তোপের মুখে এলপিজি আমদানিকারক ও বিইআরসি
গণশুনানিতে তোপের মুখে পড়ে এলপিজি আমদানিকারক ও বিইআরসি। সরকার ঘোষিত দামে না পাওয়া এবং রেগুলেটরি কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রশ্ন তোলা হয়। এমনকি পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতারাও আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তোলেন।
এলপিজি আমদানিকারক, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতা প্রায় সবক্ষেত্রেই কমিশন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে বিইআরসি টেকনিক্যাল কমিটি ১২ কেজিতে আমদানিকারকের কমিশন ২০০ থেকে বাড়িয়ে ২৮০ টাকা, ডিলারদের ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার পক্ষে মতামত দেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিয়াম অডিটরিমায়ে গণশুনানির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। শুনানিতে তার সঙ্গে ছিলেন সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ মিজানুর রহমান ও বিগ্রেডিয়ার (অব.) শাহিদ সারওয়ার।
১২ কেজিতে আমদানিকারকের কমিশন ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা, সবচেয়ে কম মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে, পরিবেশকরা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা, খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ দিয়েছে। টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট কার্যকর হলে ১২ কেজি এলপিজির সরকারি দর ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা হবে। শুনানি পরবর্তী কোনো বিষয়ে বক্তব্য থাকলে আগামী রোববারের (১ নভেম্বর) মধ্যে লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিয়াম অডিটরিমায়ে গণশুনানির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ
মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ (অপারেটরের প্লান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ) চার্জ বর্তমানে প্রতি কেজিতে ১৬ দশমিক ৭৪ টাকা রয়েছে, এই চার্জ নতুন করে প্রস্তাব ২৭ দশমিক ৬২ থেকে ৩৬ দশমিক ৯২ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল। এখানে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজিতে ২৩ দশমিক ৪৮ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ (রিটেইলারের আঙিনা পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ) বর্তমানে প্রতি কেজিতে রয়েছে ৪ দশমিক ১৭ টাকা, যা প্রস্তাবনায় বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৩৪ থেকে ১২ দশমিক ৫০ টাকা করার কথা বলা হয়। তবে কারিগরি কমিটি ৬ দশমিক ৬৭ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। রিটেইলার চার্জ (হোম ডেলিভারি চার্জ ব্যতীত) বর্তমানে প্রতি কেজিতে ৩ দশমিক ৭৫ টাকা থাকলেও, প্রস্তাবিত হার ৫ দশমিক ৮৩ থেকে ৭ দশমিক ৫০ টাকা করার কথা বলা হয়। তবে কারিগরি কমিটি ৫ দশমিক ৮৩ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করে।
রিটেইলার পয়েন্টে সব খরচ মিলিয়ে রিটেইলার প্রতি কেজি এলপিজির বর্তমান মূল্য ১৫৩ দশমিক ৬ টাকা, যা প্রস্তাবে ১৫৮ দশমিক ৯১ থেকে ১৮৫ দশমিক ৯৭ টাকা করার কথা বলা হয়। তবে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজি এলপিজি ১৬৪ দশমিক ৬৮ টাকা দাম নির্ধারণের সুপারিশ করে।
পরিবেশকদের সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের কোরেশি বলেন, বোতলজাতকৃত এলপিজি আমাদের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কথা। কিন্তু যখনই সংকট শুরু হয়, তারা সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে করে আমাদের বাড়তি খরচ যোগ হলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। পরিবহন খরচ তাদের হিসাবে যোগ করার প্রস্তাব করেন।
জবাবে টেকনিক্যাল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন দূরত্বে পৌঁছে দিতে হয়, সে কারণে এটি আমদানিকারকদের প্রান্তে রাখা হয়েছে। তারা কোন ক্ষেত্রে বেশি খরচ করবে আবার কাছের পরিবেশককে অল্প খরচে সরবরাহ করবে।
ক্যাবের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান শুনানিতে বলেন, এলপিজির দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা অসুবিধা দেখা বিইআরসির দায়িত্ব। সেটি না হলে এই শুনানি সঠিক হবে না। দাম না বাড়ানো এবং বিইআরসি ঘোষিত দরে বেচাকেনা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মেঘনা ফ্রেস এলপিজির সিএফও আবু সাঈদ রাজা বলেন, বাংলাদেশের এলপিজির বাজার দ্রুত বাড়ছে। এই খাতে বর্তমানে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এই বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বড় জাহাজে আসে কুতুবদিয়া, সেখান থেকে লাইটারেজ ও সড়ক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেয়া হয়। সেই খরচ যোগ করা হয়নি বিগত ২০২১ সালের গণশুনানিতে।
তিনি ব্যাংক ঋণ সুদ ১৫ শতাংশ, ইকুইটির ওপর ৩০ শতাংশ মুনাফার প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি পরিবেশকদের কমিশন ১২০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব করেন। এটি করা হলে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এলপিজির ব্যবসা করতে ৩১টি লাইসেন্স নিতে হয়। এতে ঘাটে ঘাটে পয়সা দিতে হয়, শুধু ফি দিতে হয় ৩ কোটি টাকার মতো।
ওরিয়ন, বেক্সিমকো, ইউনিগ্যাসসহ কয়েকটি কোম্পানির পক্ষ থেকে বক্তৃতা করে ওরিয়ন এলপিজির সিওও অনিক কুমার সেন।
তিনি বলেন, নানা কারণে বেশ কয়েকটি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। বাজারে থাকা সিলিন্ডারের মধ্যে ওই কোম্পানিগুলোর রয়েছে দেড় কোটির মতো। এখানেই বড় সংকট তৈরি হয়েছে। যেসব কোম্পানি আমদানি করছে তাদের মাধ্যমে আমাদেক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হয় তাহলে বাজারে আর সংকট থাকবে না।
এ দফায় সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়তে শুরু করলে নতুন করে অরাজকতা শুরু হয়েছে। নির্ধারিত দামে মিলছে না রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত এই জ্বালানি। অক্টোবর মাসে ১২ কেজিতে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা করা হলেও বাজারে ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বেচাকেনা চলছে।
ভোক্তারা গ্যারান্টি চান নির্ধারিত দামে এলপি বেচাকেনার। বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, এখানে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। আমরা বাজার মনিটরিং জোরদার করছি, কেউ কোন রকম কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি সফটওয়ার প্রস্তুত করে হচ্ছে তখন নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হবে।
২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজির দর ঘোষণার দিনেই লোয়াবের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়। তারা দাবি করে ১২ কেজির কমিশন ১৪৩ টাকা অনেক কম, এটি বাড়িয়ে দিতে হবে। বিইআরসি অনেকটা বাধ্য হয়েই (৫ মাসের মাথায় ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১) ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমিশন ১৪৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৬ টাকা করে দেন। গতমাসে যা ২০০ টাকা করে দেওয়া হয়।
aliul / aliul
তোপের মুখে এলপিজি আমদানিকারক ও বিইআরসি
খামারিদের স্বার্থরক্ষায় লাইসেন্স পেল বাংলাদেশ পোলট্রি খামারি সংগঠন
দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
পেট্রোবাংলার দেউলিয়া দশা, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অনেক দেশ!
এলপিজি নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি ক্যাবের
২৮ অক্টোবর ২০২৬: আজকের স্বর্ণের দাম
মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ: আইএমএফ
২৭ অক্টোবর ২০২৬: আজকের স্বর্ণের দাম
পুনর্মূল্যায়নে একমি ল্যাবরেটরিজের সম্পদ বাড়লো ৮০ কোটি টাকা
পাঁচ কোম্পানির নামমাত্র লভ্যাংশ ঘোষণা
জনতা-বেসিক ও অগ্রণী ব্যাংকে নতুন এমডি
ডিজিটাল লেনদেনে বড় পরিবর্তনের আশা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালকের