ঢাকা বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যার আভাস


পেকুয়া প্রতিনিধি photo পেকুয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮-৭-২০২৬ দুপুর ৩:৪৮

টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও মাতামুহুরি নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন খাল, নদী ও জলাশয়ের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, উজানটিয়া, টইটং, রাজাখালী, শিলখালী, বারবাকিয়া ও মগনামা ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। অনেক স্থানে খাল ও ড্রেনের পানি উপচে সড়কে উঠে এসেছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও প্রভাব পড়ছে।

এদিকে, মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, বন্যা হলে আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজির ক্ষেত এবং বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি চিংড়ি ও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন মৎস্যচাষিরা।

নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, পানি আরও বাড়লে অনেক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হতে পারে। অতীতের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা থাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, শুকনো খাবার মজুত এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের টেকপাড়ার ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা সংস্কারের চেষ্টা করছি। সেই সাথে উপজেলার বেশ কিছু প্লাবিত স্থান পরিদর্শক করেছি। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১২৯ মিলিমিটার, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৭৭ মিলিমিটার এবং আরও আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। তিন দিনে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬৪৬ মিলিমিটার, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ।

পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশারফ হোসেন টিটু বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আর উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে পুরো উপজেলা পানির নিচে তলিয়ে যাবে। সেই সাথে উজানটিয়ার ঝুকিপূর্ণ টেকপাড়া বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার উদ্যোগ না নিলে ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে থাকবে।

টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং উজানের ঢল আরও বৃদ্ধি পেলে পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা, দ্রুত প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

এমএসএম / এমএসএম

সমাজসেবিকা সুফিয়া বেগম সরকারের সহযোগিতা চায়

আইএইচআর (২০০৫) মাল্টিসেক্টরাল স্টেকহোল্ডার শীর্ষক বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

শ্যামনগরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ পাল্টাপাল্টি দখল ও মামলার অভিযোগ

বিএমইউতে রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু, উপাচার্যের পরিদর্শন

কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎ স্পষ্ট হয়ে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু

হাঁটু পানিতে নেমে জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে মসিক প্রশাসক রুকুনুজ্জামান সরকার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৩ মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত

নোয়াখালীতে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বসতবাড়ি দখল ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ

‎পাঁচ বছর পর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি: আহ্বায়ক হাবিব, সদস্য সচিব মামুন

পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যার আভাস

মান্দায় মাঠ ভরাটের নামে টিআর প্রকল্পের অর্থ হরিলুটের অভিযোগ

রোগ সারাতে এসে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বেহাল রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মেঘনার ঘূর্ণিস্রোতে চাঁদপুরে কার্গোডুবি, ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল পানিতে