চট্টগ্রাম বন্দরে অনিয়ম : বহাল ডিসি ফরিদ, প্রধান প্রকৌশলীসহ বরখাস্ত ২
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও বিভিন্ন অজুহাতে অনেকেই পার পেয়ে যাওয়ায় অপরাধের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। তবে এবার অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুপারিশে প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আমিনুল ইসলাম এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সন্দীপন চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও বহালতবিয়তে রয়েছেন ডিসি ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম।
গত ২৯ নভেম্বর অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় দুদক। এর পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ গত বুধবার (৮ ডিসেম্বর) তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে আদেশ জারি করে। বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক।
বরখাস্তের চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জনতা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যোগসাজশে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এতে ক্রয়সংক্রান্ত সরকারি বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঘুষ লেনদেন ও দরপত্রের প্রকৃত মূল্যের ৫ গুণ বেশি মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বন্দরের ডিসি ক্যাপ্টেন ফরিদর বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দরপত্র দিয়ে কয়েকশ কোটি টাকা আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়ে এই তদন্তে নেমেছে দুদক।
দুদক সুত্রে জানা যায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি (২০২০) সকালে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক জাফর আহমদের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম চট্টগ্রাম বন্দরে অনুসন্ধান পরিচালনা করে। অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্বত্ত্বাধিকারীরা হলেন হার্ডেন মেরিন প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী শিপ চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসান, নিহান ট্রের্ডাসের স্বত্ত্বাধিকারী এ কে আজাদ। নাইফা ট্রেডিংয়ের স্বত্ত্বাধিকারী সাবেক ডেসটিনি-২০০০ এর পরিচালক তোয়াফ সিদ্দিকী। ইউনাইটেড কোম্পানি ও মের্সাস মোহাম্মাদিয়া অটোমেশনের স্বত্ত্বাধিকারী জালাল উদ্দিন। মের্সাস ন্যাশনাল রেডিওটারের স্বত্ত্বাধিকারী মো. এনাম।
গত ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ ও ২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত বন্দরের আওতাধীন বন্দরের মেরিন ওয়ার্কশপ ঘোষিত একচেটিয়া সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দরপত্রগুলো দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় মেরিন ওয়ার্কশপ থেকে দেওয়া এই দরপত্রগুলোকে প্রকৃত মূল্যের পরিবর্তে বেশি মূল্য ধরা হয়। ২০২০ সালে তিন টেন্ডারে তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকার রং ক্রয় করা হয় প্রায় ২ কোটি টাকায়।
এসব বিষয়ে জানতে বন্দরের ডিসি ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা তিনি দুদকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ উপ-পরিচালক লুৎফুল কবির চন্দন অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এটা অনেকদিন হয়েছে, এনফোর্সমেন্ট টিম তদন্ত করেছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তা বর্তমানে আমেরিকায় আছে তবে এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ঢাকায় এনফোর্সমেন্ট শাখায় আছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্তের বিষয়টি স্বীকার করে বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, তদন্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তে কী পেয়েছে তা আমরা জানি না। দোষী বা নির্দোষ কোনোটাই জানানো হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কোনো চিঠিই পাইনি। তবে দুদকের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আমিনুল ইসলাম এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সন্দীপন চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বন্দর পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্যকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এমএসএম / জামান
চট্টগ্রাম ডিসি পার্কে মাসব্যাপী ফুল উৎসবের উদ্বোধন
লাকসামের অলি-গলিতে শীতের পিঠা বিক্রেতাদের মহা-ধুমধাম
শেরপুরে পিআইবির উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
মনপুরায় আইনের জালে প্রভাবশালী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি গ্রেপ্তার, আ.লীগ নেতা আটক
শালিখায় ঝুকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন-জেলা প্রশাসক
গজারিয়া সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক ৪
সিংগাইরে জমি বিক্রির পরও দখল বুঝিয়ে না দেয়ার অভিযোগ
চন্দনাইশে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
দাউদকান্দিতে চলন্ত বাসে ভয়াবহ আগুন: নিহত ৪, দগ্ধ অন্তত ৩৫
নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসহ ৬জন গ্রেফতার
গাইবান্ধায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা: কথা বলার ডিভাইসসহ পরীক্ষার্থী আটক
বাউফলে ট্রাকের চাপায় অটোরিকশা চালক নিহত, আহত ২