মহান মুক্তিযুদ্ধে চারটি অভিযানেই সফল বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক
বীর মুক্তিযোদ্ধা আ জ ম এনামুল হক। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের সন্তান। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে চারটি অভিযানে সরাসারি অংশ গ্রহন করেন। এর মধ্যে প্রতিটি যুদ্ধেই অভিযানেই সফল হয়েছেন তিনি। আর তাঁর এই সাফল্য গাঁথার বিষয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরিফ খান আবির।
আরিফ খান আবির : শুরুটা কিভাবে হলো?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আ জ ম এনামুল হক : শুরুটা ১৯৭১ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত একটি বিপ্লব ও সশস্ত্র সংগ্রাম। পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি জাতীয় তাবাদের উত্থান ও স্বাধিকার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবং বাঙালি গণহত্যার প্রেক্ষিতে এই জনযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
আরিফ খান আবির : আপনার যুদ্ধ এলাকা কোথায় আর কে নেতৃত্ব দিয়েছে?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আ জ ম এনামুল হক : এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় উপজেলায় পাড়া মহল্লায়। সেই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার রেল লাইনের সহযোগিতায় ঢাকা থেকে বিপুল পরিমানের পাক বাহিনী সদস্যরা ঘাঁটি করে কয়েকটি জায়গায়। আর ভাঙালীর জাতির অভিসাব জাকারের দল তাদের (পাক বাহিনী) সহযোগিতায় বিভিন্ন গ্রামের নিরীহ মানুষকে ধরে অত্যাচার শুরু করে। তখন ১১ সেক্টরে বিভক্ত হয়ে পাক বাহিনীকে হটাতে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। আর শ্রীপুর-কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়া ৩নং সেক্টর কমান্ডার কেএম শফিউল্লাহ্ নেতৃত্বে থাকে। আর এখানে গ্রুপ লিডার হিসেবে কাজ করেন সৈয়দ আনোয়ারুল হক।
আরিফ খান আবির : আপনি প্রথম কোথায় যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছেন এবং আর সফলতা কিভাবে এসেছে?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আ জ ম এনামুল হক : প্রথম যুদ্ধ আগস্টের মাঝামাঝি হয়েছে শ্রীপুরের সাতখামাইর এলাকায়। আমরা খবর পায় যে, ওখানে পাক বাহিনীদের সহযোগিতাকারী জাকার বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য রয়েছে। তারা ওই এলাকায় বিভিন্ন গ্রামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্ষন করছে। তখন রাতে আমরা যুক্তবাহিনীরা মরহুম সৈয়দ আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে ৬৬ জন মিলে অভিযান চালায়। সেখানে জাকার বাহিনীদের সাথে কয়েক ঘন্টা গুলি বিনিময় হয়। এক পর্যায় অস্ত্রধারী জাকার বাহিনীর ১৮ সদস্য আমাদের কাছে আত্মসমর্থন করে।
আরিফ খান আবির : পরের অভিযান কোথায় কিভাবে শুরু?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আ জ ম এনামুল হক : রেল লাইনের পাশের এলাকা ঘোলাঘাট। যুদ্ধের শুরু থেকেই এখানে বিপুল সংখ্যাক পাক বাহিনী ঘাঁটি করে। এখান থেকে কয়েকটি উপজেলায় তারা অভিযান চালিয়ে নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার শুরু করে। তাদের এখান থেকে হটাতে আমরা অনেকবার প্ল্যান করেও সফর হচ্ছিলাম না। তবে তাদের গতিবিধি লক্ষ রাখি আমরা। আর সুযোগ খুঁজতে থাকি কিভাবে তাদের এখান থেকে হটাতে পারি। পরবর্র্তীতে ডিসেম্বরের প্রথমেই আমরা হানা দেই তাদের এই ঘাঁটিতে। বন্দুকের গুলি গুলি ছুড়তে থাকি বৃষ্টির মত। ওরাও পাল্টা গুলি ছুড়তে থাকে। এক পর্যায় আমাদের আক্রমনে তারা পিছু হটতে থাকে। পরে ঢাকার দিকে ওরা চলে যায়।
আরিফ খান আবির : পরের অভিযানের লক্ষ ছিল কোথায় আপনাদের?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আ জ ম এনামুল হক : মাওনা পাথার এলাকায়। এখানে পাক বাহিনী রাজাকার মিলে বিশাল বড় ঘাঁটি গড়ে পাক বাহিনীরা। তাদের হটাতে আমারে পরিকল্পনা শুরু হয়। পরিকল্পনায় যোগ দেয় ভালুকার মেজর আফসার বাহিনী। পরে ১৪ ডিসেম্বর রাতে এক যোগে হানা দেই পাক ঘাঁটিতে। একের পর এক গুলি ছুড়তে থাকে পাক বাহিনী। তাদের গুলির মুখে আমরা পিছু হটিনি। বরং তাদের উপর আমরাও গুলি ছুড়তে থাকি। আমাদের আক্রমনে পাক বাহিনী পিছু হটতে থাকে। পরবর্তীতে পাক বাহিনী ঘাঁটি ছেড়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। তখন ভোর হয়ে যায়। আমরা জানতে পারি কিছু দূর কাওরান বাজারের এখানে পাক বাহিনী আক্রমন চালিয়েছে। আমরা ছুটে যায় সেখানে। চতুর্থ যুদ্ধ শুরু হয় ওই পাক বাহিনীর সাথে। সেখানে আমাদের গুলিতে পাক বাহিনীর ৩ জন সৈনিক নিহত হয়। আর একজন জীবন্ত ধরে ফেলি আমরা। পরে ৩ জনকে মাওনা মাটি চাপা দিয়ে জীবিতকে ঢাকা সেক্টর কমান্ডারের কাছে সোপর্দ করা হয়।
#####
আরিফ খান আবির
জামান / জামান
নেত্রকোণা -২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বটগাছ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থন
ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বারি'র নতুন মহাপরিচালক
পটুয়াখালী-০১: আলতাফ চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে মাঠ ছাড়লেন গণ অধিকার পরিষদের ফাহিম
মাধবপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা
সেনাবাহিনীর জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার এর সাথে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ
আত্রাইয়ে ৬১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলা কিউআর সেবা: যৌথ উদ্যোগে কমিউনিটি ব্যাংক ও জায়তুন ফিনটেক
জয়পুরহাট ১ আসনে ধানের শীষের নির্বাচনী গণমিছিলে মানুষের ঢল
১৯৭১ সালেই প্রমাণ হয়েছে মা-বোনদের জন্য এদের দরদ নেই
ত্রিশালে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
ব্রিটিশ পাসপোর্ট একপাশে রেখে চাটখিল-সোনাইমুড়ীবাসীর খেদমতে এমপি প্রার্থী হয়েছি: জহিরুল ইসলাম
বিধি লঙ্ঘন করে ইমারত নির্মাণ, কাজ বন্ধের নোটিশ আরডিএ'