বড়লেখায় পুলিশের অভিযানে ১৩ এয়ারগান উদ্ধার; মামলা ও জব্দ তালিকায় দুই চিত্র
মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরের হাজীগঞ্জ বাজারের একটি দোকানে পুলিশের একই অভিযানে ভারতীয় অবৈধ সিগারেটের পাশাপাশি ১৩টি অবৈধ এয়ারগান ও বিপুল পরিমাণ এয়ারগানের গুলি উদ্ধার হয়| কিন্তু সেই অভিযানের পর পুলিশের দায়ের করা মামলা, আদালতে পাঠানো জব্দ তালিকা এবং গণমাধ্যমে পাঠানো প্রথম প্রেস বিজ্ঞপ্তির কোথাও এয়ারগান বা গুলির উল্লেখ করেনি পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ তড়িঘড়ি করে অনুমোদনবিহীন অবৈধ এয়ারগান ও গুলি উদ্ধারের বিষয়ে পৃথক একটি জব্দ (দ্বিতীয় জব্দ তালিকা) তালিকা তরি করে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠিয়েছে। বিক্রয় নিষিদ্ধ এয়ারগানগুলো উদ্ধারের পর লুকোচুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে ।
জানা যায়, গত ২৭ জুন রাত ১টার দিকে বড়লেখা পৌর শহরের হাজীগঞ্জ বাজারের জামিল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে এসআই প্রলয় রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ভারতীয় ২ হাজার ৮০০ শলাকা ওরিস সিগারেট, ১ হাজার শলাকা প্যাট্রন সিগারেট, ১০০ শলাকা সিগারস, ১৩টি অবৈধ এয়ারগান এবং বিপুল পরিমাণ এয়ারগানের গুলি উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকেই দোকান মালিক জামিল আহমেদকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু অভিযানের পর এসআই প্রলয় রায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে যে মামলা দায়ের করেন, সেখানে শুধু ভারতীয় সিগারেট উদ্ধারের কথা উল্লেখ করেন। এজাহারে এয়ারগান কিংবা গুলির বিষয়টি উল্লেখ করেননি। আদালতে পাঠানো জব্দ তালিকাতেও একই চিত্র। সেখানে তিন ধরনের ভারতীয় সিগারেটের বিবরণ থাকলেও অবৈধ এয়ারগান ও গুলি জব্দের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযানকালে উপস্থিত হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির দুই সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অবৈধ সিগারেট উদ্ধারের পর দোকান মালিকের কাছে এয়ারগানের বধ কাগজপত্র চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। এরপর পুলিশ সেগুলোও নিজেদের হেফাজতে নেয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে মামলা ও জব্দনামায় এয়ারগানের বিষয়টি উল্লেখ করেনি পুলিশ।তাদের দাবি, দোকানটি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসব অনুমোদনবিহীন এয়ারগান ও গুলির প্রচার ও বিক্রি করে আসছিল।তাদের বক্তব্যের অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে আরও গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। একাধিক সূত্রের দাবি, এয়ারগান ও গুলির বিষয়টি মামলায় অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য একটি পক্ষের সঙ্গে পুলিশের বিরাট অংকের অর্থের সমঝোতা হয়েছিল। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। আরেকটি সূত্রের দাবি, অভিযানে প্রকৃতপক্ষে যে পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট উদ্ধার করা হয়, মামলায় রহস্যজনকভাবে তার চেয়ে অনেক কম দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে দোকানের বড় গুদাম তল্লাশির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে একটি ফোনকল আসায় তল্লাশি আর এগোয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এব্যাপারে বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘ অবৈধ সিগারেটের সাথে এয়ারগানও সিজ করা হয়েছিল। পরে আমরা আলাদাভাবে আদালতকে তা অবগত করেছি। তবে এয়ারগান অস্ত্র নয়, তাই গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়নি। সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ তিনি সিগারেটের পরিমাণ কম দেখানো ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অসীকার করেন। তবে ওসির এই বক্তব্যের পর নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে। কারণ ২৭ জুন পুলিশের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি, একই দিনের মামলা এবং প্রথম জব্দ তালিকার কোথাও এয়ারগান বা গুলির উল্লেখ নেই। যদি পরে আদালতকে আলাদাভাবে অবহিত করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া কখন, কীভাবে এবং কোন নথির মাধ্যমে সম্পন্ন হল তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পরে আদালতে পাঠানো নথির তারিখ নিয়েও অসঙ্গতি রয়েছে। দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি (জব্দনামা) ২ জুলাই আদালতে পৌঁছেছে। যদিও আদালত পুলিশের জিআরও এএসআই সুমনের দাবী দ্বিতীয় জব্দনামাটি ২৯ জুন আদালতে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীরা ওই জব্দনামাটি দেখতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও স্যার (ম্যাজিস্ট্রেট) সীন করেননি। এতে স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া যায় থানা থেকে ব্যাক ডেটে (২৯ জুন) প্রতিবেদন বা দ্বিতীয় জব্দনামা ২ জুলাই আদালতে পাঠানো হয়। একই অভিযানের অবৈধ মালামালের কিছু অংশ জব্দনামায় লিপিবদ্ধ ও মামলায় উল্লেখ আর অন্য অবৈধ দ্রব্যের উল্লেখ না করায় প্রত্যক্ষদর্শীসহ বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে উপস্থাপন করাই প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়া।পরবর্তীতে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে সেই আলামতের আইনগত মূল্যায়ন হয়। ফলে উদ্ধার হওয়া কোনো আলামত যদি প্রাথমিক জব্দ তালিকায় না থাকে, তাহলে তার হেফাজত, সংরক্ষণ এবং আইনগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও জননিরাপত্তার স্বার্থে সরকার পূর্বে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া এয়ারগান আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বড়লেখায় এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া এয়ারগানের তথ্য সরকারি নথিতে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি শুধু তদন্তের সচ্ছতাই নয়, আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা নিয়েও নানা প্রশ্ন ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
সিংড়ায় পুকুর নিয়ে বিরোধ, গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার অভিযোগ
বাঘা থানার অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ আটক ৮
সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সাকিলা ফারজানাকে হাটহাজারীতে সংবর্ধনা
ক্ষেতলালে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু
পটিয়ায় বসতঘর থেকে দুই সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে সরকার: এমপি মিলন
নেত্রকোণার মদনে পোনামাছ অবমুক্তকরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী--টুকু
কেশবপুরে স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু নাকি হত্যা
বড়লেখায় পুলিশের অভিযানে ১৩ এয়ারগান উদ্ধার; মামলা ও জব্দ তালিকায় দুই চিত্র
জুড়ী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
পত্নীতলায় হুইল চেয়ার বিতরণ
শিবচরে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় নারী ও শিশুসহ ২ জন নিহত আহত ৩