অবহেলায় হারাতে বসেছে মগনামার শতবর্ষী জমিদার বাড়ির ঐতিহ্য
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মগনামা জমিদার বাড়ির (সিকদার বাড়ি) প্রধান ফটক আজ অবহেলা, অযত্ন ও সময়ের নির্মম ক্ষয়ে হারিয়ে যাওয়ার পথে।
শতবর্ষের পুরোনো এই জমিদার বাড়ির প্রধান ফটক বা গেইট এখনো অতীতের গৌরবময় ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একসময় এই জমিদার বাড়ি ছিল মগনামা ও আশপাশের এলাকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। বিশাল আয়তনের এই ফটক দিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা ছিল। জমিদার বাড়ির প্রধান ফটক ছিল অতিথি, প্রজাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রবেশদ্বার। সময়ের পরিবর্তনে অনেক অংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও এখনও দাঁড়িয়ে থাকা এই ঐতিহাসিক ফটক অতীতের গৌরবের স্মৃতি বহন করে চলেছে।
ঐতিহাসিক তথ্য ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এই জমিদার বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে মরহুম জমিদার শেখ আব্দুল আজিজ চৌধুরীর স্মৃতি ও উত্তরাধিকার। তাঁর সময়ে জমিদার বাড়িটি ফটকটি ছিল এলাকার অন্যতম প্রভাবশালী স্থাপনা। শিক্ষা, সমাজকল্যাণ এবং জনসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সালিশ, উৎসব ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতো এই ফটক।
বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবহেলা এবং দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জমিদার বাড়ির ফটকটির বিভিন্ন অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে প্রধান ফটকটি এখনো তার প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, কারুকাজ ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে। প্রতিটি ইট, প্রতিটি নকশা যেন শতবর্ষের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একেকটি জীবন্ত দলিল।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক, ইতিহাসপ্রেমী ও সংস্কৃতিবিদদের মতে, মগনামা জমিদার বাড়ি শুধু একটি পরিবারের সম্পদ নয়,এটি পেকুয়া উপজেলা ও কক্সবাজার জেলার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি একটি দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবেও গড়ে তোলা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এই জমিদার বাড়ির প্রধান ফটক সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ইতিহাসভিত্তিক গবেষণা ও তথ্যসংগ্রহের মাধ্যমে এই স্থাপনাকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষণের দাবিও জানান তারা।
প্রখ্যাত জমিদার প্রয়াত এমপি মাহামুদুল করিম চৌধুরীর ছেলে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ৩ বারের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, আমার দাদা মরহুম শেখ আব্দুল আজিজ চৌধুরী ১৩৪৯ বাংলায় প্রথমে হাওয়া ভবণ হিসেবে প্রধান ফটকটি নির্মাণ করেন। সেখানে জমিদার বাড়ির সকলের পড়াশোনাতেও ব্যবহার হতো। পরবর্তীতে ফটকটি অস্থায়ী পোষ্ট অফিস হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। এটি আমাদের পরিবারের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে মগনামা জমিদার বাড়ি আবারও নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখা মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজের শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। আর সেই ইতিহাসের নীরব প্রহরী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে মগনামা জমিদার বাড়ির (সিকদার বাড়ি) প্রধান ফটক যেখানে প্রতিটি ইট ইতিহাসের কথা বলে, আর প্রতিটি নীরবতা শোনায় এক গৌরবময় অতীতের গল্প।
এমএসএম / এমএসএম
মুকসুদপুরে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১
নেত্রকোণায় জুয়ার আসর থেকে যুবদল নেতা,ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা-বিজিবি সদস্যসহ আটক-৮
সুন্দরবনের আলোচিত বনদস্যু ‘নানা ভাই' বাহিনীর ১২ সদস্য মোংলায় কোষ্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ
সিংড়ায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, পদ স্থগিতের দাবিতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন
রাজশাহীর পবায় সার কেলেঙ্কারি: কৃষি কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা নাকি স্বজনপ্রীতি ?
রায়গঞ্জে পানি সরতেই ৫ হাজার বিঘায় চাষ, কৃষির সঙ্গে ফিরছে সরকারের রাজস্ব
আদমদীঘিতে ৩৫০ ফিট চায়না দুয়ারি জাল জব্দ
ভূরুঙ্গামারীতে শিয়াল ঠেকাতে বিদ্যুতায়িত ফাঁদ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গরুর মৃত্যু
বাকেরগঞ্জে কাবাব এর নামে কি খাচ্ছেন আপনি এবং আপনার ফ্যামিলি
মান্দায় সড়ক সংস্কারের মান পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক
৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি ধুনটে স্কাউটদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ
হাতিয়া তমরদ্দি ইউনিয়নে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা, বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান