ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

সাঘাটায় ইউপি চেয়ারম্যান, প্রধান শিক্ষক ও মেম্বারসহ ৬ জন পুলিশ হেফাজতে, পরে মুচলেকায় মুক্তি


সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ photo সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ২৭-৬-২০২৬ দুপুর ২:২৪

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়াহাট সিএনজি স্ট্যান্ড টাওয়ার এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে এক ইউপি চেয়ারম্যান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ইউপি সদস্যসহ তিন নারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ১২টার দিকে স্থানীয় জনতা তাদের অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দিলে সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ৪ নং মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিব (লায়ন), মুন্সীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বিপ্লব মিয়া, মুক্তিনগর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আহসান আলী এবং বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা কল্পনা বেগম (৩৮), শাহনাজ বেগম (২২) ও রূপালী বেগম (৩৯)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে ভবনটিতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছেন এমন খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন এবং তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। স্থানীয় বাসিন্দা মুনছুর আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদক-সংক্রান্ত কার্যকলাপ চলছিল। ঘটনার রাতে স্থানীয় লোকজন তাদের হাতেনাতে আটকে রাখলে থানা থেকে পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায়।

তবে সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে মুক্তিনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবিব (লায়ন) বলেন, “বালু ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় সবুজের সঙ্গে আমার পূর্ব থেকেই বিরোধ রয়েছে। ঘটনার দিন আমি ওই ভবনের দোতলায় বাউল শিল্পীদের গান শুনছিলাম। হঠাৎ কিছু লোক এসে আমাকে একটি কক্ষে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই নাটক সাজানো হয়েছে।” পরে পুলিশ থানায় নিয়ে গেলেও শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

একইভাবে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মুন্সীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বিপ্লব মিয়া বলেন, “আমি ও একজন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের সঙ্গে দাপ্তরিক কথা বলতে সেখানে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি বাইরে থেকে রুম তালাবদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে, আমরা কোনো অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত ছিলাম না।” ইউপি সদস্য মো. আহসান আলীও দাবি করেন, সেখানে একটি ভান্ডারী গানের অনুষ্ঠান চলছিল এবং তারা তা দেখতে গিয়েছিলেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে সবুজের বিরোধের জেরে তাদেরও বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগকারী সবুজ চেয়ারম্যানের এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে বলেন, “চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা বা বালু ব্যবসা নিয়ে বিরোধ নেই। ঘটনার দিন চার থেকে পাঁচশ মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। চেয়ারম্যানের প্রভাবের কারণে কচুয়া বাজারে অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। তিনি যদি নির্দোষই হবেন, তবে পুলিশ কেন তাকে হেফাজতে নিল এবং জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নেওয়ার পর মুচলেকায় ছাড়ল কেন, এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মনে।”

এ বিষয়ে সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, “সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি, পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের কেবল পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মুচলেকা নিয়ে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

এমএসএম / এমএসএম

খুঁটির জোরে ডেপুটেশনে ৭ বছর পিডি: রাকাব এসইসিপি প্রকল্পে ৪২ কর্মচারীর কর্মবিরতিতে অচলাবস্থা

পাগলা মসজিদে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় পাওয়া গেল ১০ কোটি টাকা, গণনা চলছে

বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ, খালিয়াজুরী থানায় মামলা

রায়গঞ্জে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে রাস্তায় তাঁতকল মালিক-শ্রমিকরা

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক সাইফুদ্দিন রমিজকে হুমকি ও অপপ্রচার, থানায় জিডি

রাঙ্গুনিয়ায় দুই প্রবাসী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় শোকের ছায়া

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অব্যবস্থাপনা: বেসিন যেন মেডিকেল বর্জ্যের ডাস্টবিন

মোহনগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যু

সাতক্ষীরা শহরে মাদকের ছড়াছড়ি প্রশাসনের ভূমিকা নিরব

সাঘাটায় ইউপি চেয়ারম্যান, প্রধান শিক্ষক ও মেম্বারসহ ৬ জন পুলিশ হেফাজতে, পরে মুচলেকায় মুক্তি

শ্রীপুরে মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ফেক আইডিতে তরুণীর ছবি-ভিডিও বিকৃত করে ছড়ানোর অভিযোগে সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

দাউদকান্দিতে পৃথক অভিযানে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ও পরোয়ানাভুক্ত ৬ আসামি গ্রেপ্তার