পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি সংগ্রামী জীবন বাস্তব বৈচিত্র্যের রূপ পরিবর্তন আশা
পাহাড়ি ঝুম চাষ বা শিফটিং এগ্রিকালচার পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি ঐতিহ্যবাহী এবং প্রধান কৃষি পদ্ধতি। এটি কেবল তাদের জীবিকার উপায় নয়, পাহাড়ি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাম চাষের পুরো প্রক্রিয়াটি ঋতুচক্রের সাথে আবর্তিত হয়। নীচে এর মূল পদক্ষেপ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করা হল:
জাম চাষের প্রধান ধাপ
পাহাড় নির্বাচন এবং বন কাটা (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি): সাধারণত বছরের শুরুতে জুম চাষের উপযোগী পাহাড় নির্বাচন করা হয়। তারপর পাহাড়ি ঢালের গাছপালা ও ঝোপ কেটে রোদে শুকানোর জন্য রেখে দেওয়া হয়।
পোড়ানো এবং জমি তৈরি (মার্চ-এপ্রিল): শুকনো গাছপালা এবং লতাগুলিকে আগুন দেওয়া হয়। এই আগুনের ছাই মাটির উর্বরতা বাড়াতে প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে। বৃষ্টির আগে জুম জমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়।
বীজ বপন (এপ্রিল - মে): এটি জাম চাষের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ। পাহাড়ি মহিলারা তাদের পিঠে 'তুরুং' (বাঁশের ঝুড়ি) বেঁধে একটি দা দিয়ে মাটিতে ছোট গর্ত করে এবং ধান, তুলা, মারফা (পাহাড়ি শসা), তিল, ভুট্টা, মরিচ এবং বিভিন্ন শাকসবজির বীজ বপন করে।
পরিচর্যা ও ফসল কাটা (জুলাই-নভেম্বর): বর্ষাকালে ফসল কাটা হয়। মারফা, ভুট্টা ও সবজি সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসের দিকে পাকে। আর প্রধান ফসল—পাহাড়ি ধান—সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে পাকা শুরু হয়। ফসল কাটার পর পাহাড়ে শুরু হয় নবান্ন উৎসব।
ঐতিহ্যবাহী 'জুম ঘর' (মাচাং ঘর)
জুম চাষের সময় পাহাড়ের চূড়ায় বাঁশ ও খড়ের ওপর তৈরি করা হয় এক ধরনের অস্থায়ী মাচাং ঘর, যার নাম 'জুম বাড়ি'।
এটি বন্য প্রাণী থেকে ফসল রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।
গরম বিকেলের রোদ বা বৃষ্টিতে জুমিয়ারা এখানে বিশ্রাম নেয় এবং দুপুরের খাবার খায়।
বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং পরিবর্তন
অতীতের তুলনায় আজ জাম চাষে বেশ কিছু পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে:
জমির স্বল্পতা এবং মাটির উর্বরতা হ্রাস: আগে একটি পাহাড়ে জাম চাষের পরে এটি 10-এর জন্য পতিত ছিল।15 বছর যাতে প্রকৃতি তার নিজের উর্বরতা ফিরে পায়। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও পাহাড় ধসে যাওয়ায় এখন ৩-৪ বছরের মধ্যে একই পাহাড়ে আবার চাষ করতে হচ্ছে। ফলস্বরূপ, মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং ফলন আগের মতো নেই।
পরিবেশগত প্রভাব: ঘন ঘন জুম চাষের ফলে পাহাড়ের চূড়ার উর্বর মাটির ক্ষয় হয়, যা ঝিরি বা রিমের উর্বরতা হ্রাস করে।
জুমেইরা মিশ্র চাষের দিকে অগ্রসর হচ্ছে: অনেক পাহাড়ি কৃষক এখন ঐতিহ্যবাহী জুম চাষ থেকে স্থায়ী ফলের বাগানে (যেমন আম, লিচু, আনারস, কাজু, কফি) এবং আদা-হলুদ-এ চলে যাচ্ছে।
একটি সুন্দর ঐতিহ্য: জুম চাষ মারমা সম্প্রদায়ের 'সাংগ্রাইং' বা ত্রিপুরা ও চাকমাদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী উৎসবের গান এবং সংস্কৃতির সাথে জড়িত। পাহাড়ের গায়ে সোনালী ঝুমঝুম যখন বাতাসে দোল খায়, তখন পাহাড়ের রূপ সত্যিই দেখার মতো। এভাবে পাহাড়ের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রান্তিক দুর্গম বসবাসরত দিন মাস বছর বেঁচে থাকা পরিবার জীবিকা নির্বাহ জন্য অক্লান্ত মাঠে-ঘাটে কাজ করে যাচ্ছে এটা পাহাড়ের জীবন মনে করি। নিজের ঐতিহ্য সংস্কৃতির মাতৃভাষা প্রকৃতির জীব বৈচিত্র্য রুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ময় সবুজ পাহাড় ঘেরা লীলা ভূমি খাল বিল জর্ণা ঝিড়িসহ জীবজন্তু রর্ক্ষাথের ভালোবেসে যেতে চাই। এ সবুজ পাহাড় ঘেরা জীব বৈচিত্র্য রুপ সৌন্দর্য কে রক্ষা করতে সকলে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসুন। চার পাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরা আমাদের বাংলাদেশ পার্বত্য ভূমি।
এমএসএম / এমএসএম
পটুয়াখালীর গলাচিপার ১১ জেলে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, উদ্ধার ৫, নিখোঁজ ৬
টানা বর্ষণে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বৃদ্ধি, ৪ ইউনিটে উৎপাদন হচ্ছে ১২৫ মেগাওয়াট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একমাত্র মাঠে জলাবদ্ধতা: খেলাধুলা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত
টিসিবি ডিলারদের চুক্তি পুনঃনবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
আল হায়াত হসপিটাল: আবু জাফর কূটচালে, হুমকির মুখে শতাধিক মানুষের বিনিয়োগ
নাটোরের বড়াইগ্রামে ১৮৭ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড় ধ্বসে ১ জনের মৃত্যু, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে প্রশাসনের মাইকিং
মনপুরায় অবৈধভাবে খাল দখল: পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ বন্ধ, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ৪ হাজার পরিবার
মোহনগঞ্জে মাদক সেবনে কারাদণ্ড ও গ্রেফতার ৩
কুড়িগ্রামে স্কুল ফিডিংয়ে মেয়াদউত্তীর্ণ পচা ও ছএাক ধরা পাউরুটি বিতরণ
রায়গঞ্জে ধান সংগ্রহে স্থবিরতার অভিযোগ তদন্তে কমিটি
খালিয়াজুরীর ধনু নদে ফের অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা