো বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত।
সাভারে আই সেন্টার পরিদর্শন ও মানোন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল
সলঙ্গার রয়্যাল রূপালী হোটেলের অধিকাংশ স্টাফের নেই স্বাস্থ্য সনদ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দূরপাল্লার যাত্রীরা
দাউদকান্দিতে শিবির নেতা জিসানকে ঘিরে রহস্য: নিখোঁজ দাবি, ধর্ষণ মামলা ও স্বেচ্ছায় আত্মগোপনের তথ্য
শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল, চিরনিদ্রায় শায়িত ওয়াহেদুজ্জামান ওয়াহিদ