পদ্মা চর, বালু মহল দখলকে কেন্দ্র করে ৯ মাসে ৮টি হত্যাকান্ড
অভিযানও হয়, গ্রেপ্তারও হয়। আবার গোলাগুলিতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে চলেছে। অর্থাৎ দুয়ে দুয়ে চার খেলা চলে। গত বছর অপরাধ দমনে একটি বড় ধরনের অভিযান চালানো সত্ত্বেও; থামছে না গোলাগুলিতে হতাহতের ঘটনা। অভিযানের সময় কয়েক ডজন গ্রেপ্তার এবং আগ্নেয়াাস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল, সশস্ত্র দলগুলো পদ্মা নদীর চরজুড়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে; যেখানে গত নয় মাসে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই সহিংসতার জন্য পাবনা, নাটোর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলা জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বালু উত্তোলন, চরের জমির নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজি নিয়ে বারবার চলতে থাকা বিরোধকে দায়ী করছেন।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ জুন (শুক্রবার) পাবনা সদর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চর এলাকায়। গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহতসহ ৪ থেকে ৫ জন আহত হন। গুলিতে নিহত হন মঞ্জু শেখ (৪০)। তিনি পাবনা সদর উপজেলার আরিয়াগোহাইলবাড়ী গ্রামের দারোগ শেখের ছেলে।
উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের জোতকুরিয়া চর এলাকায় নদী সীমানায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ বাঁধে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে ঘটনাটি ঘটে ১৫ জুন, যখন নাটোরের লালপুর উপজেলার রায়তার চরের কাছে বেশ কয়েকজন যাত্রীসহ একটি নৌকায় বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। এতে সাহাবুল ইসলাম নিহত এবং আরেকজন আহত হন।
গত ৯ জুন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চর জাজিরায় অজ্ঞাত হামলাকারীরা একটি বালুখনির ব্যবস্থাপক ৩৫ বছর বয়সী আজিজুল হাকিমকে গুলি করে হত্যা করার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকান্ডটি ঘটল।
সাম্প্রতিক এই হত্যাকান্ডগুলো ধারাবাহিক প্রাণঘাতী ঘটনারই একটি অংশ, যা প্রথম গত বছরের অক্টোবরে সামনে আসে। সে সময় চরের জমি, বালু উত্তোলন এবং ভূখন্ডগত আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে পৃথক পৃথক গোলাগুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়।
রাজশাহী রেঞ্জের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘এই সংঘাতগুলোর প্রধান কারণ হলো বালু উত্তোলন, এলাকার নিয়ন্ত্রণ এবং নৌপথে চাঁদাবাজি।’ ইজারা নেওয়া বালুখনির সীমানা নিয়ে প্রায়শই বিরোধ দেখা দেয়।
তিনি আরো বলেন,“‘অনেক ক্ষেত্রে, ইজারা নেওয়া বালু উত্তোলনের এলাকার সীমানা স্পষ্টভাবে বজায় রাখা হয় না। এমনকি যখন সেগুলো নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়; তখনও প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলো সবসময় তা মেনে নেয় না; যার ফলে বিবাদ এবং সহিংস সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।”
তিনি আরও বলেন,‘যে পদ্মার উভয় তীরে একদিকে রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা এবং নদীর ওপারে কুষ্টিয়াজুড়ে বেশ কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
‘কাকন নামের একজনকে ঘিরে এখন পর্যন্ত অনেক কল্পকাহিনী তৈরি হয়েছে। তার নামে অনেক কর্মকান্ড জড়িয়ে আছে, যদিও আমি জানি না বর্তমানে সে বাস্তবে কতটা সক্রিয়’।
বেশ কয়েকটি চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান যে, চরাঞ্চলে বিভিন্ন অর্থ উপার্জনের কার্যকলাপ নিয়ে শত্রুতা সবসময়ই ছিল, কিন্তু বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।
চরাঞ্চলের গ্রামগুলোর আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের তিনজন সদস্য, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, এই পরিস্থিতির জন্য দুর্বল পুলিশী নজরদারি এবং স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ‘কর্তৃত্বের শৃঙ্খল ভেঙে যাওয়া’-কে দায়ী করেছেন।
তারা বলেন, এই পালাবদলের ফলে একসময় বিশাল চরাঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর ক্ষমতা খর্ব হয়েছে এবং নদীখাতগুলোতে ঘুরে বেড়ানো সশস্ত্র দলগুলো অবাধ বিচরণের সুযোগ পেয়েছে।
গ্রামবাসীরা জানান, তারা এখন প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে স্পিডবোটে করে প্রায়ই নদীখাতগুলোতে ঘুরে বেড়ায় এবং চরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদ্মা চরের বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা মাঝে মাঝে গুলির শব্দ শুনি। অনেকেই সন্ধ্যার পর যাতায়াত করা এড়িয়ে চলেন এবং এই দলগুলোর কার্যকলাপ নিয়ে কথা বলতে ভয় পান।’
গত ১৮ই মের এক সাম্প্রতিক ঘটনায়, সশস্ত্র ব্যক্তিরা স্বপনকে গুলি করে পদ্মা চর এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়।
এক মাসেরও বেশি সময় পর, পরিবারের সদস্যরা বলছেন যে তারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারেননি বা তার ভাগ্যে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত খবরও পাননি।
স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারি ফোনে এ প্রতিনিধিকে জানান যে তার চোখের সামনেই তার ছেলেকে গুলি করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
‘ওরা আমার আহত ছেলেকে আমার চোখের সামনেই নিয়ে গেল।’ ‘আমি জানি না সে কোথায় আছে, কেমন আছে বা তার কী হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি সে আর বেঁচে নেই। আমার সবচেয়ে বড় দুঃখ হলো, আমি আমার ছেলের মৃতদেহও উদ্ধার করতে পারিনি,’ বললেন শোকার্ত বাবা।
ক্রমশ অবনতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে পাবনা ও নাটোরে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ শুরু করে এবং এতে অন্তত ৭২ জনকে আটক করে।
ঐ কর্মকর্তা জানান, একটি পৃথক ঘটনায় সম্প্রতি সশস্ত্র অপরাধীরা একটি অভিযান চলাকালে পুলিশের একটি দলের ওপর গুলি চালালে পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
তিনি আরও বলেন, অনেক অভিযুক্ত গ্যাং লিডার স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থান থেকে অপরাধমূলক কার্যকলাপ পরিচালনা করে। পদ্মার অঞ্চলের দুর্গমতার কারণে পুলিশের অভিযান কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত প্রত্যন্ত চর এলাকাগুলোতে অনেক ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আগেই অপরাধীরা প্রায়শই তাদের অভিযান শেষ করে চলে যায়।’
নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
পুলিশের রাজশাহী বিভাগের সর্বময় ক্ষমতাধর কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আমরা বাঘার চর এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা করছি এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বর্তমানে পদ্মা চরে আরেকটি যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োাজন।’ বিষয়টি সংসদেও উত্থাপন করা হয়েছিল।
এমএসএম / এমএসএম
বোদা পৌরসভার ৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
পাঁচবিবিতে মাদক নির্মূলে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি
রাজশাহীতে ‘Run for Padma’র সংবাদ সম্মেলন
কুড়িগ্রামে ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ
বিলাইছড়ি উপজেলায় নবাগত ইউএনও'র যোগদান
কিংবদন্তী জননেতা সালাহউদ্দিন আহমদ এর জন্মদিনে চলচ্চিত্রকার মাহমুদ দিদারের লেখা
সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধে শ্যামনগরে লংমার্চ ফর ফরেস্ট কর্মসুচি পালন
মানিকগঞ্জে চরাঞ্চল থেকে আবারো রাছেল ভাইপার উদ্ধার
আদমদীঘিতে ৪২ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার-২
নালিতাবাড়ীতে ৫টি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টের চেক বিতরণ
পদ্মা চর, বালু মহল দখলকে কেন্দ্র করে ৯ মাসে ৮টি হত্যাকান্ড
বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ২ লাখ মানুষের মৃত্যু, আর্থিক ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি টাকা