জামিনে বেরিয়ে ভাইয়ের হাত-পা কর্তন, পুলিশ না ধরায় ভাতিজাকে খুন
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার কোলা ইউনিয়নের পুর্ব কোলাগ্রামের সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লার বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করলে জামিনে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদিকে হুমকি দিচ্ছে। বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন হত্যার শিকার প্রবাসী ইলিয়াস মোল্লার স্ত্রী লিপি বেগম। এসময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া খুনি ও সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লাসহ সন্ত্রাসীদের নির্মমতার শিকার হয়ে হাত-পা হারানো ইসহাক মোল্লাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিপি বেগম বলেন, জমিজমার বিরোধে আপন বড়ভাই ইসহাক মোল্লার ডান পা কুপিয়ে পৃথক করে তা নিয়ে উল্লাশ করে। এঘটনায় ইসহাক মোল্লার করা মামলায় আসামিকে গ্রেফতার করে। কিন্তু পুলিশ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসামীদের চার্জসিট থেকে বাদ দেয়। এই ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ। উক্ত ঘটনার এক বছর পর গত ১৯ জুন আপন ভাতিজা ইলিয়াস মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করে। ইলিয়াস মোল্লাকে হত্যার সময় তার বড় ভাই ইসহাক মোল্লাকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এসময় পঙ্গু ইসহাক মোল্লার ডান হাতের দুই আঙ্গুল কেটে নেয়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়। ইলিয়াস মোল্লা মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। তিনি দেশে এসে হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় আসামিরা গ্রেফতার হলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিও দেন। তাদের মধ্যে একজন জামিনে বেরিয়ে ফের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি ধমকি দিচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, তার চাচা-শ্বশুর ইসহাক মোল্লার সঙ্গে স্থানীয় সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লা, তার স্ত্রী রওশন আরা এবং তাদের দুই পুত্র বিপ্লব মোল্লা ও বিদ্যুৎ মোল্লার আগে থেকেই জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরে ২০২৫ সালে আমার চাচা-শ্বশুর ইসহাক মোল্লার ওপর সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লার পরিবার হামলা করে তার পা কেটে ফেলে এবং চিরতরে পঙ্গু করে ফেলে। আমার স্বামী প্রবাসী ইলিয়াস মোল্লা চেয়েছিলেন বিরোধের মীমাংসা হোক, দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি ফিরে আসুক। সে কারণেই তিনি দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই শান্তির চেষ্টা যেন তার জন্যই কাল হয়ে দাঁড়ায়।
সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লা আমার স্বামীকে হত্যার টার্গেট করে। গত ১৯ জুন শুক্রবার আমার স্বামী তার পঙ্গু চাচা ইসহাক মোল্লাকে হুইলচেয়ারে করে রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই হঠাৎ পেছন থেকে একটি অটোতে এসে সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লা, রওশন আরা, বিদ্যুৎ মোল্লা ও বিপ্লব মোল্লা আমার স্বামীকে পেছন থেকে রামদা দিয়ে কোপাতে শুরু করে। তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাতের রগ কেটে ফেলে এবং তার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। আমার স্বামী জীবন বাঁচানোর জন্য ছটফট করলেও তাকে বাঁচানোর কেউ ছিল না। ইসহাক মোল্লা নিজেও ছিলেন একজন পঙ্গু মানুষ। তিনি হুইলচেয়ারে বসা অবস্থায় কোনো দিকে যেতে পারছিলেন না। সেই অসহায় মানুষটিকেও তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাতের দুটি আঙুল কেটে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে। এরপর তারা সেখানে থাকা লোকজনকে রামদা দিয়ে ভয় দেখিয়ে বলে—‘যে আসবে, তাকেই মেরে ফেলব।
তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী ও চাচা শ্বশুরকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর সেখানে ২০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে সিরাজদিখান থানায় মামলা করি। একে একে খুনি বিপ্লব মোল্লা, বিদ্যুৎ মোল্লা, সিদ্দিক মোল্লা ও রওশন আরা গ্রেফতার হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও আতঙ্কের বিষয় হলো, মাত্র এক মাসের মাথায় খুনি রওশন আরা জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই রওশন আরা আমাকে ও আমার পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। মামলা না তুললে বাকীদেরও মেরে ফেলার ভয় দেখাচ্ছে। এই সন্ত্রাসীদের বিচার নাহলে তারা আরও হত্যাকান্ড ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
বাংলা ভাষায় সুফি তাফসিরের একাডেমিক পরিসর বিস্তারের আহ্বান
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে আনসার সদস্যদের সতর্কতায় দুই চোর আটক
ভেটেরিনারি ডক্টরস' এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভ্যাব)-এর শোকবার্তা
কাস্টমসের বাধ্যতামুলক অবসরপ্রাপ্তদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি
ফেব্রিকের চালান, ভেতরে ১,৬৫৫ দামি মোবাইল জব্দ
বদলি-স্থগিতের পর ফের ঢাকায় ফেরার চেষ্টা
মাতৃবাংলা আইনজীবী সমবায় সমিতির নতুন কমিটি গঠন
তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন অফিসে দুদকের অভিযান
২০ দেশের অংশগ্রহণে ২৯ অক্টোবর ঢাকায় বসছে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা
সড়ক দুর্ঘটনায় বিএসটিআই কর্মকর্তা শেখ মিশার মৃত্যু
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় চাকরি হারানোর অভিযোগ মিরপুর গার্লসের শিক্ষিকার