বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিংয়ে মৎস্যভাণ্ডার উজাড়, সংবাদ সম্মেলনে মহিপুর জেলেদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ
বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং, নিষিদ্ধ জাল ও আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহিপুরের উপকূলীয় সাধারণ জেলেরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মহিপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ জেলেরা সমুদ্রের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরেন।
ধ্বংসের নেপথ্যে যেসব কারণ:
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলে মো. বেলাল মাঝি। তিনি অভিযোগ করেন, গভীর সমুদ্রে ‘বটম ট্রলিং’ বা তলদেশীয় জাল ব্যবহারের ফলে সমুদ্রের তলদেশের প্রবাল ও সামুদ্রিক ঘাসসহ জলজ প্রাণীর আবাসস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া ফিশ ফাইন্ডার, জিপিএস ও রাডারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের ঝাঁক শনাক্ত করে নির্বিচারে নিধন চালানো হচ্ছে। একইসাথে বেহুন্দি ও ছোট ফাঁসের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ফলে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ ধ্বংস হচ্ছে, যা মৎস্য উৎপাদনের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে,
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
ক্ষুব্ধ জেলেরা জানান, অবৈধ ট্রলারগুলো প্রায়ই সাধারণ জেলেদের জাল কেটে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও তারা আশানুরূপ সহযোগিতা পান না। জেলেদের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চলছে।
উৎপাদন হ্রাসে অস্তিত্ব সংকটে জেলেরা:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সমুদ্র থেকে ৭ লাখ ৬ হাজার টন মাছ আহরণ করা হলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৬ লাখ ২৮ হাজার টনে নেমে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে মাছের মজুত প্রায় ৭৮.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরে আগের সেই কর্মচাঞ্চল্য হারিয়ে গেছে।
জেলে হানিফ মাঝি বলেন, “আগে সাগরে গেলে মাছ পেতাম, এখন দিনের পর দিন সাগরে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হয়।” দীর্ঘদিনের মন্দায় ঋণের দায়ে জর্জরিত জেলে পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক জেলে পেশা বদল করে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমাচ্ছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালী ট্রলার মালিকরা আইনের তোয়াক্কা না করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন।
দাবি ও কঠোর হুঁশিয়ারি:
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবৈধ ট্রলিং বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, নিষিদ্ধ জাল জব্দ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। জেলেরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হলে উপকূলের হাজারো জেলে পরিবার নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তারা।
তারা আরও বলেন, সমুদ্রের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ব্যর্থ হলে শুধু জেলেদের জীবন-জীবিকাই নয়, দেশের সামগ্রিক সুনীল অর্থনীতিও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এমএসএম / এমএসএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাগেরহাট সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে আলোচনা সভা
আবারও ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন জরুরী মেরামত কাজে অনিয়মের অভিযোগ
বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে অভয়নগরে সচেতনতামূলক কর্মশালা
নবীনগরের বাঙ্গরা বাজারে উচ্ছেদ অভিযান: একপক্ষের স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ, নেপথ্যে ইন্ধনের গুঞ্জন
কুমিল্লায় জুলাই শহীদ মাসুম মিয়ার কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি
মিরসরাইয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
দাউদকান্দি নিসচার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ
গ্যারেজ লুট মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সামিরের তথ্যে মিলল ৫ অটোরিকশা
রাজনগরে সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের উদ্যোগে বন্যাকবলিতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
ইকনের পাশে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন
নরসিংদীতে ২১ কেজি গাঁজাসহ ভুয়া বিজিবি সদস্য আটক
Link Copied