রাণীনগরে এডব্লিউডি তদন্তে অনিয়ম; মুখে কুলুপ এঁটেছে তদন্তকারী কর্মকর্তা
নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে অজ্ঞ কৃষকদের সহায়তা না করায় পার্টনার প্রকল্পের আওতায় গ্রহণ করা পর্যায়ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি)প্রযুক্তি নির্ভরশীল প্রদর্শনীর কার্যক্রম ভেস্তে যাওয়ায় আলোর মুখ দেখেনি।এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে কৃষি বিভাগের উচ্চ পর্যায় নড়েচড়ে বসেছে এবং তদন্তের উদ্দ্যেগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা না করার ঠুকনো অভিযোগ থাকলেও এবার প্রদর্শনীর সুবিধাভোগী কৃষকরা এসে ভিন্ন কথা বলেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট। এতেই বেধেছে বিপত্তি। এ যেন কেঁচো খুড়তে সাপ বেড়িয়েছে।প্রতিটি প্রদর্শনীর জন্য ৫০ হাজার টাকা করে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৮ একর জমি উপর স্থাপিত ৪টি প্রদর্শনীর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নয়ছয় করে কম উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইতিমধ্যে গত মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৪ জন কৃষককে উপজেলা কৃষি অফিসে ডেকে এনে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। দায়িত্বহীনতা ও অবহেলা জনিত কারণে প্রদর্শনীর সুফল ভেস্তে গেলেও প্রদর্শনীর জন্য বরাদ্দকৃত সমস্ত উপকরণ দেওয়া হয়নি বলেই কৃষকদের কথা থেকেই এমন গুরুত্বর অভিযোগ উঠে এসেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোঃ মেহেদুল হাসান ও খোদ দপ্তর প্রধান উপ-পরিচালক মোঃ মনজুর রহমান পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে দেয়ার কারণে রহস্যের দানা বেঁধেছে। অভিযোগ উঠেছে তারা দায়ীদের বাঁচাতেই মুখে কুলুপ এঁটে কিছু একটা আড়াল করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোঃ মেহেদুল হাসান বলেন, অফিসের ও মাঠের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলার জন্য গিয়েছিলেন, এডব্লিউডি নিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলেছি, কৃষকরা কি বললেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তদন্তের বিষয় আপনাকে বলবো না। আহবায়ক অন্য আরেক জন আছে, এটা নিয়ে ডিডির সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অদিপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মনজুর রহমান বলেন, আমরা তো ফ্রি কুইন্টলি সব অফিসেই যাই, এডব্লিউডির তদন্ত সর্ম্পকে বলেন একটি স্রোত যখন মুভ করে তখন হুট করে থামাতে পারবেন না।আস্তে আস্তে একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।আমাদের কাছে একটা ইয়ে আছিলো.....। আমরা সব গুলো বিষয়েকে এ্যাডড্রেস করেছি, সবাই যদি অন্ধকার থাকি, আস্তে আস্তে আলো বের করি।
অভিযোগ উঠেছে, নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে বোরো মৌসুমে ২৮ থেকে ৩০ শতাংশ পানি সাশ্রয়ের জন্য গ্রহন করা পার্টনার প্রকল্পের আওতায় গ্রহন করা পর্যায়ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) প্রযুক্তি নিরভর প্রদর্শনীর কার্যক্রম ভেস্তে যায়। যার ফলে তেমন কোন সুফল আসেনা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হলেও কিছু একটা গোপন করতে গিয়ে শুরুতেই লুকোচুরি খেলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে তদন্ত কার্যক্রমের ফলাফল আদৌ আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে শুরুতেই সংশয় দেখা দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রধান কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রতি দুই একর (একক ) প্রদর্শনীর জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কৃষকের ৮টি উপকরন হিসেবে ২০ কেজি বীজ ১ হাজার ৪শ টাকা, বীজ শোধক (থোক) ৫০০ টাকা, ২০০ (৪বস্তা) কেজি ইউরিয়া সার ৫ হাজার ৪’শ টাকা, ১৫০(৩ বস্তা) কেজি ডিএপি ৩ হাজার ১’শ ৫০ টাকা, ১২০ কেজি এমওপি ২ হাজার ৪’শ টাকা, ৬ কেজি