ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী আমরা কীভাবে উদ্​যাপন করব


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮-৭-২০২৬ দুপুর ১১:৪
পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর, ১৬ জুলাই ২০২৪

২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বড় প্রাপ্তি অবশ্যই ফেব্রুয়ারিতে হয়ে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন। গত আড়াই দশকে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস হতে হতে শেষমেশ জাতীয় লজ্জার বিষয় হয়ে গিয়েছিল। প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল আমলাতন্ত্রের সহায়তা নিয়েই সেটা করতে পেরেছে। অনেক বিদেশি শক্তিও তাদের সহায় ছিল। সেই সময়ের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তার জন্য আজও কোনো অনুশোচনা নেই, যা মহা বিস্ময়কর।

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থা গণতন্ত্রের সামান্য উপাদান। তবে সবচেয়ে জরুরি উপাদান। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তরা জানে, চলতি ধারার নির্বাচনে বিজয়ীরা শ্রেণিগতভাবে তাদের লোক নয়। তারপরেও জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা দেখতে চায় তারা। এটা থাকলেই কেবল তারা নিয়মতান্ত্রিক পথে সংগ্রামের পরবর্তী স্তরে এগোতে পারে। এই বিবেচনায় দেশে একটা সংসদ কাজ করছে, সেটা গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দরকারি অর্জন। যেকোনো মূল্যে একে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে ধরে রাখতে হবে।

কিন্তু সংসদ সদস্যদের ভূমিকায় মনে হচ্ছে না গণ–অভ্যুত্থানের বিষয়টা তাঁদের ভাবনায় গুরুত্বের সঙ্গে আছে। এই সংসদ যে সাধারণ কোনো নির্বাচনে পাওয়া সংসদ নয়, এর ‘রাজনৈতিক মালিক’ যে চব্বিশের শহীদ ও সক্রিয়রা—সেই বোধের ব্যবহারিক প্রকাশ সংসদে পাওয়া যায়নি এখনো।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যে সংগ্রাম ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দেশবাসীকে আবেগে উদ্বেল করে তুলেছিল, তারই বিজয়ের দিন ‘৩৬ জুলাই’ বা ৫ আগস্ট। দ্বিতীয়বারের মতো সেসব স্মৃতি সবার সামনে এখন। প্রশ্ন হলো, কীভাবে আমরা স্মরণ করছি গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী? ব্যর্থতার হতাশায়, নাকি আনন্দে-উৎসবে? নাকি জরুরি কোনো শিক্ষা ও শপথে?

রাজনৈতিক আন্দোলনে এত অল্প কয় দিনে এত মানুষের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। ন্যায়সংগত সমাজ এবং পরিবর্তনের ক্ষুধা বাংলাদেশে যে কত তীব্র, তারই চূড়ান্ত নজির ‘লাল জুলাই’। কিন্তু ক্ষুধার প্রতিদান পেল কি ‘সমাজ’?

ক্ষুধা একটা অবস্থার কথা জানায়। তখন খাবার এগিয়ে দেওয়ার ভূমিকা নিতে হয় কাউকে। রাজনীতিবিদেরা কতটা সফল হলেন সে রকম ভূমিকায়? রক্তাক্ত ‘চব্বিশ’ দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে কী দিয়ে গেল? কী চেয়ে কী পেল নাগরিক সমাজ? গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে তার তদন্ত ছাড়া শহীদ ও তাঁদের প্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আর সঠিক উপায় কি আছে?

সরকারি দল ও বিরোধী দলের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে তারা কেবল নিজ নিজ দলের কীর্তিগাথার পাল্টাপাল্টি বয়ান শোনাতে গেছে সেখানে। উভয় দল গণ–অভ্যুত্থানের ‘এজেন্সি’ দাবি করছে, কিন্তু কোনো তরফ থেকেই ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলের প্রবল তাগিদ দেখা যায়নি । ২০২৪–এর রাজপথ কিন্তু সেটাই চেয়েছিল। এই সংসদের মালিক সেসব মিছিলের পরিবর্তনবাদী শহীদেরাই, যে মিছিলগুলোতে এই সংসদের অনেকেও শরিক ছিলেন। ফলে তাঁদের কাছে প্রবল প্রত্যাশা সমাজের।

২০২৪–এর আগস্টের পর থেকে দেশে সংস্কারধর্মী কর্মসূচি তৈরি করতে ১১টি কমিশন এবং আরও কিছু কমিটি গঠন করা হয়। সেসব কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশও পেশ হয়েছিল। সংসদের গত ৪-৫ মাসে কোনো দলের পক্ষ থেকে সেসবের বাস্তবায়নের বিষয়ে কিছু এগোচ্ছে না।

জাতীয় নির্বাচন হলো, কিন্তু নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার হলো না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে শিগগিরই, অথচ স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকারের যত জনপ্রতিনিধিই আসুন, তাঁরা একটি বিশেষ ক্যাডারের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মুখাপেক্ষী হয়েই থাকবেন। ‘চব্বিশ’ কি এটাই চেয়েছিল?

নতুন সংসদের শুরুতে সংরক্ষিত আসনে নারীরা কোটা অনুযায়ী আসন পেলেন, কিন্তু তাঁদের কেউ নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন নিয়ে আর কথা বলছেন না। আবু সাঈদদের মিছিলের হাজার হাজার নারী সহযোগীর কথা ভুলে গেলাম আমরা সবাই।

দেখা যাচ্ছে, কোনো সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনই সংসদ সদস্যদের কাছে আর গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাহলে আগের সংসদগুলো থেকে এই সংসদ কীভাবে আলাদা?

সংসদের গত দুটি অধিবেশন নিয়ে অনেক পর্যালোচনা হচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াত জোট উভয়ে সেখানে বারবার গণ–অভ্যুত্থানের মালিকানা দাবি করছিল। কিন্তু যে অভ্যুত্থানে শহীদদের বড় অংশই শ্রমিক—সেই শ্রমজীবীদের মজুরি বাড়ানোর ন্যূনতম উদ্যোগ সংসদ এখনো নেয়নি। বিরোধী দলের কাছ থেকেও এ বিষয়ে জোরালো কোনো দাবি ছিল না। অথচ আবু সাঈদদের আত্মাহুতি দেখে সবার আগে ব্যারিকেড গড়েন যাত্রাবাড়ী, সাভার ও গাজীপুরের শ্রমিকেরা।

এখনকার বিদ্যমান নিয়মেই ২০২৬ সালে তৈরি পোশাক, চাসহ ১৩টি খাতে নতুন মজুরিকাঠামো ঘোষণার কথা। অভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী কোনো তরফ থেকে সেসব নিয়ে কথা নেই। তাহলে শ্রমিক সমাজ গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিক কীভাবে উদ্​যাপন করবে? ছাত্র-শ্রমিক-জনতার যে ব্র্যান্ড স্লোগান ছিল ‘বৈষম্য’ কমানোর, তা কি কেবলই ছিল কথার কথা?

এ বছরের প্রথম ছয় মাসে পোশাক খাতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের খবর প্রকাশিত হয়েছে খোদ বিজিএমইএর সূত্রে (প্রথম আলো, ৬ জুলাই)। এই প্রতিবেদনের পরদিন একই কাগজের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৩ মাস ধরে দেশে মজুরির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি। অর্থাৎ আগের সরকারের আমলে যা ছিল, গণ–অভ্যুত্থানের পরের দুই সরকারের আমলেও একই প্রবণতা চলছে।

শ্রমজীবীদের এই অবস্থার মধ্যে সরকারের প্রথম বাজেটেই রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর জন্য বরাদ্দ থাকছে। স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে, নিচুতলার অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নিত্যদিনের টানাপোড়েন নয়, সামরিক–বেসামরিক প্রশাসনকে খুশি রাখতে সচেষ্ট আছে গণ–অভ্যুত্থানের পরের রাজনীতি।

রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের মজুরি বাড়ানো ন্যায্য হলে বেসরকারিদের জন্য ও শ্রমিকদের জন্য নয় কেন? উভয়ের বসবাস তো একই বাজারেই। তা ছাড়া, কথা ছিল এই প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং তার ঔপনিবেশিক ধরন বদলানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই আয়োজন কই?

গণ–অভ্যুত্থানের আগের আমলে রাজনৈতিক-প্রশাসনিক যা কিছু অনাচার হয়েছে, তাতে আমলা সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকার কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ও জবাবদিহি এখনো হলো না। সে রকম অনাচারের ভবিষ্যৎ রাস্তা কি আদৌ বন্ধ করা গেল? দুর্ভাগ্যের বিষয়, গণ–অভ্যুত্থানের পরে পাওয়া বিরোধীদলীয় জোটও এসব প্রশ্নে অনেকটা নীরব।

গণ–অভ্যুত্থানের পর পাওয়া নতুন সংসদে সরকারি দল ও বিরোধীপক্ষে এ মুহূর্তে অনেক নতুন নেতৃত্বের সমাহার। ‘চব্বিশ’ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিসরে একটা পালাবদল ঘটাচ্ছে। সেটা আবু সাঈদদের রক্তের বিনিময়েই! কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কৃতিতে আদৌ কোনো বদল ঘটল কি? বিএনপির বেলায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, পুরো দল একজনকে ঘিরে আবর্তিত। বিগত আমলেও এ রকম সংস্কৃতি আমরা দেখেছি।

তরুণ সমাজের মধ্যে গণ–অভ্যুত্থানের আগে-পরে যেসব নতুন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আকাঙ্ক্ষার জন্ম হয়েছে, বিদ্যমান দলগুলো সেই আলোকে নিজেদের সাংগঠনিক অভ্যাস সংশোধন করতে পারেনি। কর্মীদের রাজনৈতিক চর্চায়ও তার ছাপ পড়েনি। সবকিছু ‘টপ-ডাউন’ মডেলে চলছে। প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক সংগঠক ও দলগুলোর পুরোনো অভ্যাসে সংস্কার না হলে রাষ্ট্র সংস্কার করবে কারা? সে কারণেই ‘চব্বিশ’মুখী অগ্রগতি কম। উদ্​যাপন করার মতো বড় কিছু অন্তত ঘটছে না, ঘটেনি। যদিও মূলধারার প্রচারমাধ্যমে লেখাজোখায় বিগত আমলের ভয়ের আবহ কমেছে। হতাশার কথা বলা যাচ্ছে। ভিন্নমতাবলম্বীদের গুমের আতঙ্ক নিয়ে ঘুমাতে হয় না।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাঁদাবাজির সহিংস ভিডিও চিত্র ভাইরাল হচ্ছে হামেশা। কোনো দলের একক কোনো নেতার পক্ষে এসব থামানো সম্ভব নয়, যদি না দলের সর্বত্র পুরোনো অভ্যাসের বদল ঘটে।

এসব অভিজ্ঞতার কারণেই গণ–অভ্যুত্থানের পর মানুষ তৃতীয় শক্তির উত্থান চাইছিল। কিন্তু নবীন দলগুলোর নবীন রাজনীতিবিদদের দুর্নীতির নানা খবরাখবরে গণ–অভ্যুত্থানের সেই প্রত্যাশাও পোকায় খেয়েছে। রাজনীতির ময়দানে নবীন-প্রবীণ কেউ আর এখন জোরের সঙ্গে দুদককে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার কথাও বলে না।

এই লেখা তৈরির সময় দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খোঁজা হচ্ছিল ‘সার্চ কমিটি’র মাধ্যমে। অথচ বিগত সময়ে এই সংস্থার তদন্ত ও অনুসন্ধান ক্ষমতা বাড়াতে তৈরি হওয়া অধ্যাদেশটি টিকিয়ে রাখা হলো না। সেটা থাকলে দুদক আরেকটু শক্তিশালী হতো।

গণ–অভ্যুত্থানের বড় এক প্রত্যাশা ছিল দুর্নীতি কমানো। সেই প্রত্যাশার চাপে দুদকের জন্যও একটা সংস্কার কমিশন হয় ইউনূস সরকারের আমলে। ৪৭টি সুপারিশ ছিল ওই কমিশনের।

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে জন–অসন্তোষের বড় জায়গা ছিল সর্বগ্রাসী দুর্নীতি। মানুষ তখন কেবল দুদকে নতুন কর্মকর্তা চায়নি, তারা চেয়েছিল এ রকম সংস্থার স্বাধীন সক্রিয়তা। পুরোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও পুরোনো শক্তিতে সেটা হবে কি আদৌ?

বর্তমানে দুদকের কর্মকর্তা খোঁজার সার্চ কমিটিতে বিরোধী দলের কেউ নেই। এটি জরুরি ছিল। বর্তমান ধরন বহাল থাকলে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় অতিপ্রয়োজনীয় এই সংস্থার জবাবদিহির জায়গা দুর্বলই থেকে যাবে। এর কাজ তদারকিতে জনসমাজের ভূমিকা রাখার কোনো সুযোগ নেই। এর ফল হতে পারে দুর্নীতি তদন্তের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্রের প্রভাব চলমান থাকা।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দল, সংসদীয় ব্যবস্থা ও দুর্নীতি রোখার মতো গণ–অভ্যুত্থানের প্রধান চাওয়াগুলো অনেকাংশে অপূরণীয় থেকে যাচ্ছে দুই বছর পরেও। তাহলে আবু সাঈদদের আজ আমরা কী কথা শোনাব?

