বেনাপোল বন্দরে শুল্ক ফাঁকির মচ্ছব,রাজস্ব ঘাটতি ৪৭৩১ কোটি টাকা
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের কারসাজিতে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির মচ্ছবে পরিনত হয়েছে। সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের যোগসাজশে আমদানি নিশিদ্ধ,ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য,নো-এন্ট্রি, কাগজপত্রবিহীন পণ্য খালাস এবং উচ্চ শুল্কের পণ্যের পরিবর্তে কম শুল্ক পণ্য দেখিয়ে রাজস্ব লুটের উৎসবে মেতেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। বিপুল পরিমান এই রাজস্ব ঘাটতির পেছনে রয়েছে বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে স্কেল কারসাজি ও মিথ্যা ঘোষণা।
অভিযোগ রয়েছে, বেনাপোল পুরাতন পোর্ট থানার সামনে আজিম নামের এক ব্যবসায়ির অফিসে বসে কনসাইনমেন্ট প্রতি রফাদফা হয়ে থকে। আর এ চক্রে মন্ত্রীর বন্ধু পরিচয়দানকারী হিরু ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহিদুল-১ এর সহায়তায় মোটা অংকের রফাদফায় একেরপর এক পণ্য চালান খালাস পাচ্ছে। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহিদুলকে যেখানেই দায়িত্ব দেওয়া হোক সেখান থেকেই ম্যানেজ করে পুরো সিন্ডিকেট ঘাট। শুল্কায়ন গ্রুপ-৪, আইআরএম শাখা ও আনস্টাফিং শাখায় থাকাকালীন সময়ে তার স্বাক্ষরিত ফাইল পর্যালোচনা করলেই বেরিয়ে আসবে লুটপাটের প্রকৃত চিত্র। এছাড়া মাহিদুল (আইআরএম) থাকাকালীন সময়ে উচ্চ শুল্ক যুক্ত পণ্য চালান পরীক্ষণের সময় পরীক্ষণ না করেই সিঅ্যান্ডএফের মনগড়া রিপোর্টে সই করে মোটা অংকে ফাইল প্রতি ঘুস বাণিজ্যে লিপ্ত। তার স্বাক্ষরকৃত ফাইল পর্যালোচনা করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম-১ এবং বন্দরের আশিকুর রহমান রনি একই এলাকার হওয়ায় যৌথ প্যাকেজে স্কেল ওজনে কারচুপি ও জাল নথিপত্র তৈরি করে পণ্য খালাসে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কাস্টমসের ৬ কোটি টাকার আটক পণ্য চালান পাচারের সাথে তারা পরস্পর জড়িত রয়েছে। এদিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে শরফুদ্দিন মিয়া যোগদানের পরেই একেরপর এক পণ্য চালান আটক হচ্ছে। ফলে অসাধু সিন্ডিকেট চক্রের হোতারা তাকে ট্রান্সফার করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
সূত্র আরও জানায়, বন্দরে স্কেল কারসাজি ব্যপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্থ কয়েকজন পুরাতন রাজস্ব কর্মকর্তার ঘুস বাণিজ্যের পাতানো ছকেই চলছে শুল্ক ফাঁকির উৎসব। মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য পাচারে কাস্টমস ও স্থলবন্দরের কর্মকর্তাদের একটি অংশ সরাসরি হাত মিলেয়ে টপ টু বটম দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। একের পর এক পণ্য চালান আটক হলেও শুল্ক ফাঁকির হোতারা থাকছে অধরা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অবগত হওয়া সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারনে শুল্ক ফাঁকির উৎসব অব্যহত রয়েছে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী মাহমুদ হাসান জানান, শুল্ক ফাঁকির জন্য কাস্টমসের সিস্টেম দায়ী, লোকাবল বাড়িয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। কাস্টমস আইন অনুযায়ী আমদানি পণ্য প্রবেশের পর পোস্টং নিয়ে নামানো ও উঠানোর সময় কাস্টমস আনস্টাফিং অফিসার থাকবে। অথচ এখানে সব থেকে বড় অনিয়ম, পণ্য উঠা নামায় কর্মকর্তা থাকেনা। শুল্ক ফাঁকি সিন্ডিকেট চক্র এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডিক্লেয়ারেশন দেই এক পণ্য আর আনে আরেক পণ্য। আবার একই রকম অধিক পণ্য চালান গুদামে রেখে একটি শুল্কায়ণ করে অন্যটি নিয়ে যায়। আনস্টাফিং কর্মকর্তারা অফিসে বসে কাজ করার কারনে শুল্ক ফাঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুল্ক ফাঁকি শুরু হয় যেভাবে, বন্দর ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে উঠে এসেছে ভয়ংকর শুল্ক ফাঁকির নীলনঁকশা। সরাসরি শেড ইনচার্জদের সহায়তায় গুদামে নামানো ও উঠানে হয় পণ্য। কাস্টমসের পরীক্ষণে ফাঁকি দিতে পণ্য সরিয়ে রাখা হয় অন্য পণ্য চালানের মধ্যে। খালাসের সময় সেই পণ্য লোড হয়ে বের হয়ে যায় সহজে। কনসাইনমেন্ট প্রতি ভাগাভাগিতে চলে পণ্য পাচারের প্রতিযোগিতা। আটক বা ধরা পড়লে পণ্যের মালিক নেই বলে নাটক সাজানো হয়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্য একই শেডের বিভিন্ন স্থানে ভাগ করে রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ধাপে ধাপে সেগুলো খালাসের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তির নজির খুব কম থাকায় একই ধরনের অনিয়ম বারবার ঘটছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, আইন অনুযায়ী আমদানি পণ্য খালাসের ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারক পণ্য গ্রহণ না করলে তা কাস্টমসের মাধ্যমে নিলাম বা ধ্বংস করার কথা। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও বিপুলসংখ্যক অখালাসকৃত পণ্য চালান বন্দরে পড়ে থাকে। নিলাম বা ধংস না হওয়ার পেছনেও সিন্ডিকেট কাজ করে। সময় সুযোগ বুঝে আমদানি নিশিদ্ধ,কাগজপত্রবিহীন পণ্য শেড থেকে এক সময় উধাও হয়ে যায়। অখালাসকৃত পণ্য বছরের পর বছর বন্দরে ফেলে রাখার প্রবণতা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের নিবন্ধন বাতিল, কালো তালিকাভুক্তি, জরিমানা এবং প্রয়োজন হলে অর্থ পাচারসংশ্লিষ্ট মামলা দিয়ে দ্রুত নিস্পত্তি করতে হবে। বেনাপোল বন্দরে এমন বহু পণ্য চালান পড়ে রয়েছে তার মধ্যে ২৬ টি ফুড সাপ্লিমেন্টের চালান রয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি পণ্য উঠা নামায় কাস্টমসের পাশাপাশি বিজিবি’র মত পেশাদার বাহিনী সম্পৃক্ত করলে শুল্ক ফাঁকি রোধ হবে। একই সাথে রিলিজ অর্ডার ব্যাতিত লেবাররা যাতে কোন পণ্য চালান উঠানামা না করে এ বিষয়ে শ্রমিক সংগঠনের দ্বায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি কাগজপত্রবিহীন ও অতিরিক্ত পণ্য চালান ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে হবে।
গোয়েন্দা তথ্য মতে, কাস্টমস ও বন্দরের পণ্য খালাসে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া কোন অবৈধ পণ্য চালান খালাস বা লোপাট সম্ভব না। চিহ্নিত ও জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা নিলে থেমে যাবে শুল্ক ফাঁকি।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা শাখার দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান বলেন, বেনাপোল বন্দরে দুর্নীতি চরম আকার ধারন করেছে। সিসি ক্যামেরার চাদরে ঢাকা বন্দর থেকে দুঃসাহসিক পণ্য লোপাট ও আমদানি করা পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর হস্তক্ষেপে কাস্টমস ও বন্দরের ভেতরে সিসিটিভি নজরদারি, নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদারসহ অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ জরুরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কয়েকটি পণ্য চুরি ও লোপাটের ঘটনায় কাস্টমস বাদি হয়ে তিনটি মামলা করছে। এসব মামলায় বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারি ও আমদানিকারক সহ মোট ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর পাল্টাপাল্টি বন্দর একটি মামলা করেছে। তবে বন্দরের মামলায় দুই জন আসামিকে আটক করেছে পোর্ট থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম-১ বলেন, আমার সিন্ডিকেটের সাথে সখ্যতা নেই। আমি কার্গো শাখায় দায়িত্ব পালন করি। সম্প্রতি ৩৭ নং শেডের একটি ঘটনায় এলাকার লোক হিসেবে আশিকুর রহমান রনিকে সহযোগিতা করেছিলাম। আশিকুর রহমান রনি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও ৩৭ নং শেডে কেন তাকে সহযোগিতা করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওখানে তারই কাছের কলিগ চাকরি করে সে করনে।
এমএসএম / এমএসএম
বারহাট্টায় ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্পে টয়লেট নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, উদ্বোধনের আগেই ফাটল
হাজিদের সন্তুষ্টি না থাকলে হজ এজেন্সি বন্ধ করে দেব: মীর রহমাতুল বারী
কাপ্তাই সুরের ধারা সঙ্গীত নিকেতন এর উদ্বোধন
গোপালগঞ্জে নারীর মৃত্যুকে ঘিরে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা, কারাগারে প্রেরণ
ঘিওর-কফিলউদ্দীন দরজী ও ভূষিপট্টি সড়ক জরাজীর্ণ, চরম ভোগান্তিতে ব্যবসায়ী ও পথচারী
খালিয়াজুরীতে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারী আটক
সংরক্ষিত নারী এমপি সুলতানা জেসমিন জুইকে নাজিরপুরে গণসংবর্ধনা
চিকিৎসকদের হয়রানি বন্ধ ও বৈধ মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে কেরানীহাটে মানববন্ধন
বেনাপোলে নিন্মমানের ফুড সাপ্লিমেন্ট আমদানি: রফাদফায় খালাস চেষ্টা
বেনাপোল বন্দরে শুল্ক ফাঁকির মচ্ছব,রাজস্ব ঘাটতি ৪৭৩১ কোটি টাকা
গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন ও সমাবেশ
পূর্ব-সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ সময়ে ১০ জেলে আটক, কাঁকড়াসহ নৌকা জব্দ