ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলা

সাড়ে ১৩ বছর কারাগারে বড়লেখার এনামুল, মুক্তির দাবী পরিবারের ও বাদীর


বড়লেখা প্রতিনিধি photo বড়লেখা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২-৯-২০২৬ দুপুর ২:২৬

সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার তাদের বাসার নিরাপত্তাপ্রহরী এনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে তার পরিবার। প্রায় সাড়ে ১৩ বছর ধরে কারাগারে থাকা এনামুল বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনামুল মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব-দক্ষিণভাগ গ্রামের মৃত মকবুল আলী ওরফে কালা মিয়ার ছেলে। ২০১২ সালে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর তাদের বাসার নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কর্মরত এনামুলকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার তদন্তে তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের দাবি। 

এদিকে, এনামুলের পরিবারের অভিযোগ, তাকে গ্রেফতারের কয়েক মাস আগে তার বাবা মকবুল আলী কালা মিয়াকেও র‍্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রায় ২১ দিন পর তাকে ভৈরবের একটি সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া হয়। ওই সময় তার ওপর বৈদ্যুতিক শকসহ অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে দক্ষিণভাগ বাজারে নিজের ফার্নিচারের দোকানে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন কালা মিয়া। পরে গণমাধ্যমে তার নিখোঁজের খবর প্রকাশিত হলে প্রায় ২১ দিন পর গভীর রাতে তাকে ভৈরবে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে বাসে করে সিলেটে পাঠান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

অতীতের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে মকবুল আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘র‍্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর তার স্বামীর চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তাকে বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়েছিল। বাড়িতে ফিরে আসার পর তিনি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। হার্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসার জন্য পরিবারের জমিজমা বিক্রি করে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। ছেলের মুক্তির অপেক্ষায় মা: প্রায় সাড়ে ১৩ বছর ধরে ছেলের মুক্তির অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন ফাতেমা বেগম। সম্প্রতি কারাগারে এনামুলের মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার খবর দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। 

ফাতেমা বলেন, ‘আমার ছেলে যদি দোষী হয়ে থাকে, আমরা তার বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু সাড়ে ১৩ বছরেও তার কোনো অপরাধ পাওয়া গেল না। শুধু সন্দেহের কারণে আমার ছেলে ও আমাদের পরিবারটাকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।’ ভয় ও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে ছেলের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি। তার দাবি, এনামুল নির্দোষ হলে তাকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে স্বামীকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিচার চান তিনি।

এনামুলের বড় ভাই শাহিন আহমদ বলেন,  ‘ভয়ে ভাইয়ের খোঁজও নিইনি’ ভাই গ্রেফতারের পর তাদের পরিবার ভয়াবহ আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। গ্রেফতার, গুম ও খুনের আশঙ্কায় পরিবারের কেউ দীর্ঘদিন কারাগারে গিয়ে তার খোঁজও নেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিপদে ফেলা হতে পারে-এই ভয়েও আমরা মামলা চালাতে যাইনি। আমার নিরপরাধ বাবাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আজ আমার ভাই কারাগারে পাগল হয়ে গেছে।’ 

শাহিনের দাবি, এনামুল নির্দোষ হলে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক এবং পরিবারকে দীর্ঘদিনের হয়রানি ও ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। তদন্তে এনামুলের বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলেনি: ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ৫৮/এ/২ নম্বর বাসা থেকে সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। মামলাটির তদন্ত প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ ও পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) করে। এরপর তদন্তভার র‍্যাবের কাছে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময়েও তদন্ত শেষ না হওয়ায় পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত টাস্কফোর্সের আওতায় মামলাটি তদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের আওতায় পিবিআই মামলাটির তদন্ত করছে।পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকালে এখন পর্যন্ত এনামুলের বিরুদ্ধে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতের আদেশের পর গত ২২ এপ্রিল কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এনামুলকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি কোনো প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি, অনেক কিছু মনে করতে পারছিলেন না এবং এলোমেলো উত্তর দিচ্ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে।

এনামুলের মুক্তি চান রুনির ভাইও: এনামুলের মুক্তির দাবিতে কথা বলেছেন নিহত সাংবাদিক রুনির ভাই ও মামলার বাদী নওশের আলম। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হোক। কাউকে যেন কোনো ধরনের হয়রানি করা না হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এনামুলকে জামিন দিয়ে মুক্তি দেওয়া হোক। তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। ’সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত দীর্ঘ ১৪ বছরেও শেষ হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বিভিন্ন সময়ে বহুবার বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে একযুগের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন এনামুল। 

পরিবারের অভিযোগ, একজন নিরাপত্তাপ্রহরীকে সন্দেহের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখার পাশাপাশি তার পরিবারও আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। এখন মায়ের একটাই প্রত্যাশা ছেলে যদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত না থাকেন, তবে তাকে মুক্তি দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হোক।

এমএসএম / এমএসএম

মনপুরার উন্নয়নে আশ্বাস নয়, কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন চান এমপি নয়ন

তাড়াশে ঈদগাহ মাঠের নির্মাণ সামগ্রী চুরি , থানায় অভিযোগ

কুতুবদিয়ায় ১২ দিনে পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

তেঁতুলিয়া প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি সোহরাব, সম্পাদক মোবারক

দুমকিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন

ধুনটে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

তেঁতুলিয়ায় ভার্চ্যুয়ালি ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

রাজারহাটে জমি বিরোধে ৫০ টি সুপারি গাছ কর্তনের অভিযোগ

দৈনিক সকালের সময় সংবাদ প্রকাশের পর বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেন ভুক্তভোগী আনছার আলী

কুড়িগ্রামে খাদ্য বিভাগের দুর্নীতির বর পুত্র পেলেন অতিরিক্ত গুদামের দায়িত্ব,জেলা জুড়ে তোলপাড়

খালিয়াজুরীতে হাওড়ের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

জয়পুরহাটে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

উলিপুরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু