রাশিয়ায় পাঠানোর জন্য টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে মারধর ও বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগে তাদের ছেলে জহিরুল ইসলামকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের চামারুল্লাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জহিরুল ইসলাম টিউবওয়েল মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তার বাবা আব্দুস সালাম ও মা রুমেলা খাতুন ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে রাশিয়া যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন জহিরুল। একমাত্র ছেলের ইচ্ছা পূরণ করতে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা দালালকে দেন তার বাবা-মা।পাসপোর্ট ও মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও পরে আরো সাত লাখ টাকা দাবি করা হয়।
এ বিপুল অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারায় জহিরুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ পরিবারের। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি বাবা-মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আসছিলেন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার সকালে আবারও সাত লাখ টাকা দাবি করেন জহিরুল। টাকা দিতে না পারায় তিনি বাবা আব্দুস সালাম ও মা রুমেলা খাতুনকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে ধারালো দা নিয়ে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন।প্রাণ বাঁচাতে বৃদ্ধ দম্পতি ঘর ছেড়ে স্থানীয় চামারুল্লাহ বাজারে আশ্রয় নেন।
এরপর জহিরুল দা হাতে ঘরের ভেতরে তাণ্ডব চালিয়ে আসবাবপত্র, হাঁড়ি-পাতিল, চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। এমনকি পরিবারের পরিধানের কাপড়-চোপড়ও দা দিয়ে কেটে নষ্ট করে দেন বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে জহিরুলকে দা হাতে ঘরের ভেতরে দেখতে পান। পরে তারা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুমেলা খাতুন বলেন, ‘আমি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করে অসুস্থ স্বামী আর এই ছেলেকে খাওয়াই। একটা চক্রের ফাঁদে পইড়া ছেরাডা রাশিয়া যাইতে পাগল হইয়া গেছে। আজ আমারারে মাইর্যা ফেলতে চাইছিল। ঘরের সব ভেঙে শেষ করে দিছে। এখন আমাদের আর কিছুই রইল না। আমরা জীবন শঙ্কায় আছি।’
তবে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামের দাবি, পাশের এলাকার হুমায়ুনের পরামর্শে তিনি রাশিয়া যেতে চেয়েছিলেন। প্রয়োজনীয় টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভে ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছেন। বাবা-মাকে মারধর করেননি, ধাক্কাধাক্কিতে তারা সামান্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নান্দাইল থানার ওসি (তদন্ত) মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জহিরুলকে আটক করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।