ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

ধামরাইয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গরমিল, বিপাকে শিক্ষার্থীরা


এম এ মালেক (ধামইরহাট) photo এম এ মালেক (ধামইরহাট)
প্রকাশিত: ১৮-৮-২০২৬ দুপুর ৪:৩৬

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় টার্মিনাল মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রথম দিনের ইংরেজি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র নিয়ে ব্যাপক বিভ্রাটের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় প্রশ্নপত্র কম, কোথাও এক শ্রেণির প্রশ্নের প্যাকেটে পাওয়া গেছে অন্য শ্রেণির প্রশ্ন। আবার কোনো কোনো প্রশ্নপত্রের অংশবিশেষ ছাপাই হয়নি। এতে অনেক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরুতে বিলম্ব হয় এবং শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ধামরাই উপজেলার ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে দ্বিতীয় টার্মিনাল মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম দিনের পরীক্ষাতেই এসব সমস্যার মুখে পড়েন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোথাও দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন ছয়টি কম ছিল। অন্য কয়েকটি বিদ্যালয়ে একই শ্রেণির প্রশ্ন পাঁচটি, সাতটি এমনকি ১৭টি পর্যন্ত কম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভাড়ারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির প্রশ্নের প্যাকেটে দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির প্যাকেটে প্রথম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন পাওয়া যায়। বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণিতে ২২ জন ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪২ জন শিক্ষার্থী ছিল। দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্নপত্রের ঘাটতি ছিল ২০টি।
চন্দ্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের প্যাকেট খুলে বাংলা বিষয়ের প্রশ্ন পাওয়া যায়। সেখানেও প্রশ্নপত্রের ঘাটতি ছিল বলে জানা গেছে।
প্রশ্নপত্রের ঘাটতি মেটাতে কোনো কোনো বিদ্যালয় থেকে দ্রুত ফটোকপি করতে পাঠানো হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের একাংশকে আলাদা কক্ষে অপেক্ষা করতে হয়। একটি বিদ্যালয়ে ১৭ জন শিক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্রের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
শুধু প্রশ্নের সংখ্যা কম বা প্যাকেট বদলে যাওয়াই নয়, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্রের অংশবিশেষ ছাপা না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কোথাও একটি পৃষ্ঠার কিছু অংশ ছাপা থাকলেও বাকি অংশ ফাঁকা ছিল। এতে পরীক্ষা পরিচালনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এর সঙ্গে বিদ্যুৎ না থাকায় কোথাও কোথাও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দ্রুত প্রশ্ন ফটোকপি করে দেওয়ার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার সময়ও বেড়ে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু করা নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণির তিনটি ইংরেজি প্রশ্ন কম ছিল। পাশাপাশি প্যাকেটেও ভুল পাওয়া যায়। পরীক্ষার আগে প্রশ্ন খোলা হয় না, পরীক্ষার সময় প্যাকেট খোলার পরই বিষয়টি ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নের প্যাকেটের ভেতরে দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নের প্যাকেটের ভেতরে প্রথম শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন পাওয়া যায়। প্রথম শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নও একটি কম ছিল।
আরেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, তার বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্রের ঘাটতি না থাকলেও কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফোন করে প্রশ্ন কম থাকার কথা জানিয়েছেন। চার-পাঁচটি বিদ্যালয়ে এমন সমস্যা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। তবে তিনি নিজে বিষয়গুলো দেখেননি বলে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
প্রশ্ন তৈরির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়, একাধিক বিদ্যালয় অথবা কয়েকটি ইউনিয়নের বিদ্যালয় মিলে তৈরি করতে পারে। শিক্ষকরা প্রশ্ন তৈরি করে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে গোপনীয়তা বজায় রেখে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার কথা।
তবে ধামরাইয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে প্রশ্নপত্র তৈরি ও সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রথম টার্মিনাল মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রশ্নও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকেই তৈরি করা হয়েছিল। এ জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি পাঁচ টাকা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্ষেত্রে ছয় টাকা করে নেওয়া হয়।
প্রশ্নপত্রের ঘাটতি, ভুল প্যাকেট ও ছাপার ত্রুটির বিষয়ে জানতে ধামরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোবাখখারুল ইসলাম মিজানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। ত্রুটিটি কীভাবে এবং কোন পর্যায় থেকে হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে যার বা যাদের গাফিলতি কিংবা দায়িত্বহীনতা প্রমাণিত হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএসএম / এমএসএম

ভূরুঙ্গামারী থানা জেলার শ্রেষ্ঠ, সেরা সার্কেল এএসপি মুনতাসির ও ওসি আজিম

শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার টাকা ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা

মেহেরপুরে ৭০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান

কেডিএর সেবা ও মাস্টার প্ল্যান নিয়ে অভয়নগরে মতবিনিময়

খাদ্যে ভেজাল, ভুয়া ‘ডা.’ পদবী ব্যবহার : চাঁদপুরে তিন প্রতিষ্ঠানের জরিমানা

সিংড়ায় ট্রাফিক আইন অমান্য করায় ৪ জনকে জরিমানা

ধামরাইয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গরমিল, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

ত্রিশালে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

কর্ণফুলীতে খাল পুনঃখননের টাকা লোপাটের অভিযোগ

দাউদকান্দি উপজেলা ও পৌর বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটি বাতিল

পিরোজপুরে মাদকবিরোধী পদযাত্রা ও সচেতনতামূলক স্টিকারিং কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে

নাচোলে ডিএপি সার মজুদের অভিযোগ, ৫ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে কৃষকদের অসন্তোষ

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ কল্যাণ ও মাহাত্ম্য রয়েছে