দুর্নীতির অভয়াশ্রম শিবচর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস
অনিয়ম যেন নিয়মের অংশ হয়ে উঠেছে, মাদারীপুরের শিবচর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। সাব-রেজিস্ট্রার অফিস তো নয়, মনে হয় অনিয়োমের অভয়াশ্রম। একই কক্ষে মাত্র কয়েক ফুট দূর, সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে বসেই সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অবাদে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে অফিস সহকারী। দেখেও যেন দেখছে না সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব। মাদারীপুরের শিবচর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার এমনই অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, শিবচর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সহকারী (কেরানি) আশরাফ আলী অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো একটি দলিল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করেন না। সেই সাথে ক্রেতা-বিক্রিতার টিপ গ্রহণ করা বাবদ রয়েছে তার বাড়তি চাহিদা। সাব-কবলা, হেবার ঘোষণা, হেবাবিল এওয়াজ, এই তিন শ্রেণির দলিলের ওপর রয়েছে তার বিশেষ চাহিদা। এসব দলিলের উল্লিখিত টাকার অংকের উপর, প্রতি লাখে পাঁচশত টাকা অফিস খরচ অর্থাৎ (০.৫ পারসেন্ট) কমিশন বাবদ আদায় করেন, যা ওপেন সিকরেট বলেই সবাই জানে।
অন্যদিকে বায়না, মর্টগেজ, আমমোক্তারনামনা, এ শ্রেণির দলিলের ক্ষেত্রে ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান বলে কোনো কথা নেই অতিরিক্তি টাকা ছাড়া কোনো দলিলেই রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করেন না তিনি। জমি ক্রেতা-বিক্রেতার ন্যাশনাল আইডি কার্ডসহ কোনো একটি কাগজের মূল কপি সংঙ্গে না থাকলে দলিল সম্পাদন বন্ধ করে চরম ভোগান্তিতে ফেলে চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন।
গত মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) ইউনাইটেড কমার্শিয়াল (ইউসিবিএল) ব্যাংক শিবচর শাখা কর্তৃক পুনঃ সমর্পনপত্র (মর্গেজ) দলিল সম্পদনের জন্য গেলে রেজিস্ট্রারি এবং এন, ফি ১২শ টাকার পরিবর্তে প্রকাশ্যে চার হাজার টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে মর্গেজ দাতার সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। কোন প্রকারেই চার হাজার টাকার কমে দলিল সম্পাদন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
এ বিষয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল (ইউসিবিএল) ব্যাংক শিবচর শাখার কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, আমাদের একজন সিসি লোনের গ্রাহক তিনি ইতোমধ্যে ব্যাংকের লোনের সমস্ত টাকা পরিশোধ করেছে। তার পুনঃসমর্পণপত্র দলিল (মর্টগেজ) সম্পাদনের জন্য গেলে শিবচর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী অতিরিক্ত চার হাজার টাকা দাবি করেন। এতে মর্টগেজদাতার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ১২শ টাকার বিনিময়েই দলিল সম্পাদন করেন।
অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে শিবচর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সহকারী (কেরানি) আশরাফ আলী মুঠোফোনে বলেন, আমাদের অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই, যারা বলেছে তারা সত্য বলেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক বলেন, বিক্রিত জমির মূল্য অনুযায়ী প্রতি লাখে ৫০০ টাকা করে অফিস খরচ দিতে হয়। এটা ওপেন সিকরেট। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়মেই চলে আসছে। আর দলিল লেখকদের লাইসেন্স নবায়ন করার বিষয়টিও রেজিস্ট্রারদের অধীনে, তাই ইচ্ছা না থাকলেও অফিসের চাহিদা পূরণ করতে হয়।
মাদবরচর এলাকার খাদিজা বেগম বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে আমার আপন চাচার জমি আমার বাবাকে দিছে। সেই জমির হেবা দলিল করতে এসে আমাগো ২৫ হাজার টাকা লাগছে। মহুরি কইছে আমারে টাকা দেন বা না দেন। কিন্তু অফিস খরচ দিয়া যান। পরে ২৫ হাজার টাকা নিছে।
এ বিষয়ে ৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার মাদারীপুরের জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুছ বলেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, অনিয়ম প্রতিরোধে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। কোনো অফিসের অনিয়ম আমারা প্রশ্রয় দেব না। আমি জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলব। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএসএম / জামান
ভূরুঙ্গামারীতে বিদেশে পাঠিয়ে উপকার করার পর হুমকি ও মারধরের অভিযোগ
নালিতাবাড়ীতে স্বপ্নময় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ
গলাচিপায় গণভোট জনসচেতনতায় ওপেন এয়ার কনসার্ট
সরিষাবাড়িতে আইন-শৃংখলা ও মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
কোটালীপাড়ায় গণভোট সচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অবহিতকরণ সভা
ঠাকুরগাঁওয়ে তিন লাখ টাকার ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনী যথা যথ ভূমিকা পালন করবে: নৌবাহিনী প্রধান এম নাজমুল হাসান
মাদারীপুর জেলা শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা
নোয়াখালীতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
সংস্কার ইস্যুতে গণভোট নিয়ে অজ্ঞতা: মনপুরায় নেই তেমন প্রচার-সচেতনতা
জয়পুরহাটে ০১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা
ঘোড়াঘাটে জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা,গুলিবর্ষণ;গ্রেপ্তার-৫