পৌরসভা শিয়ালজানি খালের দেখভাল কার দায়িত্বে?
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসন ও প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহের জন্য এক সময় অন্যতম ভূমিকা ছিল শিয়ালজানি খালের। কিন্তু দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে সেই খাল এখন সৌন্দর্য হারিয়ে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক মাস ধরে ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মোহনগঞ্জ পৌরবাসী। তাদের দাবি, খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব পাউবোর।
কেননা, পাউবো পৌরসভার কাছে খালটি তদারকির জন্য হস্তান্তর করেনি। আবার পাউবোর দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে শিয়ালজানি খালের দেখভালের দায়িত্ব অনেক আগেই হস্তান্তর করা হয়েছে। পৌরবাসীর মতে, তদারকির অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং ময়লা-আবর্জনা ও দূষণ নিরসনে স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের ভেতর জমে আছে কচুরিপানা। তার ওপর ফেলা হচ্ছে নির্মাণবর্জ্য, পলিথিন ও গৃহস্থালির আবর্জনা। তা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। খালপাড়ে চলাচল তো দূরের কথা, পাশ দিয়েও হেঁটে যাওয়া দায়। দুই কিলোমিটারের খালটি পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। এই ময়লা আবর্জনা আর দূষিত পানি এখন মশা ও রোগের নিরাপদ প্রজনন কেন্দ্র।
জানা গেছে, খাল দখলমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প ২০১৬ সালে কংস নদের উৎসমুখ থেকে দেওথান এলাকা হয়ে সাপমারা খাল পর্যন্ত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়। খালের দুই কিলোমিটার অংশের পুনরায় খনন করে নাব্যতা সৃষ্টি করা হয়। পরে ২০১৮ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মোহনগঞ্জ পৌরসভা যৌথভাবে ধাপে ধাপে ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে খালটি খনন ও সৌন্দযবর্ধনের কাজ শুরু করে। সেই সময় খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পুনঃখনন ও তীর সংরক্ষণ কাজ করা হয়। ওই প্রকল্পে খালের ২ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পুনঃখনন ও তীর সংরক্ষণসহ খালের দুই পাশে সি সি ব্লক বসিয়ে পানিপ্রবাহ সৃষ্টির প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। পরে প্রতি বছরই কাবিখা প্রকল্পে লাখ টাকা ব্যয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বর্জ্য অপসারণ ও নাব্যতা সৃষ্টির কাজ করা হয়। তবে, তাতেও আবর্জনা ও দূষণ থামছে না।
মোহনগঞ্জ দৌলতপুরের বাসিন্দা ও শিক্ষক রফিকুজ্জামান ইদ্রিছী বলেন, ছোটবেলায় এই খালে গোসল করেছি, খালের পানি কত স্বচ্ছ ছিল। খালটি উদ্ধার করে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছিল। এলাকাবাসীর স্বার্থে সরকারের উচিত এটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। বর্তমানে খালটি মারাত্মক দূষণের শিকার।
দৌলতপুরের আরেক বাসিন্দা সমিরণ রায় বলেন, খালটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ ছিল। কংস নদ থেকে উৎপত্তি খালের পানি হাওরে কৃষকের কাজে লাগত। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। কচুরিপানা ও ময়লা আবর্জনায় খালটি এখন মৃতপ্রায়।
পৌরসভার প্রকৌশলী সাইফুল আমিন বলেন, শিয়ালজানি খালের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের কাছে হস্তান্তর করেনি। তবু পৌরবাসীর সুবির্ধাথে আমরা খালের দুই পাড়ে রাত্রিকালীন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পৌরবাসীর চলাচলে ওয়াকওয়ে রক্ষাবেক্ষণ করছি। পাউবো হস্তান্তর করলে খাল পরিচর্যা ও সৌন্দর্যবর্ধন রাখার দায়িত্ব পৌরসভা পেলে জবাবদিহি ও উন্নয়ন করা যেত। আমরা চাই খালটি দূষণমুক্ত থাকুক। খালে যাতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা না হয় সেজন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে একাধিক গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মোহনগঞ্জের দায়িত্বে থাকা পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন বলেন, পৌরসভার ভেতরে শিয়ালজানি খাল। এর উন্নয়ন কাজের পর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। খালটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব পৌরসভার।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, ঐতিহ্যবাহী শিয়ালজানি খাল পরিষ্কার-পরিছন্ন ও দূষণমুক্ত করা হবে। পাউবো কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
মনপুরায় আড়াই কেজি ওজনের রাজা ইলিশের দাম ১৫ হাজার টাকা
প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে এগিয়ে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন
আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসে শান্তিগঞ্জে র্যালি ও আলোচনা সভা
হাটহাজারীতে এক গহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সিংড়ায় রফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ
ধুনটে পুলিশের অভিযানে একই দিনে পরোয়ানাভুক্ত ১০ আসামিসহ গ্রেপ্তার ১২
বিলাইছড়িতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত
জয়পুরহাটে ব্র্যাকের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিদর্শন
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
রাজস্থলীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র ্যালী আলোচনা সভা
ঘিওরে পাটের ভালো দাম পেয়ে কৃষকের চোখেমুখে হাঁসির ঝিঁলিক
মনিরামপুরে মাছের ঘেরের ভেড়ি হিসেবে পাকা সড়ক ব্যবহার: ধসে পড়ছে রাস্তা ও গাছপালা
Link Copied