ঢাকা সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

সকালের সময়-এ 'শিক্ষক নিয়োগে ভয়ংকর জালিয়াতি' প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল ডিপিএইচই


বেলাল উদ্দিন photo বেলাল উদ্দিন
প্রকাশিত: ১৯-৭-২০২৬ বিকাল ৫:২১

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য এবং সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের প্রায় আড়াই সপ্তাহের মাথায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)।

দৈনিক সকালের সময়-এ গত ২৯ জুন ২০২৬ প্রকাশিত "শিক্ষক নিয়োগে ভয়ংকর জালিয়াতি" শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তৎকালীন হাটহাজারী উপজেলা কার্যালয়ের মেকানিক এবং বর্তমানে কর্ণফুলী উপজেলায় কর্মরত মো. আনোয়ার হোছাইনের বিরুদ্ধে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ চক্রে সরকারি চাকরিজীবী, মধ্যস্থতাকারী এবং প্রক্সি পরীক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অভিযুক্ত আনোয়ার হোছাইনের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগসমূহ তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দৈনিক সকালের সময় অনলাইন সংস্করণে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মচারী মো. আনোয়ার হোছাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত অভিযোগগুলো জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অফিস আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পটিয়া উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী সৌম্য সরকারকে। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কর্ণফুলী উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন রাসেলকে।

কমিটিকে অভিযোগগুলো তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে মতামতসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রগুলোর মতে, তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

দৈনিক সকালের সময়-এ প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজার জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার করে কয়েকজন প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করানোর অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের আমান উল্লাহ নাহিন নামের এক প্রার্থী নিজের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানোর বিষয়ে প্রতিবেদকের কাছে কথোপকথনের একপর্যায়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন। সেখানে প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তির বিষয়ও উঠে আসে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই বক্তব্যের অডিও সংরক্ষিত রয়েছে।

অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় অভিযোগের সূত্র ধরে উঠে আসে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মচারী মো. আনোয়ার হোছাইনের নাম। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই প্রক্সি পরীক্ষা ও ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগে তিনি আলোচনায় ছিলেন এবং পরবর্তীতে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে সক্রিয় একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ডাক বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করেও একই ধরনের জালিয়াতি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আনোয়ার হোছাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান।অন্যদিকে প্রতিবেদনে নাম আসা আরেক ব্যক্তি চট্টগ্রাম কাস্টমস-এর সিপাহী মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম অভিযোগের দায় নিজের ওপর না নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে আনোয়ার হোছাইন ভালো জানেন বলে মন্তব্য করেন।

সুশাসন ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক তদন্তে এগিয়ে আসা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে কেবল তদন্ত কমিটি গঠন করাই যথেষ্ট নয়; তদন্তটি যেন নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজনে দুর্নীতি, প্রতারণা, পরিচয় গোপন করে পরীক্ষা দেওয়া, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এমএসএম / এমএসএম

তারাগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচিতে এমপি ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা

বিতর্কিত এসআই নেয়ামতের বিরুদ্ধে ঘুষ-চাঁদাবাজির মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

গৌরনদীতে গভীর রাতে সৌদি প্রবাসীর বাড়ির দেয়াল ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর

রূপসার ফখরুল হত্যার ঘটনায় ‘কাটাপ্পা’ গ্রেপ্তার

কাছাইট গ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান মহারাজ আর নেই

শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে পেকুয়ায় গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম

অভয়নগরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন, চার চাষিকে পুরস্কার

শ্রীনগরে মদ্যপ অবস্থায় কৃষক দল নেতার নাচগানের ভিডিও ভাইরাল

পটুয়াখালীতে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ছয় দফা দাবিতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন-সহস্রাধিক শিক্ষার্থী-অভিভাবকের অংশগ্রহণ

উলিপুরে জাতীয় মৎস পক্ষের উদ্বোধন

মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন

চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে কিশোর রাহুলের জীবন