গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ষাঁড়ের লড়াই এখন শুধুই স্মৃতি
আবহমান বাংলায় 'ষাঁড়ের লড়াই' একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। যা প্রাচীন বাংলার চিরায়ত বিনোদনগুলোর মধ্যে অন্যতম। তখন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ষাঁড়ের লড়াই একটি প্রসিদ্ধ খেলারূপে প্রচলিত ছিল। সারাদেশের মতো বারহাট্টা উপজেলা সদরসহ গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ধুমধাম করে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এই সৌখিন প্রথা আর নেই। আমাদের হারিয়ে যাওয়া অনেক ঐতিহ্যের সঙ্গে ষাঁড় লড়াইও হারিয়ে গেছে।
ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজনকে সামনে রেখে উচ্চকণ্ঠে, টান টান উত্তেজনার সুরে এবং ঢোল বা বাদ্যযন্ত্রের শব্দের বিরতিতে মাইকে বেজে উঠতো- 'হ্যাঁ ভাই..! খবর রাখেন কি? আর জানেন কি?' 'আসিতেছে.. আসিতেছে! এক বিশাল ও ঐতিহাসিক ষাঁড়ের লড়াই।' 'পাহাড়ে পাহাড়ে টক্কর, বাঘে-সিংহে লড়াই।' 'কান পেতে শুনুন, বুক বেঁধে রাখুন! লড়াই হবে সমানে সমানে!' এসব অনেক মনোমুগ্ধকর ডায়ালগ সাজিয়ে বিভিন্ন এলাকার বাজারে-বাজারে মাইকিং করে ষাঁড়ের লড়াই দেখার আমন্ত্রণ জানানো হতো। সেসময় লড়াই করার জন্য ষাঁড় গরু আলাদাভাবে লালন-পালন করা হতো। ষাঁড়টি দ্বারা হাল চাষ বা অন্য কোনো ধরনের কাজ করা হতো না। ষাঁড়টিকে মোটাতাজা করা হতো শুধু লড়াই করার জন্য। প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করা হতো।
উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার বয়ষ্কদের সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে বলেন, একসময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো আমাদের এলাকাতেও প্রতিবছর ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হতো। তখন লড়াইয়ের মাঠে ষাঁড়ের মালিকগণ তাদের ষাঁড়গুলোকে বিভিন্ন রঙিন কাপড়, ঘুংগুর, দোয়াল দিয়ে গেঁথে নিয়ে আসতেন। দুদিকে দুজন রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে এসে দুপক্ষের ষাঁড়কে ছেড়ে দিয়ে সবাই মিলে ঢাক ঢোল পিটিয়ে ও বিভিন্ন তালে তালে গান করতো। এভাবে উপস্থিত সকল ষাঁড়ের মধ্যে যে ষাঁড়টি প্রথম স্থান পেত তাকে পুরস্কার দেয়া হতো। সে পুরস্কার গরুর গলায় বেঁধে ঢাকঢোল বাজিয়ে বাজারে বাজারে দেখানো হতো। কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর পর থেকে গ্রামবাংলার এ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
কথা হয় বারহট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আজিজুল হকের সাথে তিনি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই দেখার স্মৃতিচারণ করে বলেন, এমন এক সময় ছিল শীতকাল এলেই আমাদের এলাকার বিভিন্ন স্থানে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করা হতো। তখন লড়াইয়ে অংশগ্রহণের জন্য বারহাট্টার বিভিন্ন গ্রাম ও আশপাশের উপজেলার বিভন্ন এলাকা থেকে ষাঁড় নিয়ে আসতেন মালিকরা। ষাঁড়ের লড়াইয়ের মাঠে মেলার আয়োজন করা হতো। লড়াইয়ের জন্য পালিত ষাঁড়ের বিভিন্ন নাম রাখা হতো যেমন- কাল পাহাড়, ধলা পাহাড়, উবা, আমীর বাদশা, টিপু সুলতান, লালু মস্তান ইত্যাদি।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে আগের মতো আয়োজন করে ষাঁড়ের লড়াই না হলেও গোপনে ছোট্ট পরিসরে দুই-একটি ষাঁড় দিয়ে লড়াই দেওয়া হয়। পশু কল্যাণ সংস্থাগুলোর বিরোধিতা, তহবিল সংকট এবং ধর্মীয় কারণসহ বিভিন্ন উদ্বেগের কারণে ষাঁড়ের লড়াই বিতর্কিত। তাই বর্তমান আধুনিক যুগের ছোঁয়ায় ষাঁড়ের লড়াই এখন শুধুই স্মৃতি।
Aminur / Aminur
মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ওসি
কালিয়াকৈরে কাভার্ডভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩
অল্প সময়ে চার্জশিট দিয়ে দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করা হবে : ত্রাণমন্ত্রী
কালিয়ায় বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, যশোরে গেলেন ৪৫ রোগী
কুড়িগ্রাম সীমান্তে ২১ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ
রাষ্ট্রপতির আগমনে নতুন সাজে ঠাকুরগাঁও
তিস্তার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা পরিষদ, কাউনিয়ায় খাদ্য সহায়তা বিতরণ
ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি সম্পন্ন
নাচোলে গ্রামীণফোন টাওয়ারের চুরি ৫ ব্যাটারি উদ্ধার, আটক ১
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ষাঁড়ের লড়াই এখন শুধুই স্মৃতি
রায়গঞ্জে নদী-বিল-পুকুরে ২৮৫ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত
পটিয়া প্রেস ক্লাবের মাসিক সভায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারের তাগিদ