শুভ ‘৭৫’ বাকের ভাই
সময়ের বৈরিতা দেখেছেন, উপলব্ধি করেছেন দিনযাপনের দীনতা, বিপ্লবে বিপ্লবে মানুষের অধিকার আদায়ের নীরব আর্তনাদ তাকে করেছে আচ্ছন্ন। ছাত্রজীবনের বামপন্থি রাজনীতিক থেকে হয়ে উঠেছেন রাষ্ট্রযন্ত্রের অন্যতম একজন সফল মন্ত্রী। সাধারণ এক থিয়েটারকর্মী থেকে হয়ে উঠেছেন অসাধারণ এক অভিনেতা। তিনি বরেণ্য অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর।
নব্বই দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সবচেয়ে আলোচিত নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের বাকের ভাই তিনি। যে চরিত্রে অভিনয় দর্শক স্বীকৃতি দিয়েছিল রাজপথে নেমে। রাজনীতিবিদ হিসেবেও তিনি সফল। একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। মন্ত্রী হিসেবেও দেখিয়েছেন সফলতা।
আজ তার জন্মদিন। ১৯৪৬ সালের ৩১ অক্টোবর নীলফামারী জেলায় জন্মগ্রহণ করা আসাদুজ্জামান নূর আজ ৭৫ বছরে পা রাখলেন।
তার বাবা স্কুল শিক্ষক আবু নাজেম মোহাম্মদ আলী ও মা স্কুল শিক্ষক আমিনা বেগম। এ দম্পতির বড় ছেলে আসাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী। যিনি অভিনয়ে এসে হয়ে যান আসাদুজ্জামান নূর।
১৯৮২ সালে ডাক্তার শাহীন আকতারকে বিয়ে করেন। এক ছেলে এক মেয়ে তার। ছেলে সুদীপ্ত লন্ডনে একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে দেশে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত। মেয়ে সুপ্রভার বিয়ে হয়েছে।
এ অভিনেতার জন্মদিন নিয়ে মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রপাড়ায় দারুণ আগ্রহ। তার ভক্তরাও এদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানান শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়। তবে নিজে কখনো বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাননি। জন্মদিন নিয়ে গণমাধ্যমে একবার এই কিংবদন্তি অভিনেতা বলেছিলেন, আমি কখনো ঘটা করে জন্মদিন উদযাপন করিনি। কারণ আমি চাই না আমার জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করা হোক। অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবেই কাটুক না জন্মদিনের দিনটি। ছোটবেলাতেও আমার জন্মদিন কখনো বিশেষভাবে উদযাপন করা হতো না। সেদিন বাড়িতে হয়তো মা একটু বেশি রান্না করতেন।
ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান। উত্তাল সব দিন পার করেছেন দেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে দেখে। ১৯৬২ সালে স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সব আন্দোলনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন আসাদুজ্জামন নূর। পরবর্তীসময়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আসাদুজ্জামান নূর মুক্তিযুদ্ধে ৬ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
জীবনের বাঁকবদলে একটা সময়ে এসে হয়ে গেলেন সাংস্কৃতিক যোদ্ধা। আসাদুজ্জামান নূর মঞ্চ দিয়েই অভিনয় জীবনের শুরু করেন। তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বিটিভির সোনালি যুগে প্রচার হওয়া নাটকের মাধ্যমে। বিশেষ করে আশির দশক থেকে শুরু করে নব্বই দশকের বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটকে নূর দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে কালজয়ী সব চরিত্রে অনন্য হয়ে আছেন দর্শকের অন্তরে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘অয়োময়’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’, ‘সবুজ ছায়া’, ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকগুলো।
আসাদুজ্জামান নূর অভিনীত প্রথম টিভি নাটক ‘রঙ্গের ফানুস’। তার অভিনীত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘শঙ্খনীল কারাগার’।
আসাদুজ্জামান নূরের ক্যারিয়ারে বিশেষ এক প্রভাব দেখা যায় তারই বন্ধু কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের। নূরের বিখ্যাত হওয়া বা কালজয়ী চরিত্রগুলোর প্রায় সবগুলোই হুমায়ূন আহমেদের রচিত। তার পরিচালিত অনেক নাটক-সিনেমাতেও অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসে সক্রিয় হন। ২০০১ এর নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নীলফামারী-২ (সদর) আসন থেকে এ পর্যন্ত টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদকসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই কিংবদন্তি।
এমএসএম / এমএসএম
বিয়েতে অহেতুক খরচ না করে সেই টাকা অসহায়দের দিন : শ্রুতি হাসান
বাংলাদেশ বেতারের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে উপস্থাপনা বিভাগে অসংগতির অবসান চান উপস্থাপক-উপস্থাপিকারা
মেকআপ ছাড়া ছবির সঙ্গে যা লিখলেন সাদিয়া আয়মান
ফের ভিকির সিরিজে তৌসিফ, সঙ্গে নতুন মুখ
‘গানের পথে দেখা’ হলো রূপঙ্কর ও জয়ের
নীল জলরাশির প্রেমে পারশা
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত ইয়ামি গৌতম
স্ত্রীকে রেখে ‘তরুণী’ সঙ্গিনীকে নিয়ে ফ্রেমবন্দী গোবিন্দ
জাতীয় পুরস্কার পেয়ে কার্তিক বললেন—যাত্রাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল
বিদ্যা বালানের পারিশ্রমিক দিতে নিজের বাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন দিয়া মির্জা
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানে আগ্রহ বাড়াতে হৃতিকের নাম পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা
সুশান্তের ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যু মামলায় ফের তদন্ত, নেপথ্যে যে কারণ