রেলের ডিজেল শপে ৩ দফায় কমিশন নেন ম্যানেজার
বাংলাদেশ রেলওয়ের কোচ মেরামত কারখানা ও লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) মেরামতে যন্ত্রাংশ কেনাকাটায় কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু এবার একা কাজে একই ব্যক্তির ৩ দফায় কমিশন বাণিজ্য করার অভিযোগ ওঠেছে। কমিশন বাণিজ্যের ফলে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় করা হচ্ছে বেশি অর্থ আবার কিছুদিন পরেই তা নষ্টও হয়ে যাচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন রেলের অর্থ তছরুপ করছে লোভী কর্মকতা ও অসৎ সরবরাহকারী সিন্ডিকেট অন্যদিকে বাড়ছে ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিডিউল বিপর্যয় আর অনাস্থা আঁকড়ে ধরছে যাত্রীদের, বাড়ছে ক্ষোভ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, রেলের পাহাড়তলী ডিজেল শপে দীর্ঘদিন ধরে নকল যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে আসছে একটি চক্র। এই কাজে ৩ দফায় মোটা অংকের কমিশন নিয়ে ডিজেল শপের কর্মব্যবস্থাপক এতেসাম মো. শফিক সরবরাহকারীদের সহযোগিতা করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, খুচরা যন্ত্রাংশের চাহিদা দেওয়ার সময় একদফা, কেনাকাটার ফাইল স্বাক্ষরের সময় একদফা ও নকল যন্ত্রাংশ কেনার নির্ধারিত কারখানা থেকে কেনার মাধ্যমে আরেক দফাসহ মোট ৩ দফায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ কমিশন আদায় করেন। এর বাইরেও উপর মহলকে ম্যানেজ করার কথা বলে নেওয়া হয় অতিরিক্ত কমিশন। দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে থাকার ফলে অনিয়মের পরিধি বাড়াচ্ছেন ক্রমেই।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ব্যবহৃত একেকটি মিটারগেজ ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভের ওজন প্রকার ভেদে ৭০ থেকে প্রায় ১০০ টনের মতো হয়ে থকে। আর এই ইঞ্জিন ১২ থেকে ১৮টি কোচ ও পাওয়ার কারসহ প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ যাত্রীকে টেনে গন্তব্যে নিয়ে যায়। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি নির্বিঘ্নে করতে বিদেশি ব্র্যান্ডের উন্নতমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করলে তা টেকে বহুদিন। সহজে বিকল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু এসব ইঞ্জিন মেরামত কারখানার কতিপয় দায়িত্বশীল ব্যক্তির কমিশনের লোভে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটে। গতবছরের জুন মাসে শুধু চট্টগ্রাম বিভাগে রাস্তায় ১৮টি ইঞ্জিন বিকলের তথ্য পাওয়া গেছে ফলে গন্তব্যে পৌছতে ২ থেকে ৩ ঘন্টা পর্যন্ত লেইট হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীরা জানান, যন্ত্রাংশের মান যাই হোক কর্মকর্তাদের কমিশন না দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ নেই, তাই সরবরাহকারীরা বাধ্য হয়ে নকল যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে থাকেন। সূত্র জানায়, বিদেশি যন্ত্রাংশের হুবহু কপি আইটেম কোথায় পাওয়া যায় তার ঠিকানা ডিজেল শপের ম্যানেজার নিজেই দেখিয়ে দেন আবার মাঝেমধ্যে নিজস্ব লোক দিয়ে চট্টগ্রামের কদমতলী, সিডিএ মার্কেট ও ঢাকার ধোলাইখাল থেকে সংগ্রহ করে থাকেন। আবার দেখিয়ে দেওয়া দোকান থেকে আরেক দফা কমিশন আদায় করেন। এসব ক্ষেত্রে অল্প দামের যন্ত্রাংশও কেনা হয় উচ্চ মূল্যে। সম্প্রতি কয়েকটি ইঞ্জিন ব্লকের ক্র্যাঙ্কশাফট এর মেইন বিয়ারিং নষ্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বড় ও দামি যন্ত্রাংশের পাশাপাশি ছোট আকারের কিছু যন্ত্রাংশেরও প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে বিল করা হয়। উদাহরণ হিসেবে ‘উইক এসএ’ নামের একটি ছোট পার্টসের বাজারমূল্য সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন হাজার টাকা হলেও সেটির বিপরীতে প্রায় ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল করার অভিযোগ রয়েছে। এসব কেনাকাটার কার্যাদেশ সবসময় তার সিন্ডিকেটের সরবরাহকারীরা পেয়ে থাকেন। আর নকল যন্ত্রাংশ ব্যবহারের ফলে মেরামতের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৪টি সিডিউল ইঞ্জিন ডেলিভারি দেওয়ার কথা থাকলেও ২২টি ইঞ্জিনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। মেরামত শেষে যেসব ইঞ্জিন পাঠানো হচ্ছে, সেগুলো দ্রুত ত্রুটি নিয়ে আবারও কারখানায় ফিরে আসছে। ফলে ইঞ্জিন নির্ধারিত সময়ে ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং রেলের যাত্রীসেবায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এদিকে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পূর্বাঞ্চলে যেখানে প্রতিদিন প্রয়োজন ১১৯টি ইঞ্জিন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫টি। ইঞ্জিন সংকটে পণ্যবাহী ট্রেন কমেছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। শুধুমাত্র কমিশন আদায়ের জন্য এভাবেই রেলের অর্থের অপচয় করছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
কেনাকাটায় অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ডিজেল শপের কর্মব্যবস্থাপক এতেসাম মো. শফিকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে। মালামালের পরিমাণ ও কাগজপত্র পরিবর্তন করে ক্রয়ের ভুয়া রেকর্ডপত্র তৈরির মাধ্যমে সরকারের ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৭২৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল কবির পলাশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। তবুও নিজেকে শোধরানোর পরিবর্তে বেপরোয়া কমিশন বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
গত ১২ আগস্ট এক আদেশে এতেসাম মো. শফিককে পার্বতীপুরে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে না গিয়ে পাহাড়তলীতে থাকার জন্য তদবীর করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। অতিরিক্ত ও চলতি দায়িত্ব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই পদে থেকে তিনি একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সেই সিন্ডিকেটই যাবতীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করে থাকেন। এর আগেও অন্যজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তদবিরের মাধ্যমে পুনরায় তিনি বহাল থাকেন।
এসব বিষয়ে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলীর ডিজেল লোকোমোটিভ মেরামত কারখানার কর্মব্যবস্থাপক এতেসাম মো. শফিকের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেনি। অফিসে গেলেও ব্যস্ততার অযুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার কল ও বার্তা দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এমএসএম / এমএসএম
তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে হবে, ইসমাইল জবিউল্লাহ
বরগুনায় জি,টিভির প্রাইভেটকারও ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত -২
পর্যটন ও পরিবেশ সুরক্ষায় কুয়াকাটায় তারুণ্যের উৎসব
পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নাই,চাল আসবাবপত্র সব পুড়ে ছাই
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে শালিখা থানা পুলিশের মোটরসাইকেল মহড়া
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের অধিগ্রহণের চেক বিতরণ
এসি বাস চালু হতেই ফের বাধা, বাঁশখালীতে আটকে দেওয়া হলো এসআর পরিবহনের দুই এসি বাস
কুমিল্লা কবি পরিষদের দাউদকান্দি শাখার সভাপতি আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাকিল সরকার
সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
গোপালগঞ্জে সাইফুর রহমান নান্টুর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
কক্সবাজার জেলা ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন
সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান