ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

‎থামছেই না নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণশ্রমিকদের প্রাণহানি


রবিউল ইসলাম শাকিল photo রবিউল ইসলাম শাকিল
প্রকাশিত: ১৭-৭-২০২৬ রাত ১২:১৫

‎শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান উৎপাদন ও বিতরণের কেন্দ্র বলা হয়। অথচ সেই বিদ্যাপীঠের অবকাঠামো নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। একের পর এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু ও দুর্ঘটনার পরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কয়েকটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক শ্রমিকই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক নির্মাণশ্রমিক, আহতও হয়েছেন অনেকে।

‎সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ১০ তলা ইউটিলিটি ভবন-৪–এ স্যানিটারি কাজ করার সময় ওপর থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন নির্মাণশ্রমিক রাসেল। সহকর্মীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত রাসেলের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়।

‎এর আগে গত বছরের ২২ মার্চ নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে মারা যান রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক মো. ইব্রাহিম। সহকর্মীদের ভাষ্য, রোজা অবস্থায় কাজ শেষে নিচে নামার সময় ভবনের উন্মুক্ত অংশের পাশে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যান তিনি। পরে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় শ্রমিকরা অভিযোগ করেছিলেন, বারবার দাবি জানানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করেনি।

‎এরও আগে ২০১৯ সালের ১৫ মে নির্মাণাধীন তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্র হলের ১০ তলা ভবনের অষ্টম তলায় কাজ করার সময় নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন ২০ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক হাসান। প্রথমে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।

‎শুধু প্রাণহানিই নয়, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন একটি ছাত্র হলের বারান্দার ছাদ ধসে অন্তত ১০ জন নির্মাণশ্রমিক আহত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, ঢালাইয়ের সময় দুর্বল সাপোর্ট ব্যবহারের কারণেই ছাদটি ধসে পড়ে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও সেই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনার পর প্রতিবারই তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্মাণশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) ও বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতিটি নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের জন্য হেলমেট, সেফটি বুট, গ্লাভস, গগলস ও মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এছাড়া দুই মিটারের বেশি উচ্চতায় কাজের সময় সেফটি বেল্ট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ মাচা নির্মাণ, তা নিয়মিত পরিদর্শন, উন্মুক্ত ছাদ, লিফট ও সিঁড়ির পাশে নিরাপত্তা রেলিং এবং সুরক্ষা জাল স্থাপনেরও নির্দেশনা রয়েছে। আইন অনুযায়ী কর্মস্থলে দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকের চিকিৎসা ব্যয় ও ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব মালিকপক্ষের।

‎সাম্প্রতিক শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় নির্মাণাধীন ইউটিলিটি ভবন-৪–এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান খান অ্যান্ড সন্স বিডি লিমিটেডের প্রকৌশলী জসিম বলেন, "যে শ্রমিক মারা গেছেন, তাকে কাজে যাওয়ার আগে সেফটি বেল্ট দেওয়া হয়েছিল। তার সঙ্গে থাকা হেলপারকেও সেফটি বেল্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিহত শ্রমিক নিজে বেল্ট পরেননি এবং হেলপারকেও বলেছেন, বেল্ট পরার প্রয়োজন নেই।"

‎এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শ্রমিক মৃত্যুর বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে।

‎পরে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমাদের প্রকৌশল অফিস নিয়মিত নির্মাণকাজ তদারকি করে। আমরা প্রকল্প পরিচালক কার্যালয় থেকে সব সময় সেখানে যেতে পারি না। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া আছে। আরেকটি বিষয় হলো, অনেক সময় শ্রমিকরাও নিজেরা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে চান না।"

‎এ বিষয়ে প্রকৌশল দপ্তরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, "তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশে প্রচলিত বীমা নীতিমালা অনুযায়ী মৃত্যুর ক্ষেত্রে নির্ধারিত এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু এক লাখ টাকায় কোনো পরিবারের ক্ষতি পূরণ হয় না। শ্রমিকের পরিবারের দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে সে বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেবে, সেটি তাদেরই ঠিক করতে হবে।"

‎একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় প্রতিবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদনের প্রকাশ, সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

এমএসএম / এমএসএম

‎থামছেই না নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণশ্রমিকদের প্রাণহানি

দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের ব্যবস্থা করা হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান

শেরপুরে জুলাই শহীদ দিবস পালিত

জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে কুবিতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

২০ বছরেও নিজস্ব অডিটোরিয়াম পায়নি কুবি

শিক্ষা খাত নিয়ে নতুন ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে পাবিপ্রবি ছাত্রদলের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান গকসুর

গবির ফার্মেসি বিভাগের ৫১তম ব্যাচের নবীন বরন অনুষ্ঠিত

মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি বাদ, ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে ৬ শিক্ষার্থী

গ্রেটার ফরিদপুর স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে সুদীপ্ত ও জয়

দুই বছরেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়নি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ

মেস ভাড়ার নামে প্রতারণা, টার্গেট নোবিপ্রবির নবীন শিক্ষার্থীরা