ঢাকা সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

ঘুষ না দিলে নামজারি নয়, অভিযোগে উত্তাল নবীনগর লাউর-ফতেহপুর ভূমি অফিস


সফর মিয়া, নবীনগর photo সফর মিয়া, নবীনগর
প্রকাশিত: ২০-৭-২০২৬ দুপুর ৪:৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি ফির বাইরে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় ছাড়া নামজারি (খারিজ) হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আতিকুর রহমানের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা। অতিরিক্ত টাকা না দিলে মাসের পর মাস ফাইল ঝুলে থাকে, আর চাহিদামতো অর্থ পরিশোধ করলে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি নামজারির জন্য মোট ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে কোর্ট ফি, নোটিশ জারি, রেকর্ড সংশোধন এবং মিউটেশন খতিয়ানের নির্ধারিত ব্যয়। কিন্তু ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লাউর ফতেহপুর ভূমি অফিসে জমির ধরন ও দলিলভেদে ৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি না হলে আবেদনকারীদের দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হয়। অনেকেই দাবি করেন, অনলাইনে আবেদন করলেও নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। একই সঙ্গে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়মিত দেরিতে অফিসে আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করার অভিযোগও রয়েছে।
লাউর ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, “সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে টাকা ছাড়া কোনো কাজই করা হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
ভুক্তভোগী আব্দুল হাইয়ের দাবি, তাঁর একটি জমির নামজারির জন্য ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পাশের আরেকটি জমির নামজারির জন্য ১৮ হাজার টাকায় চুক্তি করে ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন লাউর ফতেহপুর গ্রামের পান বিক্রেতা সুভাষ চন্দ্র সাহা। তাঁর অভিযোগ, ১৫ শতক জমির নামজারির জন্য ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এই অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে ব্যবসার মূলধন শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন তিনি ফেরি করে পান বিক্রি করছেন।

সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে স্থানীয় এক প্রবাসীর সঙ্গে ভূমি অফিসে গেলে একটি নামজারির জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। সরকারি ফির বাইরে কেন অতিরিক্ত অর্থ লাগবে জানতে চাইলে সাংবাদিকের পরিচয় বুঝতে পেরে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান কোনো মন্তব্য না করে অফিস ত্যাগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসের এক কর্মচারী বলেন, “চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মোটা অঙ্কের টাকা ছাড়া কোনো ফাইলেই হাত দেন না।”
লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার ইউনিয়নের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আমার এক আত্মীয়ের কাছেও নামজারির জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, “অফিসে জনবল সংকট রয়েছে। তবে জমি খারিজে সরকারি ফির বাইরে কোনো টাকা নেওয়া হয় না।”

নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালেদ বিন মনসুর বলেন, “ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এমএসএম / এমএসএম

তারাগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচিতে এমপি ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা

বিতর্কিত এসআই নেয়ামতের বিরুদ্ধে ঘুষ-চাঁদাবাজির মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

গৌরনদীতে গভীর রাতে সৌদি প্রবাসীর বাড়ির দেয়াল ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর

রূপসার ফখরুল হত্যার ঘটনায় ‘কাটাপ্পা’ গ্রেপ্তার

কাছাইট গ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান মহারাজ আর নেই

শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে পেকুয়ায় গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম

অভয়নগরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন, চার চাষিকে পুরস্কার

শ্রীনগরে মদ্যপ অবস্থায় কৃষক দল নেতার নাচগানের ভিডিও ভাইরাল

পটুয়াখালীতে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ছয় দফা দাবিতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন-সহস্রাধিক শিক্ষার্থী-অভিভাবকের অংশগ্রহণ

উলিপুরে জাতীয় মৎস পক্ষের উদ্বোধন

মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন

চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে কিশোর রাহুলের জীবন