ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২শ কোটি, জরুরি ভিত্তিতে পূর্নবাসন প্রয়োজন


মুহাম্মদ দিদার হোসাইন photo মুহাম্মদ দিদার হোসাইন
প্রকাশিত: ২০-৭-২০২৬ বিকাল ৭:৭

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের প্রবল জোয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় এক-দেড় লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি ছিল। উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যে স্মরণকালের এই বন্যায় বাঁশখালীতে মানুষের হাজারো ঘরবাড়ি, কৃষি, মৎস্য, সড়ক ও বেড়িবাঁধসহ প্রধান ৭টি খাতে প্রাথমিক তথ্য তালিকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ২শ কোটি টাকা।
গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসময় বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ  জহিরুল ইসলাম এমপি, দক্ষিণ জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রীর বন্যাদূর্গত এলাকা পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে  ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের একটি তালিকাটি হস্তান্তর করা হয়। বন্যার পানি নামতে শুরু করায় হাঁটুপানিতে ডুবে থাকা কাঁচাঘর-বাড়ী গুলো একেরপর ধ্বসে পড়ছে। পানি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্যের আরও যোগ হতে পারে ক্ষতির পরিমাণ। বন্যার ভয়াবহতা ও ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করেন বাঁশখালীর সাংসদ জহিরুল ইসলাম এমপি।
বাঁশখালীতে ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকটি স্পটে পাহাড় ধ্বসের ঘটনাও ঘটে, এতে পানিবন্দী হয়ে পড়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত এক-দেড় লাখের বেশি মানুষ। এবং ১২ জুলাই পরবর্তী থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ও পানি কমতে শুরু করাতে ভেসে ওঠে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র। পানি কমলেও কাটছেনা বন্যা আতঙ্ক, এখনও পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বহু মানুষ। বসতঘর, কৃষি জমির ফসল, সবজি ক্ষেত, পুকুর, মাছের ঘের প্লাবিত হওয়াতে ধ্বংস হয়ে গেছে সব কিছু, সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার। তৈরি হয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এসময় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়াতে পুরো এলাকাজুড়ে ঘোর অন্ধকার নেমে আসছিল। এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছে পানিবন্দী অবস্থায় থাকা বহু পরিবারের মানুষ।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা নাজমা আক্তার জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় পানিবাহিত রোগ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যু বরণ করেছে ৪ শিশু এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও দুইজন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে ২১ জন। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদানে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে উঠে আসে প্রায় ৫০ জনের অধিক মানুষ বিভিন্ন ভাবে আহত হয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে পূর্নবাসনের দাবি জানিয়েছে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন মহল। সরকারিভাবে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এলেও সমন্বয়হীনতার কারণে ত্রাণের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে মানবিক সহয়তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এগিয়ে আসা সামাজিক, রাজনৈতিক, মানবিক সংগঠন ও সরকারী-বেসরকারি সংস্থা গুলোর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বন্যার্তরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার
জানান,গ্রীষ্মকালীন সবজি ১হাজার ১শ হেক্টর, ২ হাজার ২৩৫ হেক্টর আউশ, আমন বীজতলা ৫৫ হেক্টর, পেঁপে ২০ হেক্টর, আদা ২০ হেক্টর, হলুদ ৬.৫ হেক্টর, পানে বরজ ১০ হেক্টরসহ বাঁশখালীতে এই পর্যন্ত ৩ হাজার ৪শ ৪৬.৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ২৬ হাজার ৮শ জন কৃষকের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তৌসিফ উদ্দিন জানান, ১৪টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ২শ পুকুর এবং ১হাজার ৮৮০.৫৭ হেক্টর আয়তনের ৩১০টি চিংড়ি ঘেরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে ৫ হাজার খামারির অন্তত ৫১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে। একইভাবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদার জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় ঢলের পানিতে ৭শ ৪০ টি পোল্ট্রি খামার, ১ হাজার ২শ ৭০টি গবাদি পশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে খামারিদের অন্তত ৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড  উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, ১৪৯.৮৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অন্তত ২৩টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তন্মধ্যে ১১টি পয়েন্টে বড় ধরণের ভাঙন সৃষ্টি হয়। উপজেলার ৯নম্বর গন্ডামারা ইউনিয়নে ৫শ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭০টি স্লুইস গেটের মধ্যে ১১টি সম্পূর্ণ অচল ও ৪৬টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। নদী ও  অভ্যন্তরীণ খালের বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ ইফরাদ বিন মুনির জানান, প্রাথমিক তথ্যমতে এবারের বন্যায় বাঁশখালীতে ৫৮টি রাস্তা অর্থাৎ ১০৯ কিলোমিটার সড়ক এবং ৬০টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির হিসেবে ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৭ লক্ষ টাকা।গণ্ডামারা,শেখেরখীল,বাহারছড়া, খানখানাবাদ থেকে পানি সম্পূর্ণ নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সুত্রে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যমতে সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ৫৪টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১১ হাজার ১১০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন বলেন, টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের প্রবল জোয়ারের প্রভাবে বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।এরইমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।এরইমধ্যে চলছে পূর্নবাসন কার্যক্রম, বন্যা পরবর্তী পানিবাহিত রোগ সংক্রমণ বৃদ্ধি আশঙ্কা থাকে, তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত ও আক্রান্ত রোগীদের জরুরি সেবা প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এবং এবিষয়ে সেবা টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। পূর্নবাসন কার্যক্রম সংক্রান্তে নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, বন্যা পরবর্তী পূর্নবাসন কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন,সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন থেকে বন্যাদূর্তদের পূর্নবাসনের জন্য যারা এগিয়ে আসছেন, তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে পূর্নবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করার আহ্বান জানিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ইতিমধ্যে যারা পূর্নবাসন সহায়তা প্রদান করেছেন, এবং কোন কোন এলাকার কয়টি পরিবারকে পূর্নবাসন সহায়তা দিয়েছেন সেই তথ্য গুলো উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।
উল্লেখ্য, অরক্ষিত বাঁধ, মাছের ঘেরের নামে স্লাইস গেইট গুলোতে প্রভাবশালী মহলের আধিপত্য বিস্তার, নদী, খাল, ছড়া দখল করে হাজারো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, হাজারো অবৈধ স্থাপন নির্মাণ, এতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) কর্তাদের নিরবতায় বাঁশখালীতে পানিপ্রবাহ পথগুলো বন্ধ হয়ে পড়াতে প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে লাখ লাখ টাকা ক্ষতি সাধন হয়ে আসছিল। সাম্প্রতিক স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় এবার বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুরো বাঁশখালীর হাজারো পরিবার। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) কর্তাদের নিরবতা নিয়ে বন্যা কবলিত এলাকার জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

Parna / Parna

সাভারসহ ঢাকা জেলার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যাতে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন।

ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতি হলেন আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ

বাবুগঞ্জে নির্মাণাধীন বাড়িতে ডাকাতি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় একমাত্র আসামির মৃত্যুদণ্ড

সিরাজগঞ্জে ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরি মেরে যুবককে হত্যার ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার

নির্বাচিত না হয়েও প্রতিশ্রুতি পুরণের অঙ্গীকারবদ্ধ বিএনপি প্রার্থী

রূপায়ণ সিটিতে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ, একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে মাতলেন দেশি-বিদেশি বাসিন্দারা

মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও দাদন বন্ধে লালমনিরহাটে 'আলোকিত লালমনিরহাট' এর বর্ণাঢ্য র‍্যালি

মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগের সদস্য অশোক কুমার মণ্ডলের পদত্যাগ

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২শ কোটি, জরুরি ভিত্তিতে পূর্নবাসন প্রয়োজন

খালিয়াজুরীতে ৩৪ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

কাপাসিয়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে দৃঢ় অঙ্গীকার

ফুলে সাজানো গাড়িতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে রাজকীয় বিদায়