ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

ছোট ও মাঝারি শিল্প গিলে খাচ্ছে কর্পোরেট কোম্পানি।


বুলবুল হাসান, বেড়া photo বুলবুল হাসান, বেড়া
প্রকাশিত: ১৫-৮-২০২৬ দুপুর ২:৫০

কালের বিবর্তনে ও বড় বড় কোম্পানির আধিপত্যের কারণে আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী হাতে তৈরি নারকেলের খাজা হারিয়ে যাওয়া পথে। আশিঊর্ধ্ব বয়সী আব্দুল ওহাবের সাথে কথা হলে তিনি এমনটা-ই বলেন । এতে বহু লোক কর্মহীন হয়ে গিয়েছে বলেন জানান তিনি। এমন অসংখ্য উদাহরণ এদেশে রয়েছে। রাস্তায় দাঁড়ানো ওহাবের পাশেই ছোট দোকানে সাজানো রয়েছে কর্পোরেট কোম্পানির অসংখ্য এমন পণ্য। দেশের বৃহৎ কোম্পানিগুলো তাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, বিপণন ক্ষমতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সুবিধা ব্যবহার করে বাজারে এমন প্রভাব বিস্তার করছে, যার ফলে ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এসএমই টিকে থাকতে হিমসিম খাচ্ছে। ফলো শ্রুতি দেশে কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। সেই সাথে গ্রামীণ জনপদে কর্মহীনতায় বাড়ছে দারিদ্র্যতা। সম্প্রতি সময়ে দেশে দুই টাকার কটকটি বিক্রেতার কর্মও কেড়ে নিয়েছে কর্পোরেট কোম্পানি। বাদাম বিক্রেতার থেকে শুরু করে ঝালমুড়ি বিক্রেতার, আচার বিক্রেতার, চিড়ামুডি বিক্রেতার,সোম্পাপড়ি বিক্রেতার, খাজা বিক্রেতার, আইসক্রিম বিক্রেতার, নাড়ু বিক্রেতার, দুধ বিক্রেতার, ডিম বিক্রেতার, মুরগী বিক্রেতার, জলপাই বিক্রেতার গিলে খেয়ে ফেলেছে। এছাড়াও অসংখ্য এমন লাখো ক্ষুদ্র উদ্দোক্তাদের কর্ম কেড়ে নিয়েছে কর্পোরেট কোম্পানি। এতে এক সময়ে কর্ম করে খাওয়া লাখো মানুষ  আজ পরিবার পরিজন মানবেতর জীবনযাপন করলেও দেখার কেউ নেই। এখনই কর্পোরেট কোম্পানির লাগাম টানা না হলে দেশে কর্মসংস্থানের মহা আকাল হবে। ঢাকা শহরে যে লাখো রিক্সা চালক দেখা যায় তাদের অধিকাংশেরই খোঁজ নিলে দেখা যাবে এক সময় এই সকল ছোট ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোই ছিলো। এখন অনেকই বাধ্য হয়ে শহরে গিয়ে রিক্সা চালায়। দেশের ক্ষুদ্র উদ্দোক্তাদের আজ ধংসের মহা কর্মজজ্ঞে নেমেছে কর্পোরেট কোম্পানিগুলো। দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্দোক্তাদের কর্ম কর্পোরেট কোম্পানি গিলে খেলেও দেখার দায় যেন রাষ্ট্রের রথী মহারথী নেই। তারা আছেন জনগণের উপর কর বাড়িয়ে তাদের ভোগবিলাসী জীবন ভোগের ফিরিস্তি নিয়ে । দেশ এবং দেশের মানুষ নিয়ে এদের কোন মাথাব্যাথা নেই। পঞ্চান্ন বছরের পুরনো ইতিহাস তো এমন কথাই বলে। দেশের প্রায় ৫ কোটি বেকারের কর্মসংস্থান না করে লক্ষ-লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট আর বিদেশে পাচার করে কারা? কিভাবে?
বাংদেশের একটু পাশেই চায়নার দিকে তাকালেই দেখা যায় পাড়া মহলায় বাড়ি-বাড়ি
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান আর আমাদের দেশে জনগণ কে জিম্মি করার জন্য লেলিয়ে দেয়া হয়েছে কর্পোরেট কোম্পানিগুলো কে। এতে দেশে নতুন উদ্দোক্তা তৈরির পথ বন্ধ করার জন্য । কর্পোরেট কোম্পানির টাকা আছে তারা আরও বড় বড় মেগা শিল্প কারখানা তৈরি করবে, তা না করে কি ভাবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চালিকা শক্তি কে ধংস করা যায় তার জন্য সুনিপুণ কৌশল করার চক্রান্ত নেমেছে যেন । দেশে কর্মসংস্থান জরুরি, সে কথা কেউ বলে না, যেই ক্ষমতায় আসে সেই বাড়তি কর আরোপ করে তার সুবিধা নেয়। দেশের পঞ্চান্নটি বছর অতি বাহিত হলেও রাষ্ট্র ও জাতির সুবুদ্ধি উদয় হলো না। দুই দশক আগেও গ্রামীণ জনপদে যেভাবে ঘরে ঘরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কারখানা গড়ে উঠে ছিলো তা আজ অধিকাংশ ধংস হয়ে গিয়েছে কর্পোরেট কোম্পানির দক্ষল দারিত্বে। দেশে টেকসই উন্নয়নে শিল্প কারখানা স্থাপনের বিকল্প নেই। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২৭ লাখ ৩০ হাজার। সেই হিসেবে জেলা প্রতি গড়ে ৪২ হাজার ৬৫৬ জন বেকার রয়েছে। দেশের এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারলে টেকসই উন্নয়ন তরান্বিত হবে। অন্যথায় দেশ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে পড়বে। এ প্রসঙ্গে আরো একটি বিষয় সামনে আনা প্রয়োজন যে উদ্দোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে
বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ১৩৭ দেশের মধ্যে ১৩২, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন, এমন কি আফগানস্থানেরও। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দেশের মানুষের কর্মের প্রয়োজনে কর্পোরেট কোম্পানি কে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় এনে ক্ষুদ্র শিল্প গুলো বাঁচিয়ে রাখা এখন জরুরি হয়ে গিয়েছে। 

ক্ষুদ্র উদ্দোক্তা ওহাব বলেন, ছোট বেলা থেকেই তিনি নিজ বাড়িতে, নিজের হাতে নারিকেলের খাজা তৈরি করে হাট বাজারে বিক্রি করে আসছেন। বর্তমানে তেমন চলে না, ষাট বছর যাবত তিনি এই ব্যবসা করছেন। বিভিন্ন কোম্পানি এখন এগুলো তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে। এতে আমাদের মতো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এক সময় দুই টাকা জোড়া নারিকেল কিনে এনে নারিকেল খাজা তৈরি করতাম এখন দুই শত টাকা জোড়া নারিকেল কিনতে হয়।

সোনাপদ্মা গ্রামে নতুন ভারেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রবীণ প্রধান শিক্ষক (সাবেক) এ কে এম আবুল কালাম বলেন, গ্রামীণ জনপদে এক সময় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প ছিলো, এখন সেগুলো কর্পোরেট কোম্পানি সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বিলুপ্ত প্রায়। এই শিল্প গুলো বাঁচিয়ে রাখলে দেশের মানুষের যেমন আর্থিক মুক্তি সম্ভব তেমন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে। এতে গ্রামীণ জনপদের মানুষের  জীবন যাএার মান উন্নয়ন হবে।

পরিশেষে বর্তমানে দেশের মানুষের জীবিকার স্বার্থে কর্পোরেট কোম্পানি গুলো কে আইন করে হলেও  আমাদের সমাজের ক্ষুদ্র উদ্দোক্তাদের ব্যবসা গিলে খাওয়া বন্ধ করা উচিত। অন্যথায় দেশের মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে যাবে। গ্রামের মানুষ এক সময় শহর মুখী হয়ে পড়বে, শহরে উপর চাপ বাড়াবে, দেশের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হবে। এখনই ক্ষুদ্র শিল্প গুলো বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে। দেশে যেভাবে বেকারত্ব বেড়েছে তাতে জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।

এমএসএম / এমএসএম

৯ শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি

চট্টগ্রামে রেলের জলাশয়ে জুয়ার আসর, মৌন সম্মতি

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে টুঙ্গিপাড়ায় সংঘর্ষ, আহত ৫

বারহাট্টায় মনসা পূজা ঘিরে জমজমাট পাঁঠার হাট

দাউদকান্দিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের দুই নেতা গ্রেপ্তার

মনপুরায় পুলিশের অভিযানে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা আটক, জেল হাজতে প্রেরণ

আত্রাইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নাগরপুরে নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি ১৫ দিনেও মেলেনি সন্ধান

আদালতের আদেশ অমান্য করে শিক্ষকের জমিতে ধান রোপণের অভিযোগ।

ছোট ও মাঝারি শিল্প গিলে খাচ্ছে কর্পোরেট কোম্পানি।

কমলা বেগমের নিজ বাড়িতে বসবাস করতে না পারার অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন

মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলায় পাটের ভালো দাম পেয়ে কৃষকের চোখেমুখে হাঁসি

শরণখোলায় পুলিশের অভিযান: ৭৭ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১