জিংক সালফেট (মনো) ১ হাজার ৫’শ টাকা, ৬০ কেজি জিপসাম ৯’শ টাকা,৩ কেজি বোরণ ১হাজার ২’শ টাকা, ১৫০ কেজি জৈব সার ২ হাজার ২’শ ৫০টাকা, বালাইনাশক ও আগাছা নাশক ৩ হাজার, ৬ পিস এব্লিউডি পাইপ ১ হাজার ৮’শ টাকা, শ্রমিকের ১ হাজার টাকা, ১’শ কেজি ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ১০টি লক যুক্ত ড্রাম ১৪ হাজার টাকা, ১টি সাইন বোর্ড বাবদ ১হাজার টাকা। এছাড়া পরিবহন খরচ(থোক) ১ হজার টাকা, ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টেশন ভাতা ৮হাজার ৫’শ টাকা, অন্যান্য খরচ ১ হাজার টাকা বরারদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কৃষকের বরাদ্দ থেকে কাটছাট করে উপকরণ দেওয়া হয়। কৃষকদের অভিযোগ তাদের প্রদর্শনীর জন্য সরকার আসলে কি কি বরাদ্দ দিয়েছিলো তা তাদের জানা ছিলো না। তাই তারা অন্ধকারে ছিল। তাদের যা দিয়েছে সেটা দিয়েই প্রদর্শনী করার চেষ্টা করেছে। কৃষকদের নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারের হাতে কলমে কোনো নিয়মকানুন বা প্রশিক্ষণ না দেওয়ার ফলে সফলতার মুখ দেখেনি। ফলে কৃষকরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
চকবলরাম গ্রামের কৃষক ওসমান আলী বলেন, কালীগ্রাম কসবাপাড়া গ্রামের বাবু সরদার, জলকৈ গ্রামের কামরুল ইসলাম, প্রদর্শনীর জন্য কি কি উপকরণ তা আমাদের বলা হয়নি ইউরিয়া সার ৪ বস্তার স্থলে ৩ বস্তা ,ডিএপি ৩ বস্তার স্থলে ২ বস্তা, এমওপি ১২০ কেজির স্থলে ১০০ কেজি দিয়েছে, ড্রামের দাম ৬’শ বা ৭’শ টাকা হবে, বোরন ৩ কেজির স্থলে ছোট ২/৩ প্যাকেট, জিপসাম ৬০ কেজির স্থলে ৪০ কেজি , জৈব সার ১৫০ কেজির স্থলে ৮০ কেজি, শ্রমিক বাবদ ১ হাজার টাকা দেওয়া হয়নি, ৬ কেজি জিংক সালফেট (মনো) স্থলে ৫ কেজি, বালাইনাশক ও আগাছা নাশক ৩ হাজার টাকার স্থলে ৩’শ টাকার মতো ঔষুধ দিয়েছে, সাইন বোর্ডের বাঁশ নিজের টাকা দিয়ে কিনে বসাতে হয়েছে। কাগজ কলমে ঠিক থাকলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কৃষকের নায্য বরাদ্দ এভাবেই নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষেয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ মোস্তাকিমা খাতুনকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেনি। তবে অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম তদন্ত শুরু হওয়ার করা স্বীকার করে হোয়াটসঅ্যাপ এ কল দিতে বলেন ।
রাণীনগর উপজেলায় পার্টনার প্রকল্প সফল করার জন্য্ ডবল কেবিন পিকআপ,জ্বালানী সুবিধা এবং উপজেলা কৃষি অফিসে ৬ষ্ঠ গ্রেডের দু’জন উপজেলা কৃষি অফিসার ও অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সার্বক্ষনিক থাকার পরেও কেন সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আলোর মুখ দেখলো না তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে এবং খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবী বলে সচেতন মহল মনে করছে।
Aminur / Aminur
দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
বাগেরহাটে টেকসই বেড়ী বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
লাকসামে জামায়াতের উদ্যোগে ফ্রি সুন্নাতে খৎনা কর্মসূচী উদ্বোধন
অবশেষে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় মামলা
মীরগঞ্জে অন্তঃশ্রেণী ফুটবল ফাইনাল অনুষ্ঠিত, সভাপতিত্ব করেন নাজমুল হক
রায়গঞ্জে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন, পরে ভুতুড়ে মামলায় খাটলেন জেল! বিছানায় কাতরাচ্ছেন ভুক্তভোগী
গোদাগাড়ীর কৃতি সন্তান সাবেক আইজি ড. এম এনামুল হকের ইন্তেকাল
পেকুয়ায় সবুজায়নের বার্তা নিয়ে বৃক্ষমেলা উদ্বোধন
ঘোড়াঘাটে ১১০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ নারী আটক, সহযোগী পলাতক
রাণীনগরে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড
নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে জুয়ার আসরে ৬ জন আটক, অবৈধ বালু উত্তোলনে ৫ জনকে জরিমানা
রাণীশংকৈলে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার