চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
যোগ্যতা নেই তবুও চাকরি, অবশেষে অব্যাহতি!
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ)চাকরি প্রবিধানমালা ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদনের যোগ্যতাই নেই তবু আবেদন, লিখিতি পরীক্ষা, ভাইবা, নিয়োগ ও ট্রেনিং সবই হয়েছে। তবে চাকরির প্রায় ৫ মাস পর অবশেষে যোগ্যতা না থাকায় ৮ ইমারত পরিদর্শককে অব্যাহতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ৬ আগস্ট সচিব মাহবুব উল করিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষিয়টি নিশ্চিত করেছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ”২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে দেওয়া নিয়োগপত্রের শর্তানুযায়ী যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় এবং তাদের যোগদান পত্র গৃহীত না হওয়ায় ৮ জন ইমারত পরিদর্শককে চউক এর চাকুরী হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো”। অব্যাহতিপ্রাপ্ত ৮ ইমারত পরিদর্শক হলেন, অনয় সিংহ সুজাত (রোল ২০০১২৫), দ্বিন ইসলাম লিমন (২০০১৩২), মো. আবদুর রহমান রিয়াদ (২০০১২৭), তাহমিদুল ইসলাম ইবনুল (২০০২৬২), মো. মাহিদুল হাসান (২০০২২৪), মো. ইকরামুল হক (২০০২৫৬), ইজতিহাদ ইসলাম খান (২০০১৭১) ও মো. শরিফুল ইসলাম (২০০১৬৮)।
জানা যায়, নানা অনিয়মে বিতর্কিত এই নিয়োগে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা, ২৫ জানুয়ারি মৌখিক পরীক্ষা (ভাইবা), একইদিনে নির্বাচিতদের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, ১৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগপত্র ইস্যু, ২২ ফেব্রুয়ারি চাকরিতে যোগদান ৯ মার্চ অথরাইজেশন শাখায় পদায়ন, ২ এপ্রিলের বোর্ডসভায় অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ও ৬ আগস্ট অব্যাহতির চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫ মাস চাকরি করেও বেতন পাননি কেউ।
জানা যায়, অন্তবর্তী সরকারের আমলের ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা, একাধিক লিখিত অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন উপেক্ষা করে নিয়োগের প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করে বিতর্কিত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে তৎকালীন প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, পরীক্ষা নেওয়ায় অনিয়ম, ভাইবাতে অনিয়ম, যোগ্যতা না থাকার পরও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ এমনকি নিয়োগপত্র প্রদান করাসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে দৈনিক সকালের সময়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও কর্ণপাত করেনি নিয়োগ কমিটি। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয় একাধিক তদন্ত কমিটি করলেও আলোর মুখ দেখেনি একটিও। বর্তমানে সরকার ও চেয়ারম্যান পরিবর্তনের পর বিষয়টি নিয়ে আবারো আলোচনায় আসে।
গত ২ এপ্রিল এই বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয় বোর্ডসভায়। সেখানে অনেকেরই চাহিত শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ফলে এসএসসি পাস করে যোগদান করা ইমারত পরিদর্শকদের অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ডসভা। কিন্তু এরপরও তা বাস্তবায়ন করেনি কর্তৃপক্ষ বরং মন্ত্রণালয়ে তদবীরের মাধ্যমে এসব অপকর্মকে বৈধতা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে একটি চক্র। এই বিষয়ে গত ২৮ জুলাই দৈনিক সকালের সময়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসেন কর্তৃপক্ষ। ফলে বাধ্য হয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন ৮ ইমারত পরিদর্শককে অব্যাহতি দিয়েছে সিডিএ।
সূত্র জানায়, প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির শর্ত ও চাকরি প্রবিধানমালা ভঙ্গ করে উচ্চমাধ্যমিকের স্থলে এসএসসি পাস ’ইমারত পরিদর্শক’ নিয়োগ দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চলছে তীব্র সমালোচনা। অনেকেই এটিকে ক্ষমতার অপব্যবহার বা ঘুষ বাণিজ্যের মহোৎসব বলে মনে করছেন। তবে এই নিয়োগকে শতভাগ স্বচ্ছ বলে দাবি করেছিলেন তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম।
জানা যায় গতবছরের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ১৭ নং কলামে ১৮ জন ’ইমারত পরিদর্শক’ নিয়োগের কথা বলা হয়। যেখানে প্রবিধানমালা অনুযায়ী প্রার্থীর যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে সার্ভে ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। প্রার্থীর বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৩২ বছর। কিন্তু নিয়ম ভেঙে মাধ্যমিকে (এসএসসি) উত্তীর্ণ সার্ভেয়ারদের এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। যেটিকে মারাত্মক দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এইচএসসি পাস না হলে এই পদে পরীক্ষা দেয়ারই অযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার কথা। তাদের নামে প্রবেশপত্র ইস্যু হওয়ার কথা নয় কিন্তু এসব নিয়ম ভেঙে কম যোগ্যতাসম্পন্ন ৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যদি বড় কোন অনৈতিক লেনদেন না থাকে তাহলে এটি কিভাবে হয়েছে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সচিব মাহবুব উল করিমের মোবাইলে কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অর্থ ও প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) নুরুল্লাহ নুরী আগে বলেছিলেন, কোন প্রার্থীর চাহিত যোগ্যতা না থাকলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণেরই সুযোগ নেই। বাছাইয়ে বাদ পড়ার কথা, তারপরও যদি এমন কম যোগ্যতাসম্পন্ন কারো নিয়োগ হয়ে থাকে তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখব। যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনে তাদের নিয়োগ বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এসব অনিয়মে যারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে মোবাইলে কল দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
সিডিএ’র নিয়োগে নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গ্যমাধ্যমে এর আগেও একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং এই অনিয়মের বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন অনেক পরীক্ষার্থী। ফলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ২৫ জানুয়ারী সিডিএ চেয়ারম্যান ও সচিবকে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলেন একসাথে ১৪ পরীক্ষার্থী। একই সাথে স্বচ্ছ নিয়োগ কার্যক্রম সম্পাদনের স্বার্থে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও যোগ্যতাবিহীন প্রার্থীদের পরীক্ষা বাতিল করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হলেও আবেদনের বিষয়ে তখন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এমএসএম / এমএসএম
কেবল দেনা শোধ করেছি, বাড়ি গিয়ে বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ করবো
ঘরের কাজে ব্যস্ত মা, মনপুরায় পানিতে ডুবে প্রাণ গেল আড়াই বছরের তাসমিয়ার
মাগুরায় ৩৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গেজেটভুক্ত
কুতুবদিয়ায় ছাত্রদলের নেতাদের শালীনতা বিবর্জিত আচরণে বিব্রত বিএনপি
অনিয়মের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের শক্ত হাতে কলম ধরার আহ্বান এমপি সুরাইয়া জেরিন রনির
সৌদি আরবে আগুনে মৃত্যু: পরিচয় মিলেছে নওগাঁর ১৩ জনের
নরসিংদীতে মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান, গ্রেপ্তার ৩২
খুলনায় এবার দুর্বৃত্তদের গুলিতে নারী আহত
হাওরে অবাধে শামুক নিধন হুমকিতে জীববৈচিত্র্য
বাড়িতে ঢুকে যুবদল নেতাকে গুলি, অভিযোগ জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে
জামিনে মুক্তি পাওয়াদের বরণ করতে গিয়ে ফুলের মালাসহ আ.লীগের ৪ নেতাকর্মী আটক
যোগ্যতা নেই তবুও চাকরি, অবশেষে অব্যাহতি!