আমন মৌসুমে সরকারি প্যাকেটজাত বীজে আস্থা হারিয়েছেন বারহাট্টার কৃষক
বোরো মৌসুম শেষে এবার আমন মৌসুমকে সামনে রেখে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় সরকারি প্যাকেটজাত বীজের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
গত বোরো মৌসুমে সরকারি প্যাকেটজাত বীজ ব্যবহার করে লোকসানের শিকার এবং দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণে এবার খোলা বীজ কেনার দিকে ঝুঁকছেন এ উপজেলার কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, গত বোরো মৌসুমে সরকারি ব্যবস্থাপনার পেকেটজাত বীজ কিনে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত ফলন পাননি, উপরন্তু দামও দিতে হয়েছে বেশি। ফলে এবার তারা স্থানীয়ভাবে কৃষকদের উৎপাদিত খোলা বীজের প্রতিই বেশি আস্থা রাখছেন। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের দাবি, গত বছর বারহাট্টায় অতিরিক্ত দামে বীজ বিক্রির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কোনো কার্যকর তদারকি বা অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
সরেজমিনে উপজেলা সদরের গোপালপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সাপ্তাহিক হাটের দিনে বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বস্তাভর্তি খোলা বীজ নিয়ে সারিবদ্ধভাবে বসে বিক্রি করছেন। বাজারগুলোতে ব্রি-৩৪, ব্রি-৪৯, ব্রি-৩২, ব্রি-১০৩ ও তেজপাতাসহ বিভিন্ন জাতের বীজ কেনাবেচা হচ্ছে।
বারহাট্টা উপজেলা সদরের কাশবন গ্রামের তরুণী সিংহ, অরুণ সরকার, বাউসী এলাকার মোয়াটি গ্রামের জজ মিয়া, আথানগর গ্রামের সুবল দাস, সাহতা এলাকার বোয়ালজানী গ্রামের নন্দন সরকার, ডেমুরা গ্রামের আব্দুল করিমের সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে জানান, বিভিন্ন বাজারে যারা খোলা বীজ বিক্রি করেন তারা নিজেরাই অভিজ্ঞ কৃষক। তাঁদের উৎপাদিত বীজের মান ভালো হওয়ায় কোনো সমস্যা হয় না। বরং কাঙ্ক্ষিত ফলন পাই।
উপজেলার গোপালপুর বাজারের বীজ বিক্রি করতে আসা কৃষক তপন চৌধুরী জানান, তিনি এবার প্রায় ৫০ মণ ধানের বীজ সংরক্ষণ করেছেন। তাঁর বীজের মান ভালো হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে কৃষকেরা এসে বীজ কিনে নিচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, তার উৎপাদিত বীজ অতীতে সরকারি সংস্থার মাধ্যমেও প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হয়েছিল। এছাড়া চাকুয়া গ্রামের তাবিল মিয়া কিংবা গুমুরিয়া গ্রামের হাসেম মিয়ার মতো কয়েকজন ব্যবসায়ী স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছ থেকে মানসম্মত বীজ সংগ্রহ করে বাজারে নিয়মিত বিক্রি করছেন।
এছাড়া, এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ২৪৯ জন কৃষকের জন্য প্রস্তুতকৃত সরকারি প্রণোদনার তালিকায়ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষককে বাদ দিয়ে অন্য ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ ও মানববন্ধন করা হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
সার্বিক বিষয় নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বারহাট্টার প্রকৃত ও নির্ভরযোগ্য কৃষকদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করলে ফলনে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর বাজার তদারকির জন্য আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় সাধারণ কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা, বীজের মান নিশ্চিত করা এবং কৃষি প্রণোদনার তালিকায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এমএসএম / এমএসএম
নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মতবিনিময় সভা
নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই বাসা নির্মাণকাজ--নির্বাহী কর্মকর্তার পরিদর্শনে কাজ বন্ধ
লোকালয় থেকে উদ্ধারকৃত অজগর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত
উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরেকটি মাইলফলক
সুবর্ণচরে নারী, শিশু, ব্রাককর্মীসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ৪টি ক্লাব গঠনের নির্দেশ
কুড়িগ্রামে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষ, স্বামী-স্ত্রীসহ আহত ৫
হানিট্রাপের অভিযোগ সেনাসদস্যের সম্মানহানি তদন্ত দাবি
চাঁদপুর যাত্রী টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মায়ার লিমিটেড ও কবিরস সিন্ডিকেট জেভি
ভূরুঙ্গামারী থানা জেলার শ্রেষ্ঠ, সেরা সার্কেল এএসপি মুনতাসির ও ওসি আজিম
শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার টাকা ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা
মেহেরপুরে ৭০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান