চাঁদপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সিলেবাস বাণিজ্য, অর্থ আদায়ের অভিযোগ
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক। শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষা উপকরণ, মিড-ডে মিল, স্কুল ব্যাগ এবং জুতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু সেই অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেই এবার সিলেবাসের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য একটি সিলেবাস সরবরাহ করা হয়। প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৮ টাকা করে মূল্য নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০, ১৫, ২০, ২৫, ৩০ এমনকি কোথাও কোথাও ৪৫ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তাও অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সিলেবাস সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়গুলোকে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৮ টাকা হারে সিলেবাস সংগ্রহে উৎসাহিত বা বাধ্য করা হয়। তবে অনেক বিদ্যালয় নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করেছে।
সদরের মৈশাদী ও আশপাশের একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সিলেবাস বাবদ ১০ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সিলেবাস পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও তা বিতরণ করা হয়েছে বছরের প্রায় মাঝামাঝি সময়ে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সিলেবাস ছাপাতে প্রায় ২ টাকা ব্যয় হলেও এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ টাকা। অন্যদিকে অনেক বিদ্যালয় সেই নির্ধারিত মূল্যেরও কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করেছে। ফলে অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এ ধরনের অর্থ আদায়ের যৌক্তিকতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শহরের ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ৬২৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রতি কপি ৭ টাকা করে সিলেবাস কিনেছি।
মৈশাদী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিন্দু চক্রবর্তী বলেন, প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৮ টাকা করে সিলেবাস কিনেছি। পরে শিক্ষার্থীদের কাছে ১৫ টাকা করে বিক্রি করেছি।
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিলেবাস আনতে যাতায়াতসহ কিছু খরচ হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসে আসা-যাওয়ার জন্য কিছু ব্যয় বহন করতে হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কয়েকজন প্রধান শিক্ষক প্রথমে অর্থ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করেন। তবে তারা দাবি করেন, অতিরিক্ত অর্থ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হয়েছে।
সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম মিজানুর রহমান প্রথমে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তিনি বলেন, আদায়কৃত অর্থ শুধু সিলেবাস ছাপানোর জন্য নয়; এর মধ্যে শিক্ষকদের সম্মানী, পরিবহন ও বিতরণ ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আরও জানান, এসব সিলেবাস সরকারি অর্থায়নে প্রস্তুত করা হয় না।
চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন এ বিষয়ে বলেন, সিলেবাস প্রণয়ন করে অর্থ নির্ধারণ করা অনৈতিক। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএসএম / এমএসএম
আদমদীঘিতে গাঁজাসহ আটক তিনজনের জেল-জরিমানা
ধামইরহাটে প্রকাশ্যে কৃষিঋণ বিতরণ ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
সংবাদ প্রকাশের পর লোহাগাড়া প্রশাসনে নড়াচড়া, বদলি দুই কর্মকর্তা
চাঁদপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সিলেবাস বাণিজ্য, অর্থ আদায়ের অভিযোগ
বিলাইছড়িতে টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় প্রশাসনের মাইকিং
দুমকীতে ৬৬ কেজি গাঁজা সহ পিকআপ জব্দ
টঙ্গীতে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর: তাঁতীদলের নেতা খোকনসহ ৩ জন কারাগারে
তজুমদ্দিনে মিথ্যা অপবাদে নারী-পুরুষের গলায় জুতার মালা দিয়ে হেনস্তা, মামলা দায়ের গ্রেপ্তার-৪
গাজীপুরে র্যাবের অভিযানে ৩৩.৫ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
বেনাপোলে মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত
জয়পুরহাটে ট্রাক অটোরিক্সা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫
বাঘায় জমি বিরোধে বাড়িতে হামলা-লুটপাট, জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের অভিযোগ