বেনাপোলে নিন্মমানের ফুড সাপ্লিমেন্ট আমদানি: রফাদফায় খালাস চেষ্টা
ভারত থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পূর্বানুমোতি ছাড়াই সাপ্লিমেন্ট আমদানি করা হচ্ছে। গত এক বছরে এ ধরণের ২৬টি পণ্য চালান বেনাপোল স্থলবন্দরে আনা হয়। ইতিমধ্যে কাস্টমস এবং বন্দরের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজসে অন্য পণ্যের সাথে এসব চালানের অর্ধেক গায়েব হয়ে গেছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য চালানগুলো ছাড় করণে আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ায় বন্দরের গুদামে মেয়াদোত্তীর্নসহ নিলামে উঠেছে কয়েকটি চালান। আর বেশ কয়েকটি চালান ইতিমধ্যে বন্দর গুদাম থেকে উধাও হয়ে গেছে। যা নিয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নেই।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বেনাপোল বন্দরে সাপ্লিমেন্টের ২৬টি পণ্য চালান খালাস করতে কাজ করছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন পত্র ও কাস্টমসের দুর্নীতিবাজ উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের ম্যানেজে পণ্য খালাসের কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। যেহেতু আমদানিকারকরা ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পূর্বানুমোদন ছাড়া নিন্মমানের এসব পণ্যের চালান আমদানি করেছে,সেহেতু খালাস করতে না পারলে বন্দরে থাকা ২৬টি চালান ধংস হবে। তাছাড়া বছরের অধিক সময়ধরে বন্দরের গুদামে থাকলেও এসব পণ্য চালান কেন নিলামে উঠেনি ? । এসব পণ্য চালান রক্ষা করতে কারা কাজ করছে। সক্রিয় চক্রের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
কাস্টমস তথ্য অনুযায়ী,ফরিদপুরের ডেমি ইন্টারন্যাশনাল, ঢাকার মুন ইন্টারন্যাশনাল নামীয় প্রতিষ্টানের পণ্য চালান খালাসের অবেদন করলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ খালাশের অনুমতি দেইনি। অথচ এসব পণ্য চালান আমদানির কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও তা নিলাম বা ধংস তালিকায় আনা হয়নি।
জানা গেছে, গত বছর ২৯ মে-২০২৫ হুট করে ফুড সাপ্লিমেন্টের চালান খালাস নিয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসে চিঠি দেয় এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এসব চালান খালাসের ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসনের পূর্বানুমতির বাধ্যবাধ্যকতা রয়েছে বলেও চিঠির মাধ্যমে জানায় এনবিআরের এই গোয়েন্দা শাখা। ঐ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ফুড সাপ্লিমেন্টের চালান খালাস বন্ধ করে দেয় বেনাপোল কাস্টম কর্তৃপক্ষ। আমদানি নীতি আদেশ এবং এনবিআরের কাস্টম পলিসির আদেশ আমলে না নিয়ে এসব চালানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে না পেরে বেনাপোল কাস্টমসের সাবেক কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে চিঠি দেন। আর কাস্টমস কমিশনারের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর পূর্বানুমতি না চাওয়ায় ছাড়পত্র দেবে না বলেও জানিয়ে দেয়।
কাস্টমস আইন অনুযায়ী,আমদানি পণ্য খালাসের ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারক পণ্য গ্রহণ না করলে তা কাস্টমসের মাধ্যমে নিলাম বা ধ্বংস করার কথা। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও বিপুলসংখ্যক অখালাসকৃত পণ্য চালান বন্দরে পড়ে থাকে। নিলাম বা ধংস না হওয়ার পেছনেও সিন্ডিকেট কাজ করে। সময় সুযোগ বুঝে আমদানি নিশিদ্ধ,কাগজপত্রবিহীন পণ্য শেড থেকে এক সময় উধাও হয়ে যায়। অখালাসকৃত পণ্য বছরের পর বছর বন্দরে ফেলে রাখার প্রবণতা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের নিবন্ধন বাতিল, কালো তালিকাভুক্তিসহ অর্থ পাচারসংশ্লিষ্ট মামলা দিয়ে দ্রুত নিস্পত্তি করতে হবে। বেনাপোল বন্দরে এমন বহু পণ্য চালান পড়ে রয়েছে তার মধ্যে ২৬টি ফুড সাপ্লিমেন্টের চালান অন্যতম।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দরে অনিয়মই নিয়মে পরিনত হয়েছে। আমদানি পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকির সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র জব্দ, নিলাম, পণ্য গায়েব, মিথ্যা ঘোষণা,স্কেল কারসাজি সব কিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে। দুই-একটি ঘটনা উধঘটন হলেও অনায়াসে তা তদন্ত কমিটির নামে ধামাচাপা দেওয়া হয়। আমদানি পণ্য প্রবেশে অনলাইন (আইজিএম) বা মেনিফেস্টো দাখিল হয় সেই পণ্য খালাস ত্রিশ দিন অতিবাহিত হলে অটোমেটিকভাবে নিলামে চলে যাওয়ার কথা। অথচ বছর পার হলেও তা নিলামে উঠে না এমনকি নিলামে গেলেও তা কাটিয়ে নেই সক্রিয় চক্র। এসব তদারকির জন্য বেনাপোল কাস্টমসে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে হবে। তাহলেই আলোর মুখ দেখবে বেনাপোল বন্দর। ং
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট, হারবাল সাপ্লিমেন্ট, নিউট্রিশনাল সাপ্লিমেন্ট, মেডিকেল বা থেরাপিউটিক নিউট্রিশন এবং সম্পূরক পথ্যজাতীয় পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয় ও বিতরণের ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিবন্ধন বা পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক। এই বিধান লঙ্ঘন করে পণ্য আমদানি বা বাজারজাত করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সব সাপ্লিমেন্ট সমান মানের নয়। কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের বা অপরীক্ষিত সাপ্লিমেন্টে ক্ষতিকর উপাদান বা ভারী ধাতুও থাকতে পারে। তাই কোনও সাপ্লিমেন্ট কেনার আগে বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
যশোর আল-হায়াত হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ডা.আরিফ ইকবাল বলেন, ‘খাদ্যের বিকল্প হিসেবে কেমিক্যাল আকারে যা ব্যবহার করা হচ্ছে তাই ফুড সাপ্লিমেন্ট। অতিদ্রুত ফুড সাপ্লিমেন্ট রোগীকে দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। খুব প্রয়োজন ছাড়া দেওয়া যাবে না। তবুও চিকিৎসকের দেওয়া নির্দিষ্ট নিয়ম বা রেনজ মেনে। তা না হলে কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া নিন্মমানের কোন সাপ্লিমেন্ট গ্রহনকরলে ক্যান্সার আক্রান্ত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমানকে মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমএসএম / এমএসএম
নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মতবিনিময় সভা
নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই বাসা নির্মাণকাজ--নির্বাহী কর্মকর্তার পরিদর্শনে কাজ বন্ধ
লোকালয় থেকে উদ্ধারকৃত অজগর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত
উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরেকটি মাইলফলক
সুবর্ণচরে নারী, শিশু, ব্রাককর্মীসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ৪টি ক্লাব গঠনের নির্দেশ
কুড়িগ্রামে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষ, স্বামী-স্ত্রীসহ আহত ৫
হানিট্রাপের অভিযোগ সেনাসদস্যের সম্মানহানি তদন্ত দাবি
চাঁদপুর যাত্রী টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মায়ার লিমিটেড ও কবিরস সিন্ডিকেট জেভি
ভূরুঙ্গামারী থানা জেলার শ্রেষ্ঠ, সেরা সার্কেল এএসপি মুনতাসির ও ওসি আজিম
শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার টাকা ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা
মেহেরপুরে ৭০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান