ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

ঘুষ না দিলে নামজারি নয়, অভিযোগে উত্তাল নবীনগর লাউর-ফতেহপুর ভূমি অফিস


সফর মিয়া, নবীনগর photo সফর মিয়া, নবীনগর
প্রকাশিত: ২০-৭-২০২৬ দুপুর ৪:৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি ফির বাইরে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় ছাড়া নামজারি (খারিজ) হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আতিকুর রহমানের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা। অতিরিক্ত টাকা না দিলে মাসের পর মাস ফাইল ঝুলে থাকে, আর চাহিদামতো অর্থ পরিশোধ করলে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি নামজারির জন্য মোট ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে কোর্ট ফি, নোটিশ জারি, রেকর্ড সংশোধন এবং মিউটেশন খতিয়ানের নির্ধারিত ব্যয়। কিন্তু ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লাউর ফতেহপুর ভূমি অফিসে জমির ধরন ও দলিলভেদে ৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি না হলে আবেদনকারীদের দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হয়। অনেকেই দাবি করেন, অনলাইনে আবেদন করলেও নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। একই সঙ্গে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়মিত দেরিতে অফিসে আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করার অভিযোগও রয়েছে।
লাউর ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, “সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে টাকা ছাড়া কোনো কাজই করা হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
ভুক্তভোগী আব্দুল হাইয়ের দাবি, তাঁর একটি জমির নামজারির জন্য ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পাশের আরেকটি জমির নামজারির জন্য ১৮ হাজার টাকায় চুক্তি করে ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন লাউর ফতেহপুর গ্রামের পান বিক্রেতা সুভাষ চন্দ্র সাহা। তাঁর অভিযোগ, ১৫ শতক জমির নামজারির জন্য ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এই অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে ব্যবসার মূলধন শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন তিনি ফেরি করে পান বিক্রি করছেন।

সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে স্থানীয় এক প্রবাসীর সঙ্গে ভূমি অফিসে গেলে একটি নামজারির জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। সরকারি ফির বাইরে কেন অতিরিক্ত অর্থ লাগবে জানতে চাইলে সাংবাদিকের পরিচয় বুঝতে পেরে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান কোনো মন্তব্য না করে অফিস ত্যাগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসের এক কর্মচারী বলেন, “চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মোটা অঙ্কের টাকা ছাড়া কোনো ফাইলেই হাত দেন না।”
লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার ইউনিয়নের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আমার এক আত্মীয়ের কাছেও নামজারির জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, “অফিসে জনবল সংকট রয়েছে। তবে জমি খারিজে সরকারি ফির বাইরে কোনো টাকা নেওয়া হয় না।”

নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালেদ বিন মনসুর বলেন, “ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এমএসএম / এমএসএম

তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে হবে, ইসমাইল জবিউল্লাহ

বরগুনায় জি,টিভির প্রাইভেটকারও ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত -২

পর্যটন ও পরিবেশ সুরক্ষায় কুয়াকাটায় তারুণ্যের উৎসব

পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নাই,চাল আসবাবপত্র সব পুড়ে ছাই

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে শালিখা থানা পুলিশের মোটরসাইকেল মহড়া

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের অধিগ্রহণের চেক বিতরণ

এসি বাস চালু হতেই ফের বাধা, বাঁশখালীতে আটকে দেওয়া হলো এসআর পরিবহনের দুই এসি বাস

কুমিল্লা কবি পরিষদের দাউদকান্দি শাখার সভাপতি আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাকিল সরকার

সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

গোপালগঞ্জে সাইফুর রহমান নান্টুর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার জেলা ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

নড়াইলে প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণে নড়াগাতী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাথে বৈষম্যের অভিযোগ