চিলমারীর চরাঞ্চলে শিক্ষক সংকট: তিন বিদ্যালয় চলছে মাত্র একজন করে শিক্ষক দিয়ে
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র একজন করে শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, বিদ্যালয়গুলোতে কমছে উপস্থিতি এবং ঝরে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা। চরাঞ্চলের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের পর বছর এমন অবস্থা চলায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে অষ্টমীরচরের চর মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষক সাইদ মোহাম্মদ সা'দ একাই পাঁচ শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন। কাগজে-কলেমে সেখানে আরও দুজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও একজন সহকারী শিক্ষক বিটিপিটি প্রশিক্ষণে রয়েছেন এবং প্রধান শিক্ষক জিয়ারা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। হাজিরা খাতা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক নির্বাচনের পর থেকে স্কুলে না এসেও মাসের পর মাস নিয়মিত বেতন তুলছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসে তাঁর ছুটির কোনো প্রমাণ মেলেনি। এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, “প্রধান শিক্ষক জিয়ারা খাতুন কোনো ছুটি নেননি। তাঁকে পূর্বে একবার শোকজ করা হয়েছিল, আজ আবার শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
একই ইউনিয়নের মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম একাই তিন শ্রেণির ক্লাস সামলাচ্ছেন। পাশাপাশি অফিসিয়াল কাগজপত্র, মিডডে মিলের হিসাব ও অনলাইনের সমস্ত কাজ তাঁকে একাই করতে হচ্ছে। কাগজে-কলমে মাসুমা আক্তার নামের আরেকজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও তিনি ২০২৩ সালে যোগদানের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে বর্তমানে চিলমারী শহরের একটি বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে রয়েছেন। মাত্র দুজন শিক্ষকের মধ্য থেকে চরের স্কুল বাদ দিয়ে শহরে একজনকে ডেপুটেশন দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, তাঁর সময় এই বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকলেও শিক্ষক সংকটের কারণে বর্তমানে তা কমে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র আরও ভয়াবহ। ২০২২ সাল থেকে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলায় প্রতিদিন দুপুর ১২টা বাজতেই বিদ্যালয়টি ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে এ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে ১২ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী থাকলেও চতুর্থ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীই নেই। একমাত্র শিক্ষক রোজিনা বেগম বলেন, “চিলমারী থেকে এর আগে কয়েকজন শিক্ষক এসেছিলেন, কিন্তু চরের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তাঁরা কিছুদিন পরেই বদলি হয়ে চলে যান। চরের শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের এখানে নিয়োগ দিলে স্কুলগুলো ভালোভাবে চালানো সম্ভব।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলের ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে নয়ারহাট ইউনিয়নের খেরুয়ারচর ও চিলমারী ইউনিয়নের মনতলাসহ প্রায় এক ডজন বিদ্যালয় মাত্র ২ থেকে ৩ জন শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে চলছে। এ উপজেলার ৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৪টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যার অধিকাংশই চরাঞ্চলে অবস্থিত। চরাঞ্চলের এই ভয়াবহ শিক্ষা বিপর্যয়ের বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায়চৌধুরী বলেন, তিনি স্থানীয় শিক্ষা অফিসারদের চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
Aminur / Aminur
কালীগঙ্গায় ট্রলার দুর্ঘটনায় মেয়ের পর মায়ের লাশ উদ্ধার:পরিবারকে আর্থিক সহায়তা
ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন, লিবিয়ার গানপুদা কারাগারে প্রাণ গেল নবীগঞ্জের মতব্বিরের
সিম খেতে ঘাস কাটতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোর দিনমজুরের
উলিপুরে বৃদ্ধের নৃশংস হত্যা কান্ড নিয়ে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত
ধনবাড়ীতে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৬
মুরাদনগরে লাখ টাকার গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত
পটিয়ার পূজামণ্ডপে এনসিপি নেতারা, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যয়
নবীনগরে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল জমজ দুই ভাইয়ের
বিলাইছড়িতে প্রধান শিক্ষক দীপু চাকমার বিদায় সংবর্ধনা
তেঁতুলিয়ায় সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস কাউন্সিলের সেমিনার ‘বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন-সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য’ বিষয়ক সেমিনার
বড়লেখায় চাঞ্চল্যকর চুরির মামলার রহস্য উদ্ঘাটন; স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬
ইঞ্জিনসহ ৩ বগি লাইনচ্যুত হয়ে চট্টগ্রাম-ঢাকা রেল যোগাযোগে বিঘ্ন, ভোগান্তিতে যাত্রীরা