প্রশ্ন উঠতে পারে, এ রকম কেন হলো? বিগত ২৪ মাসের ১৯ মাস ক্ষমতায় ছিল ছাত্রদের নিয়োগ করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সরকারে ছাত্র প্রতিনিধিরাও ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বড় একটি অংশ দল গঠন করে জামায়াতের জোটসঙ্গী হিসেবে এখন সংসদেই আছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর চলছে ভোটে বিজয়ী দলের শাসন। এই দুই সরকার ও সংসদকেই অভ্যুত্থান-উত্তর প্রায় শূন্য থালার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

বিএনপির সম্ভাব্য উত্তর আমরা অনুমান করতে পারি। আরও অপেক্ষা করতে বলবে তারা। সে অনুরোধ অযৌক্তিক নয়। তাদের হাতে সময় আছে। কিন্তু জনগণ আশাবাদী হয়ে অপেক্ষা করার মতো লক্ষণ দেখছে না। বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দিচ্ছে, কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে পিছু হটছে। দুটো একসঙ্গেই হতে পারত।

সরকারের কাছ থেকে গণ–অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা আদায়ে বিরোধীদলীয় জোটের সংসদীয় ভূমিকাও আশা ছিল আরও জোরালো হবে। কিন্তু মব সহিংসতা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি পর্যন্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে উভয় শক্তিকে কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। নাগরিক সমাজের কণ্ঠগুলোও এই দুই পক্ষ এবং ‘চব্বিশে’র অনুশোচনাহীন ক্ষমতাচ্যুতদের পক্ষে তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে আছে।

গণ–অভ্যুত্থানের পরপর গুটিকয় বুদ্ধিজীবীর সাংস্কৃতিক যুদ্ধে সমাজে যে বিভাজনের সূচনা হয়, সেটাও চব্বিশের অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক প্রত্যাশাকে দুর্বল করেছে। ফলে ক্ষমতার চৌহদ্দিতে পুরোনো বন্দোবস্তের রাজত্ব এবং নতুন বন্দোবস্তের নৈতিক জোর হারানোর মিলিত মুহূর্তে এবারের জুলাই-আগস্ট এল, যখন চব্বিশের আশা ও উদ্দীপনা আর সামান্যই অবশিষ্ট আছে।

সাধারণ মানুষ এখন কী করবে? একাকী আবার তারা নিজ নিজ বাঁচার লড়াইয়ে ফিরে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম কেবল স্মৃতি রোমন্থনে বাঁচে। নিষ্ফলা মাঠের কৃষক হয়ে বাঁচাই যেন তার নিয়তি। কিন্তু তার স্মৃতির ভেতর আবু সাঈদের দুই বাহু বাড়ানো আহ্বান জাদুকরি মায়া হিসেবে থেকে যায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই নিঃস্ব জনসমাজের মনে গেঁথে থাকে। রাজনীতিবিদেরা যা পারে না, এই ‘সাধারণ’ মানুষেরাই কোনো এক গভীর পূর্বপুরুষীয় শক্তিতে সেসব অসাধ্য সাধন করে ফেলতে সক্ষম হয়। তাতে দুঃশাসক পালায়, কিন্তু রাষ্ট্র থেকে যায় আগের মতো! আর থাকে গুচ্ছ গুচ্ছ আপস, বিশ্বাসঘাতকতা, বোবা ক্ষোভ।

Parna / Parna

শাহজালাল (রহ.) মাজারে সিন্ডিকেট নিয়ে ভয়াবহ তথ্য দিলেন সাবেক ডিসি সারোয়ার আলম

কনে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস খাদে, শিশুসহ নিহত ২

গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী আমরা কীভাবে উদ্​যাপন করব

বাঁশখালীতে বন্যার্তদের পাশে ছাত্রদল নেতা আফজাল রহমান, ৩০০ পরিবার পেল ত্রাণ

আদমদীঘিতে সাজাপ্রাপ্তসহ দুই জন গ্রেপ্তার

পাঁচবিবিতে গবাদি পশু বিতরণ

বিলাইছড়িতে ডাউন পাড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির প্রাক নিবন্ধন সভা অনুষ্ঠিত।

রায়পুরে জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতার উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক

হাকিমপুরে মাদক সেবনের দায়ে ২ জন ও বহনের দায়ে ১ জন আটক

মোবাইলে খেলা দেখতে গিয়ে খালে পড়ে মৃত্যু, দুই দিন পর ভেসে উঠল লাশ

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাড়ে চার বছরে ২,২০১ নরমাল ডেলিভারি

বাঘায় মাদক ও বলাৎকার মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ২

বড়লেখায় 'কৃষক কার্ড' বাস্তবায়নের তথ্য সংগ্রহের উদ্বোধন