ঢাকা সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

রাজশাহীতে লাগামহীন করোনা : ১১-১৭ জুন কঠোর লকডাউন


শাহিনুর রহমান সোনা, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান  photo শাহিনুর রহমান সোনা, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান
প্রকাশিত: ১১-৬-২০২১ দুপুর ১:৫৮
রাজশাহীতে লাগামহীন করোনা পরিস্থিতি। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগীদের মাধ্যমে রাজশাহীতে ছড়িয়েছে প্রায় ২০ দিন আগে। ফলে অবস্থা বেসামাল। করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান। বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে চিকিৎসার পরিধি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রথম দুই সপ্তাহে করোনায় মৃত্যু চাঁপাইয়ের রোগীর সংখ্যা বেশি থাকলেও সম্প্রতি রাজশাহীর রোগীর সংখ্যা থাকছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তুলনায় দ্বিগুণ। সবশেষ বুধবার (৯ জুন) সকাল ৭টা থেকে বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকাল ৭টা পর্যন্ত রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১২ জন। এরমধ্যে ৯ জনই রাজশাহীর বাসিন্দা আর বাকি তিনজনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা যান ৮ জন। তারমধ্যে রাজশাহীরই ছিলেন ৫ জন, বাকি ৩ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জের। ফলে লাগমহীনভাবে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে উত্তরবঙ্গের বিভাগীয় এ শহর। এ পরিস্থিতিতে ১১ জুন বিকেল ৫টা থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী সার্কিট হাউসে প্রশাসনের উদ্যোগে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সময় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. হুমায়ুন কবির, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
সভায় জানানো হয়, করোনা ভাইরাসের ‍ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা রাজশাহী মহানগরীতে কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ১১ জুন বিকেল ৫টা থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কঠোর লকডাউন কার্যকর থাকবে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় জেলায় পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ও মৃত্যুহার বিশ্লেষণ শেষে বিভাগীয় কমিশনার ড. হুমায়ুন কবির এ লকডাউনের ঘোষণা দেন। 
 
তিনি জানান, লকডাউনের সময় সব দোকানপাট ও যানচলাচল বন্ধ থাকবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁ থেকে কোনো যানবাহন রাজশাহীতে প্রবেশ করতে পারবে না। রাজশাহী থেকেও কোনো যানবাহন জেলার বাইরে যাবে না। তবে রোগী ও অন্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা ও ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রেঞ্জ ডিআইজি আব্দুল বাতেন, নগর পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলসহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। 
 
লাগমহীনভাবে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে উত্তরবঙ্গের বিভাগীয় এ শহর। শুধু কি লকডাউনই সমাধান, নাকি আরো উপায় আছে- এমন সব প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে সাধারণের মনে। এ থেকে উত্তরণের উপায় কী আর সমাধানই বা কোন পথে? এসব নিয়ে কথা বলেছেন এখানকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা।
 
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, করোনার নিশ্চিত সমাধান এখনো বলার সময় হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চললে সংক্রমণের হার অনেকাংশে কমবে। এটিই করতে হবে সকলকে। আর স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মানানোর জন্য এখন দরকার আইনের কঠোর প্রয়োগ। তবে সমাধানের পথে যেতে চাইলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করা এবং অহেতুক জনসমাগম এড়িয়ে চলা জরুরি। 
 
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামিম ইয়াজদানী বলেছেন, করোনা থেকে উত্তরণের পথ রয়েছে। সেজন্য প্রথমত কঠোর লকডাউন, এরপর মানুষকে সচেতন করা এবং মোটিভেশন দিয়ে ঘরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। সমাধানের পথে যেতে চাইলে এগুলোর প্রয়োগ দরকার। আর হাতে নিতে হবে সমন্বিত কার্যক্রম। সেটিও হবে করোনামুক্তির অন্যতম উপায়। তবে সবার আগে দরকার কঠোর লকডাউন। অবশ্যই কঠোর লকডাউন দিতে হবে। এর বিকল্প নেই। কঠোর লকডাউন কার্যকর করে জনগণকে ঘরে রাখা গেলেই করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মহামারীর এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
 
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. নওশাদ আলী বললেন, করোনা এখনই বিদায় নেবে না। এটা আরো অনেক দিন থাকবে। রাজশাহীর সর্বত্র ছড়িয়েছে করোনা। তবে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। লকডাউন তো মানুষ মানছে না। তাদের ঘরে রাখা যাচ্ছে না। করোনা নিয়ে এখনো উদাসীন তারা। তবে করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সবকিছু করা যেতে পারে। মানুষকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দেয়া যায়। তবে সকল স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মেনেই। 
 
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার বলেন, লকডাউনই কোনো সমাধান নয়। লকডাউন থাকার পরও পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মানুষ লুকিয়ে চলে আসছে। প্রশাসনের লোকজন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবুও গোপন রাস্তা দিয়ে চলে আসছে। শুধু একটি বা দুটি প্রয়োগ করলে হবে না, শুধু লকডাউন আর স্বাস্থ্যবিধির কথা বলে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। করোনা থেকে উত্তরণে সবগুলো পদ্ধতি একসাথে প্রয়োগ করতে হবে। পদ্ধতিগুলো অবশ্যই সরকারের এবং প্রশাসনের জানা আছে। সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ ঘটলেই করোনামুক্ত বাংলাদেশ আমরা দেখতে পাব।

এমএসএম / জামান

শিক্ষা ও প্রশাসনিক দক্ষতায় অনন্য অবদানে সংবর্ধিত হলেন অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান রিজভী

হাতিয়ায় নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেঃ মাহবুবুর রহমান শামীম

যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর হামলা

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডাস্টবিনে দেখাগেল নবজাতক শিশুর মৃতদেহ

নওগাঁয় সরকারি খাল খননের মাটি টেন্ডার ছাড়া রাতের আধাঁরে যাচ্ছে ইটভাটায়

ধামইরহাটে ব্র্যাকের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

গাজীপুরে ১৭ লক্ষ টাকা মূল্যের হেরোইনসহ গ্রেফতার-১

আত্রাইয়ে উপজেলা বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

তুরাগে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় চাঁন মিয়া বেপারীর উপহার সামগ্রী বিতরণ

অনুমোদনহীন ঈদ মেলার আয়োজন বন্ধ করল প্রশাসন

ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক্টরের ধাক্কায় নিহত-২ : আহত-১

নেত্রকোণায় জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

সরকারি জলাশয় নিয়ে সংঘর্ষে রায়গঞ্জে বিএনপির দুই কর্মী নিহত